
এ যেন বলিউড বা হলিউডের প্রিজন ব্রেক বা দুর্ধর্ষ আসামির পালিয়ে যাওয়ার কাহিনী। কিন্তু এটা গল্প নয় পুরোটাই বাস্তব।২৭ সেপ্টেম্বর রোববার বিকাল ৫টা বেজে ৫৮ মিনিট। নিম্ন আদালতের রাস্তা পার হয়ে বংশালের প্রধান সড়কে ঢোকে একটি বড় প্রিজনভ্যান। ২৯ আসামি যেটা যাচ্ছিল গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে।
ব্যস্ততম বংশাল রোডের পপুলার ডায়াগনস্টিকের সামনে আসতেই যানজটে পড়ে প্রিজনভ্যানটি। সেই সুযোগ নেয় প্রিজনভ্যানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসআই প্রবীর। নিজ হাতে গাড়ির গেট খোলেন তিনি।নিজে মাস্ক পরে, গাড়ি থেকে নামান দুর্ধর্ষ আসামী, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী পিচ্চি রাজাকে। তার সাথে নামেন আরও একজন তিনি ক্যাম্ব্রিয়ান স্কুল ও কলেজের মালিক খায়রুল বাসার।
গাড়ি থেকে নেমেই সবার আগে আগে হাঁটতে থাকেন পিচ্চি রাজা, তার পেছনে এসআই প্রবীর কুমার। আর পেছনে থাকা খায়রুল বাসার তাদের সঙ্গে না গিয়ে উঠে পড়ের গাড়ির একদম সামনে ড্রাইভার সিটের পাশে। জানা যায়, আসামিদের সঙ্গে গাদাগাদি করে না গিয়ে ড্রাইভারের পাশের সিটে এসির মধ্যে আরামে যেতে তাকে সুযোগ করে দেন এসআই এবং তার সাথে থাকা পুলিশের টিম।
প্রিজনভ্যান থেকে নেমে পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর প্রায় মিনিট দুয়েক বংশালের মোড়ের দিকে হাঁটতে থাকেন। এরপরেই সেখানে প্রাইভেটকার নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা। নিজে গিয়ে হাজতি পিচ্চি রাজাকে সেই প্রাইভেটকারে তুলে দেন এসআই প্রবীর।
জিএমপি কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার, আমরা চেষ্টা করছি যে কারণে এ রকম একটা দুর্ধর্ষ আসামিকে ছেড়ে দেয়া হলো, সেটা আরও গভীরভাবে তদন্ত করা।
তদন্ত সূত্র বলছে, এ ঘটনায় এসআই প্রবীর কুমার ও তার টিম ভয়ঙ্কর আরও দুটি অপরাধ করেছেন। তা হলো, প্রকাশ্যে রাস্তা এভাবে প্রিজনভ্যানের দরজা খুলে রাখা, এতে ভেতরে থাকা বাকি আসামিরা পুলিশকে ধাক্কা দিয়েই পালিয়ে যেতে পারত। আবার হাতকড়া ছাড়াই আরেক আসামি ক্যামব্রিয়ানের খায়রুল বাসারকে কিছুক্ষণের জন্য একা ছেড়ে দেয়া। খায়রুলও যদি পালিয়ে যেত সেখানেও কিছু করার থাকত না পুলিশের।



























