
দুবাইয়ে থাকা অফশোর সম্পদ বিক্রি করে দিচ্ছেন বাংলাদেশীরা।
এজন্য সেখান থেকে প্রপার্টি কেনাবেচার ওয়েবসাইটগুলোয় বিজ্ঞাপনও দেয়া হচ্ছে বলে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) তদন্তে উঠে এসেছে।
সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলকে (সিআইসি) বিষয়টি অবহিত করেছে বিএফআইইউ। এ বিষয়ে এনবিআরকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি।
সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদেশে থাকা অপ্রদর্শিত সম্পদ ঝুঁকিতে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কায় সেগুলো বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে।
আবার অনেকেই আয়কর নথিতে এসব সম্পদ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এনবিআরের সঙ্গে যোগাযোগও করছেন।
দুবাইয়ে বাংলাদেশীদের সম্পদ বিক্রি করে দেয়ার বিষয়টিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিএফআইইউ-প্রধান এএফএম শাহীনুল ইসলাম বলেন, “দেশে-বিদেশে থাকা বাংলাদেশীদের অপ্রদর্শিত সম্পদ অনুসন্ধানে আমাদের একটি জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম কাজ করছে। দেশে থাকা অনেক সম্পদ আমরা এরই মধ্যে তদন্তের আওতায় নিয়ে এসেছি”।

‘শেখ হাসিনার নির্দেশেই নির্বিচারে গুলি’ সমকাল পত্রিকার শিরোনাম। এ সংবাদে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় টিকে থাকতে অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সঙ্গে ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও। নির্দেশনা পেয়ে আন্দোলন ঠেকাতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে উঠেপড়ে লাগে নিরাপত্তা বাহিনীগুলো।
জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান দলের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
পাশাপাশি জুলাই-অগাস্টে বাংলাদেশে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণও পেয়েছে দলটি।
বিচার বহির্ভূত হত্যা, নির্বিচারে মারণাস্ত্র দিয়ে গুলি চালানো, গ্রেপ্তার, আটক, নির্যাতন, চিকিৎসা পেতে বাধা দেয়ার মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করে আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের বাহিনীগুলো।
এসব কারণে আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনকে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলছে জাতিসংঘ।
প্রতিবেদনে র্যাব ও এনটিএমসিকে বিলুপ্ত করার সুপারিশ দেয়া হয়েছে।
সেই সঙ্গে বাংলাদেশে কোন রাজনৈতিক দলকে নিষেধাজ্ঞা দেয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে দুর্নীতি পরিস্থিতির আরও দুই ধাপ অবনতি হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্নীতির ধারণা সূচকের ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী (ভালো থেকে খারাপ) বিশ্বের ১৮০টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এবার ১৫১ নম্বরে।
গতবার এই তালিকায় বাংলাদেশ ১৪৯ নম্বরে ছিল।
আবার অধঃক্রম অনুযায়ী (খারাপ থেকে ভালো) বিবেচনা করলে বাংলাদেশ অবস্থান এবার ১৮০ দেশের মধ্যে চতুর্দশ, যেখানে গত বছর ছিল দশম অবস্থানে।
অন্য দেশগুলো আরও খারাপ করায় এই সূচকে চার ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ।
২০২৪ সালের দুর্নীতির পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বার্লিনভিত্তিক সংস্থা টিআই গতকাল মঙ্গলবার তাদের এই বার্ষিক সূচক প্রকাশ করে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতবারের মতোই এই সূচকে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের চেয়ে বাজে অবস্থায় আছে কেবল মিয়ানমার ও আফগানিস্তান।

এ সংবাদে নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা তুলে ধরা হয়েছে।
আগামী ডিসেম্বরে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ধরেই প্রস্তুতি নেয়ার কথা উন্নয়ন সহযোগীদের জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও উন্নয়ন সহযোগী ১৭টি দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ইসির বৈঠক হয়।
প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা ডিসেম্বরকে ধরে নিয়েই আমাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। আমাদের ভিন্ন প্রস্তুতি নেই, একটিই প্রস্তুতি (জাতীয় নির্বাচন)।
নির্বাচন প্রশ্নে আশ্বস্ত হলেও সরকারকে চাপে রাখবে বিএনপি।
দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচন আদায় করতে সরকারকে চাপে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
জুলাই-অগাস্ট গণ অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচন বিষয়ে শুরু থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জোরালো অবস্থান সংস্কারের পক্ষে।
তবে অন্তর্বর্তী সরকার যদি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেয় তাহলে দলটির নির্বাচনে অংশ নিতে আপত্তি নেই। এ লক্ষ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে দলটি।
আগামী ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচন হলে তাতে আপত্তি নেই ইসলামী আন্দোলনের।

এ সংবাদে বলা হয়েছে, আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এই নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা।
জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে স্থানীয় কিছু নির্বাচনের লক্ষ্যে মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনাও করেছে ইসি।
এতে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন মিলিয়ে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমদের সভাপতিত্বে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত সভায় ভোটের সম্ভাব্য ব্যয় সংক্রান্ত এ সিদ্ধান্ত হয়।
দেশের অর্থনীতির যে অবস্থা, তাতে নির্বাচনের জন্য এমন ব্যয় যৌক্তিক কি না, জানতে চাইলে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “এই মুহূর্তে সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশন নিশ্চয়ই অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে এই প্রস্তাবনা তৈরি করছে। তারাই বিশাল খরচের যৌক্তিকতা তুলে ধরবে”।

এতে বলা হয়েছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সরকার ও সেই সময়ের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান দল।
স্বৈরাচারী সরকার নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং দল সহযোগী সংগঠনগুলোকে যুক্ত করে মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ করেছে।
বিচার বহির্ভূত হত্যা, নির্বিচারে মারণাস্ত্র দিয়ে গুলি চালানো, গ্রেপ্তার, আটক, নির্যাতন, চিকিৎসা পেতে বাধা দেয়ার মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে সরকার।
মূলত ক্ষমতায় টিকে থাকতে আন্দোলনকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের পহেলা জুলাই থেকে ১৫ অগাস্ট সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

সংবাদটিতে বলা হয়েছে, জুলাই হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নামে দায়ের হওয়া তিন থেকে চারটি মামলার বিচারের রায় আগামী অক্টোবরের মধ্যে হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
এসব মামলায় শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ নেতা ছাড়াও সাবেক কিছু পুলিশ কর্মকর্তা ও আমলার নামও রয়েছে বলে জানান তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত তিন শ’র বেশি অভিযোগ দায়ের করা করা হয়েছে। প্রসিকিউশন টিম যাচাই-বাছাই করে ১৬টি মামলা দায়ের করেছে আনুষ্ঠানিকভাবে। এই ১৬টি মামলার মধ্যে চারটি মামলার তদন্ত কাজ এই মাসের মধ্যেই শেষ হবে বলে আমরা আশা করি”।
তিনি আরো বলেন, “আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরুর পর আইন অনুযায়ী তিন সপ্তাহ সময় এটা ডিফেন্স টিমকে দিতে হয়। ঈদের পর এপ্রিল মাস থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে”।
অধ্যাপক নজরুল বলেন, “মামলার রায় পরবর্তী চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে প্রদান করা যাবে বলে আমরা আশা করি। অর্থাৎ এই হিসাবে অক্টোবরের মধ্যে আমরা তিন-চারটা মামলার রায় পেতে যাচ্ছি বলে আমরা আশা করি”।

‘Most of TK 53,000 cr misused by AL govt’ নিউ এইজ পত্রিকার এ শিরোনামের অর্থ ৫৩ হাজার কোটি টাকার বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ সরকার অপব্যবহার করেছে।
এ সংবাদে বলা হয়েছে, গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার সরকার নীতিমালা লঙ্ঘনের মাধ্যমে ৫৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ জ্বালানি তহবিলের বেশিরভাগই অপব্যবহার করেছে।
প্রতি মাসে গ্যাস এবং বিদ্যুৎ বিক্রয় থেকে আলাদা করে রাখা অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল, গ্যাস উন্নয়ন তহবিল এবং জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিলগুলো তৈরি করা হয়েছিল।
তহবিল তৈরির মূল লক্ষ্য ছিল সর্বনিম্ন খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন, প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন এবং জ্বালানি দক্ষতায় বিনিয়োগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ব্যয় হ্রাস করা।
গত বছরের জুন পর্যন্ত লেনদেনের বিভিন্ন পর্যায়ে আটকে থাকা অর্থ এবং কর হিসেবে কাটা অর্থ ছাড়া, তিনটি তহবিলের মোট আকার ছিল ৪৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই পরিমাণের ৯৭ শতাংশই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ব্যবহার করেছে এবং এর প্রায় তিন-চতুর্থাংশই তহবিলের ব্যবহারের নীতি ও নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে ব্যয় করা হয়েছে।

‘EC targets Dec to get all its tasks done’ দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার শিরোনামের অর্থ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ডিসেম্বরের মধ্যে সব কাজ শেষ করার লক্ষ্য ইসির।
সংবাদে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্বাচন কখন অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে কোনও ধরা- বাঁধা সঠিক সিদ্ধান্ত না থাকলেও নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এর আগে বলেছিলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি সংস্কারে সম্মত হয় তবে তার উপর নির্ভর করে নির্বাচন এই বছরের শেষের দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ পুরোদমে চলছে এবং নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য আইন সংশোধন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন এবং আন্তর্জাতিক ও দেশীয় পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিকদের জন্য নির্বাচনের সময় নিয়ম নির্ধারণের কাজগুলো সময়মতো শেষ হবে।
সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগে কী সংস্কার করতে হবে তা নিয়ে আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত নেয়ার পরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা।
গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল সানাউল্লাহ বলেছেন, “আমরা ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ধরে নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের কোনও বিকল্প পরিকল্পনা নেই।”

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন
আরো পড়তে পারেন:
[pt_view id="09811e2xkg"]


