
ছবির উৎস, BBC/SHIMUL
অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে রোববার সকালে বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা
ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন পুরুষ শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত শিক্ষকের বরখাস্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রোববার সকালে বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভও করেছেন তারা।
ঘটনাটি ঘটেছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজিমপুর শাখায়।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, অভিযুক্ত ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরেই কোচিংয়ে পড়ানোর নামে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করে আসছেন।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক অবশ্য যৌন নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
তিনি বিবিসি বাংলার কাছে দাবি করেছেন যে সুনাম নষ্ট করার লক্ষ্যে তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্য দিকে, যৌন নির্যাতনের ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই একটি কমিটি গঠন করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা খুঁজে পাওয়া গেছে বলেও তারা বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।
এরপর ওই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত না করে আজিমপুর শাখা থেকে প্রত্যাহার করে ঢাকার বেইলি রোডের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
তবে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় এখনও কোনও মামলা করা হয়নি।
এদিকে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যৌন নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো নারীদের জন্য ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

ছবির উৎস, BBC/SHIMUL
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের অবস্থান
কী ঘটেছে? যা বলছেন অভিযোগকারীরা
ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অন্তত: তিনজন ছাত্রী বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তারা সবাই বিদ্যালয়টির মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী।
ঘটনা জানতে অভিযোগকারী তিনজন ছাত্রীর একজনের অভিভাবকের সাথে কথা বলেছে বিবিসি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই অভিভাবক বিবিসি বাংলাকে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ের পাশেই একটি ভবনে শিক্ষার্থীদের কোচিং করান।
মাস কয়েক আগে সেখানে মেয়ে ভর্তি করান তিনি।
এরপর কোচিংয়ের আগে-পরে বিভিন্ন সময়ে তার মেয়েকে যৌন হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই অভিভাবক।
“মা মা করে বিভিন্ন অজুহাতে উনি ছাত্রীদের শরীর স্পর্শ করেন, তারপর বিষয়টিকে অন্যভাবে না নেওয়ার কথা বলেন” বিবিসি বাংলাকে জানান তিনি।
কোচিংয়ে ভর্তি হওয়ার মাসখানেক পর থেকেই ঘটনাটি ঘটে আসছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।
“বয়স কম হওয়ায় শুরুতে আমার মেয়েটা বিষয়টি বুঝতে পারেনি। কিন্তু একই ঘটনা কয়েক দিন ঘটার পর সে আমাকে জানায়”, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই অভিভাবক বলেন।
তারপর বিষয়টি নিয়ে কোচিংয়ের অন্য অভিভাবকদের সাথে কথা বলেন তিনি।
“তারাও তাদের মেয়েদের সাথে কথা বলে একই ঘটনা জানতে পারেন”, বিবিসি বাংলাকে বলেন ওই অভিভাবক।
এরপর গত সাতই ফেব্রুয়ারি তিনজন ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা মিলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেন।
“একজন শিক্ষক কীভাবে এমন কাজ করতে পারেন? আমরা এর বিচার চাই”, বিবিসি বাংলাকে বলেন ওই অভিযোগকারী ছাত্রীর অভিভাবক।

ছবির উৎস, BBC/SHIMUL
অভিভাবকদের অনেকেই বিক্ষোভে যোগ দেন
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা
বিষয়টি জানার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
রোববার সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে তারা বিক্ষোভও করেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছে তারা।
“উনি শিক্ষক নামের কলঙ্ক। আমরা উনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই” বিবিসি বাংলাকে বলেন আন্দোলনরত এক ছাত্রী।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিদ্যালয়টির প্রাক্তন ছাত্রীদের মধ্যে থেকেও অনেকে একই অভিযোগ তুলেছেন বলেও দাবি করেছেন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী।
“তারা এখন আমাদের আন্দোলনে সমর্থন দিচ্ছেন। এ ঘটনার বিচার করতেই হবে”, বিবিসি বাংলাকে বলেন আন্দোলনরত আরেক ছাত্রী।
এদিকে, শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠায় অভিভাবকদের অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তাদের অনেকেই রোববারের বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিয়ে আন্দোলনকারীদের সাথে সংহতি জানান। এমনই একজন অভিভাবক ইশতাক জাহান পপি।
“লেখাপড়া শেখানোর জন্য এত টাকা-পয়সা খরচ করে যাদের কাছে আমরা বাচ্চাদের পাঠাচ্ছি, তারাই যদি এমন কাজ করে তাহলে আমরা কোথায় যাব?” প্রশ্ন রাখেন তিনি।
“আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যেন এরকম ঘটনা ভবিষ্যতে আর না ঘটে”, বিবিসি বাংলাকে বলেন ইশতাক জাহান পপি।

ছবির উৎস, BBC/SHIMUL
অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তিনজন ছাত্রী লিখিত অভিযোগ করেছেন
অন্য দিকে, অভিযোগ জানানোর দুই সপ্তাহ পরও কঠোর কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় অভিভাবকদের কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
ইফতেখার মমিন নামের এক অভিভাবক বিবিসি বাংলাকে বলেন, “একাধিক ছাত্রী একই অভিযোগ করেছে। তারপরও কর্তৃপক্ষ কোন বিবেচনায় উনার চাকরি বহাল রাখে?”
তদন্তের নামে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সময়ক্ষেপণ করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ ব্যাপারে এখনও কোনও মামলা করা হয়নি। তবে সন্তোষজনক বিচার না পেলে অভিভাবকরা মামলার পথেই হাঁটবেন বলে জানিয়েছেন মি. মমিন।
“স্কুল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আমরা মামলা করিনি। কিন্তু উপযুক্ত ব্যবস্থা যদি না নেওয়া হয়, তখন আমরা প্রয়োজনে মামলা করে বিচার চাইব”, বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।
এছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষককের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

ছবির উৎস, BBC/SHIMUL
অভিযুক্ত শিক্ষককের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা
কী বলছেন অভিযুক্ত শিক্ষক?
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের যে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীরা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন, তার সাথে কথা বলেছে বিবিসি।
অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে ‘পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর’ চেষ্টা করা হচ্ছে।
“একদল লোক মিথ্যে এবং বানোয়াট সব অভিযোগ তুলে আমাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আমার এত দিনের সুনাম নষ্ট করতে ষড়যন্ত্র করছে”, বিবিসি বাংলাকে বলেন অভিযুক্ত ওই শিক্ষক।
এই ‘একদল লোক’ কারা জানতে চাইলে তিনি নিজ বিদ্যালয়েরই কয়েকজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
“গত দশ বছরে আমি অনেক সুনাম কামিয়েছি, আমি গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছি, যা তারা মেনে নিতে পারেনি।”
“এখন প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তারা পেছন থেকে আন্দোলনের কলকাঠি নাড়ছে”, অভিযোগ করেন তিনি।
কিন্তু অন্য শিক্ষকের কথায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কেন তার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে যাবেন?
“সবাই তো আন্দোলন করছে না। যাদেরকে আমি পড়াতে রাজি হইনি, বা নিলেও পরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে বের করে দিয়েছি, তারাই এই দলে যোগ দিয়েছে”, দাবি ওই অভিযুক্ত শিক্ষকের।

ছবির উৎস, BBC/SHIMUL
শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠায় অভিভাবকদের অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন
কর্তৃপক্ষ যা বলছে
গত সাতই ফেব্রুয়ারি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ।
অভিযুক্ত শিক্ষক নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও প্রাথমিক তদন্তে ওই কমিটি যৌন হয়রানির ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী।
“অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে আমরা দেড় শতাধিক ছাত্রীর সাথে কথা বলেছি এবং প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি”, বিবিসি বাংলাকে বলেন মিজ রায় চৌধুরী।
অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষককে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ঢাকার আজিমপুর শাখা থেকে প্রত্যাহার করে বেইলি রোডে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
কিন্তু অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও বরখাস্ত না করে কেন ওই শিক্ষককে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হলো?
“তদন্তে আমরা যা পেয়েছি, সেটি ম্যানেজিং কমিটির কাছে তুলে ধরা ধরব। তারপর কমিটি এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবে”, বিবিসি বাংলাকে বলেন কেকা রায় চৌধুরী।
আগামী সোমবার সন্ধ্যার পর তদন্ত কমিটির রিপোর্ট বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের কাছে তুলে ধরা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিভাবকদের পক্ষ থেকে তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণের যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি অস্বীকার করেছেন মিজ রায় চৌধুরী।
“দেড় শতাধিক ছাত্রীর সাথে আমরা কথা বলেছি। এটি করতেই তো দু’সপ্তাহ চলে গেল”, বিবিসি বাংলাকে বলেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

ছবির উৎস, BBC/SHIMUL
অভিযুক্ত শিক্ষককে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজিমপুর শাখা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে
একই অভিযোগ কেন?
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পুরুষ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রায়ই এ ধরনের অভিযোগ উঠছে জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
“বার বার কেন তাদের শিক্ষকদের বিরুদ্ধেই এই অভিযোগ উঠছে? উঠছে, কারণ তারা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে না” বিবিসি বাংলার কাছে অভিযোগ করেন এক ছাত্রীর মা।
যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠান প্রধান।
“অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ দেখা যায়। কিন্তু একথা বলতে পারি যে, যৌন নির্যাতনের ঘটনায় আমরা আগেও কখনও ছাড় দিইনি, ভবিষ্যতেও দেব না”, বিবিসি বাংলাকে বলেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী।
উল্লেখ্য যে অতীতেও বিভিন্ন সময় এই প্রতিষ্ঠানের পুরুষ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
এর মধ্যে ২০১১ সালে পরিমল জয়ধর নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ সারা দেশেই আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা পরবর্তীতে মামলা করলে সে বছরই মি. জয়ধরকে গ্রেফতার করা হয়।
এরপর ধর্ষণের দায়ে ২০১৫ সালে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয় আদালত।
কিন্তু তারপরও প্রতিষ্ঠানটির পুরুষ শিক্ষকদের বিরুদ্ধ যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠা বন্ধ হয়নি।
গত বছরও বিদ্যালয়টির অপর একটি শাখার একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পরবর্তীতে বরখাস্ত করা হলেও তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

ছবির উৎস, BBC/SHIMUL
গত এক বছরে সারা দেশে অন্তত: ১৪২জন নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে: আইন ও সালিশ কেন্দ্র
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনিরাপদ?
গত এক বছরে সারা দেশে অন্তত: ১৪২জন নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র।
নির্যাতিতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী শিক্ষার্থী রয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
“স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিটি পর্যায়েই এমন ঘটনা ঘটছে”, বিবিসি বাংলাকে বলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক ফারুখ ফয়সল।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ ঘটনাটি এমন একটি সময়ে সামনে এলো, যার কিছু দিন আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন একাধিক নারী শিক্ষার্থী।
তারও আগে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল।
বিচারহীনতার কারণেই এই ধরনের ঘটনা থামানো যাচ্ছে না বলে মনে করছেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক ফারুখ ফয়সল।
“এসব ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির সমাজের সামনে খুব নেই।”
“ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো যে ক্রমেই নারীদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে, একের পর এক যৌন নির্যাতনের ঘটনাই যেন সেটি জানান দিচ্ছে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন মি. ফয়সাল।
এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন
আরো পড়তে পারেন:
[pt_view id="09811e2xkg"]


