ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন: কুয়েত কেন অভিবাসীর সংখ্যা কমাতে চায়?

বিশ্বে অভিবাসী শ্রমিকনির্ভর দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম কুয়েত। ৪৮ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে ৩৪ লাখই হচ্ছেন অভিবাসী। কুয়েতের তেলনির্ভর অর্থনীতির গতিশীলতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন অভিবাসী শ্রমিকরা। তবে হঠাৎই তাদের জন্য এসেছে দুঃসংবাদ। অভিবাসীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

গত বুধবার কুয়েতের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলোর সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ বলেছেন, দেশে ভারসাম্য আনার প্রক্রিয়া শুরু করছেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে অভিবাসী ইস্যু অনেক পুরনো বিষয়। কুয়েতের আইনপ্রণেতারা সম্প্রতি অভিবাসী শ্রমিক কমানোর জন্য সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন। কোটা ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে কর্মরত অভিবাসীদের কুয়েতিদের দিয়ে প্রতিস্থাপনেরও দাবি তুলেছেন তারা। এমনটি হলে চাকরি হারাবেন অন্তত এক লাখ অভিবাসী।

Kuwait-4.jpg

তবে সমালোচকদের মত, কুয়েতিদের দিয়ে অভিবাসী সরকারি চাকুরেদের প্রতিস্থাপন কঠিনই হবে। এর ফলে মোট চাহিদাও ব্যাপক হারে কমে যেতে পারে।

জাতিসংঘের হিসাবে, উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি সচল রাখায় বড় ভূমিকা রয়েছে অভিবাসীদের। জার্মানির পাশাপাশি সৌদি আরব হচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অভিবাসী-আবাসস্থল। গত বছর ফ্রান্স-কানাডার চেয়েও বেশি অভিবাসী গিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। কুয়েতে অন্তত সাড়ে ছয় লাখ অভিবাসী শ্রমিক রয়েছেন যারা গৃহস্থালীর কাজে নিযুক্ত। মূলত ফিলিপাইন, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ থেকে গিয়েছেন এসব শ্রমিক।

অর্থনৈতিক সংকট
করোনাভাইরাস মহামারি ও তেলের ভয়াবহ দরপতনে সৃষ্ট সংকট কাটাতে উপসাগরীয় দেশগুলো কোটি কোটি ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজের অনুমোদন দিয়েছে। তবে এর উপকারভোগী মূলত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোই, সরাসরি কর্মীরা নন।

Kuwait-4.jpg

এ অঞ্চলের সবচেয়ে কম প্রণোদনা দেয়া দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম কুয়েত। ন্যাশনাল ব্যাংক অব কুয়েতের ধারণা, চলতি আর্থিক বছরে দেশটির বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সর্বোচ্চ।

আরো পড়তে পারেন:  ঐতিহাসিক মসজিদ নিয়ে তুরস্ক-গ্রিস বিরোধ, এরদোয়ানের হুঁশিয়ারি

উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশই ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থনৈতিক ঘাটতির আশঙ্কা করছে, ফলে বাড়ছে ঋণের বোঝা, সংকুচিত হচ্ছে রিজার্ভের পরিমাণ। এতে অনেকটা বাধ্য হয়েই কঠোর পথে যেতে হচ্ছে তাদের।

ভোটার ইস্যু
কুয়েতে অভিবাসী কমানোর সিদ্ধান্তের কারণ শুধু অর্থনৈতিক সংকটই নয়, রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাবও। চলতি বছরের শেষের দিকেই কুয়েতে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অনেক কুয়েতির কাছেই অভিবাসী-বিরোধিতা বেশ প্রিয়, বিশেষ করে যখন আকর্ষণীয় সরকারি চাকরির প্রসঙ্গ আসে তখন।

Kuwait-4.jpg

দেশটি অনেক আগে থেকেই সরকারি খাতে অভিবাসীদের প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল, করোনা সংকটে এর গতি বৃদ্ধি পেয়েছে শুধু। ২০১৯ সালের শেষে মাত্র ১৯ শতাংশ কুয়েতি কর্মী বেসরকারি চাকরিতে ছিলেন।

এছাড়া, কুয়েতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কেন্দ্রেও রয়েছেন অভিবাসীরা। তাদের জনবহুল বাসস্থানগুলোতে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। করোনা মহামারির কারণে ২৪ ঘণ্টার কারফিউ দিয়েছিল কুয়েত সরকার। গত রোববার এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও বেশ কিছু এলাকা এখনও রয়েছে কড়া সতর্কতায়।

এদিকে, গত বুধবার কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তারা ২২৪টি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিদেশি প্রবেশ ও তাদের চাকরি জোগাড়ে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সূত্র: জাগো নিউজ

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

DSA should be abolished
/ জাতীয়, সব খবর
Loading...
আরো পড়তে পারেন:  বন্ধ্যত্বের প্রমাণ নেই করোনার টিকায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *