
আসসালামু আলাইকুম। এমন সালাম দিতেই আপনার চারপাশে ঘুরছে একটি বিশেষ চক্র। উত্তর দিলেই দাঁড় করাবে আপনাকে। তারপর অস্ত্র দেখাবে। ছিনিয়ে নেবে টাকা।
পয়লা অক্টোবর এমন একটি ঘটনা ঘটে রাজধানীর বনশ্রী এলাকায়। এটিএম বুথ থেকে ৪ লাখ টাকা তুলে ফিরছিলেন রুহুল আমিন। কিছুদূর যেতেই সালাম জানায় এক ব্যক্তি। এরপরই নিঃস্ব তিনি।
ভুক্তভোগীর সন্তান জানান, একজন সালাম দিয়ে আমার বাবাকে বলেছে, ‘কাকা, আপনি আমাকে চিনছেন?’ আমার বাবা তখন বলেছেন, ‘না, আমি তো আপনাকে চিনি না।’ এরপর সে বলেছে, ‘আপনি দুই মিনিট দাঁড়ান, চিনবেন।’ এমন সময় আরও তিন-চারজন এসে পুরো রিকশাটি ঘেরাও করে ফেলে। ঘেরাও করার পর তারা বলেছে, ‘কাকা, আপনার কাছে যদি জানের মায়া থাকে, তাহলে আপনি টাকাগুলো দিয়ে দেন। আর যদি না থাকে, তাহলে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ পরে আমার বাবা ভয়ে তার কাছে থাকা টাকা দিয়ে দেন। তারা তার পকেট থেকে টাকাগুলো নিয়ে গেছে।
রামপুরা থানায় মামলার পর একটি অটোরিকশাকে টার্গেট করে পুলিশ। এর পেছনে লেখা ইংরেজি অক্ষর `A’। এর নিচের মোবাইল ফোন নম্বরের কয়েকটি ডিজিট অস্পষ্ট।
এতেই যেন আলোর দেখা পায় পুলিশ। সেই অস্পষ্ট নম্বর ধরেই শুরু হয় তদন্ত। প্রায় ৪০টি নম্বর যাচাইয়ের পর এমন একজনের খোঁজ মেলে, যার নামের প্রথম অক্ষরও ‘এ’।
সেই অটো মালিকের তথ্যেই হাতিরঝিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় হাসান নামে এক ব্যক্তিকে। এরপর একে একে আটক করা হয় পিন্টু, বোরহান ও শাহীনকে। তারা সবাই সালাম পার্টির সদস্য।
এ বিষয়ে আসামিরা জানান, সালাম দেয়—লুজিয়া, পিন্টু, লুজিয়া এবং সজল। সালাম দেওয়ার পর তারা এভাবে করার পর আমরা দাঁড়াই। তারা আমাকে কাছে আসে। আমি গাড়িতে ছিলাম এবং পিছনে ছিলাম।
পরে সামনে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। চক্রটির সদস্য ৭ জন। প্রধানের নাম পিন্টু মিয়া। নানা এলাকায় সালাম দিয়ে অর্থ ছিনিয়ে নেওয়াই তাদের কাজ। সবার নামেই রয়েছে ৬ থেকে ১৩টি করে মামলা।
তবে রামপুরা থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এরা অতীতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, বিশেষ করে ২০২২ থেকে ২৩ সালে। এরা প্রথমে সালাম বিনিময় করে। প্রথমত, তারা একটি গ্রুপে থাকে। গ্রুপের সদস্যরা কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে টার্গেট ব্যক্তিকে অনুসরণ করে, আর তাদের মধ্যে একজন ওই ব্যক্তির সঙ্গে সালাম বিনিময় করে। সালাম বিনিময় করতে গিয়ে সে যাকে সালাম দেয়, সেই টার্গেট ব্যক্তির কাছাকাছি চলে আসে। অনেক সময় সালাম দেওয়ার পর হ্যান্ডশেকও করতে চায়। এর মধ্যেই গ্রুপের অন্য সদস্যরা এসে ওই ব্যক্তিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এরপর অস্ত্র দেখিয়ে তারা মানুষের কাছ থেকে টাকা ছিনতাই করে।
এখন চক্রটির অন্য সদস্যদের ধরতে অভিযানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
source: star news
























