আরাফার দিনের রোজা কবে?

জিলহজ মাসের প্রথম দশক অনেক ফজিলতপূর্ণ। এই দিনগুলোর নেক আমল আল্লাহর নিকট অনেক পছন্দনীয়। বিশেষত জিলহজের ৯ তারিখ যাকে ইয়াওমে আরাফা বলা হয়- এই দিনটি বছরের শ্রেষ্ঠ দিবস।

বছরের শ্রেষ্ঠ রাত যেমন লাইলাতুল কদর, তেমনি শ্রেষ্ঠ দিবস হচ্ছে আরাফাহ দিবস। এই দিনে নফল রোজা রাখা অত্যধিক ফজিলতপূর্ণ। হজরত রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, আরাফার দিনের একটি রোজার বদৌলতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আগের-পরের দুই বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।

আরাফার দিন কবে?

যেহেতু ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান চন্দ্র মাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সুতরাং জিলহজ মাসের ৯ তারিখকেই আরাফার দিবস হিসেবে পালন করতে হবে। সে হিসেবে চলতি বছর আমাদের বাংলাদেশের আকাশের চাঁদ হিসেবে আরাফার দিবস হবে জিলহজের ৯ তারিখ শুক্রবার দিন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সেহরি খাবে।

আরাফার ময়দানে যখন হাজি সাহেবান উকুফ করে থাকেন সেই সময়ের সঙ্গে মিল রেখে সারা পৃথিবীতে রোজা রাখা এমনিতেও সম্ভব নয়। কেননা সময়ের তারতম্য একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়। হাাজিরা যখন উকুফ করেন, অনেক দেশে তখন রাত থাকে। তাদের পক্ষে সময়ের মিল করে রোজা রাখা তো অসম্ভব! তাছাড়া আমরা যারা সৌদি আরব থেকে পূর্ব দিকে, তাদের চাঁদের হিসাব সাধারণত একদিন দুদিন পেছনে থাকে। কিন্তু যে দেশগুলো আরো পশ্চিমে, সেখানে চাঁদের হিসাব একদিন দুদিন আগেই থাকে। সেই হিসেবে সৌদি আরবের আরাফা দিবস আমাদের দেশে একদিন আগে জিলহজের ৮ তারিখ হলেও পশ্চিমা দুনিয়ায় সেটি একদিন পরের তারিখ তথা জিলহজের ১০ তারিখ হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে সেই দেশের মানুষেরা নিজেদের আকাশের চাঁদ হিসেবে ১০ তারিখ ঈদ উদযাপন করবেন, নাকি আরাফার ময়দানের হাজি সাহেবদের সঙ্গে সমন্বয় করে রোজা রাখবেন? যদি সেখানে তারা রোজা পালন করেন তাহলে নিজের দেশের আকাশের চাঁদ হিসেবে ঈদের দিনে তাদের রোজা পালন করা হবে।

আরো পড়তে পারেন:  লকডাউনের পর মেনে চলবেন যেসব সতর্কতা

সুতরাং বলা যায় সৌদি আরবের আরাফার দিবস হিসেবে সারা দুনিয়ার মানুষ আরাফার রোজা রাখবে- এই মতটি শক্তিশালী নয়। বরং শরীয়তের অন্যান্য বিধি-বিধানের ন্যায় আরাফা দিবসের ক্ষেত্রেও নিজ নিজ এলাকার আকাশের চাঁদের হিসেবে জিলহজের ৯ তারিখ আরাফা দিবসের রোজা রাখবে। সেই হিসেবে আমাদের বাংলাদেশের মুসলমানরা চলতি বছর জিলহজের ৯ তারিখ শুক্রবার দিন আরাফার দিনের রোজা পালন করবেন।

আরাফার দিনের ফজিলতসমূহ:

১. এদিনে আল্লাহপাক ইসলামের পূর্ণতার ঘোষণা দান করেন। সেই ঘোষণাসম্বলিত সূরা মায়েদার ৩ নম্বর আয়াতটি নাজিল হয় আরাফার ময়দানে।

২. এদিনের সম্মানার্থে আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে সূরা বুরূজের ৩ নম্বর আয়াতে এই দিনের শপথ করেছেন।

৩. এই দিন সর্বশ্রেষ্ঠ দিন। এই দিনটি ক্ষমা, দয়া ও হাজিদেরকে নিয়ে আল্লাহর গর্ব করার দিন বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

. এই দিন ব্যাপকভাবে আল্লাহর বান্দারা ক্ষমাপ্রাপ্ত হওয়ায় শয়তান রাগে ক্ষুব্ধ হওয়ার দিন।

৫. দোয়া কবুল হওয়ার দিন এটি।

৬. একদিনের রোজায় দুইবছরের ক্ষমাপ্রাপ্তির দিন এটি।

 

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

Loading...
আরো পড়তে পারেন:  ২০ অক্টোবর: ইতিহাসে আজকের এই দিনে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *