১৮ বছর ধরে বিনা বেতনে পাঠদান!

 

আউয়াল হোসেন শাহিন হাওলাদার জন্ম থেকেই তিনি একজন প্রতিবন্ধী। তার একটি পা অচল থাকায় ক্র্যাচে ভর করে চলাচল করতে হয়। ফাজিল পাশের যোগ্যতা অর্জন করে ২০০১ সালে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী বিজিএস দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন তিনি। তার এ অচল পা নিয়েই প্রতিদিন নিজ বাড়ি থেকে ৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নিয়মিত পাঠদান করে আসছেন। বুকভরা স্বপ্ন, একদিন প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হবে। আর এ জন্য তার মতো ওই প্রতিষ্ঠানে আরো ১৭ শিক্ষক কর্মচারী এমপিওভুক্তির আশায় শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ভাল ফলাফল অর্জনের জন্য দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে আসছেন। তাদের এই প্রচেষ্টায় প্রতি বছর সকল শর্ত পূরণ করে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ধরে রাখতে যথাসাধ্য চেষ্টা অব্যাহত ছিল এবং ভাল ফলাফল অর্জন করত ছাত্র-ছাত্রীরা। এ কারণে অনেক শিক্ষক তাদের ভবিষ্যতের এই দুরাশার স্বপ্ন দেখতে গিয়ে আর্থিক দৈন্যদশার কারণে নিজেদের সন্তানদেরও ভালোভাবে পড়াশুনার খরচ চালাতে পারেননি। এমনকি পারেননি তারা ভালোভাবে পরিবারের ভরণ-পোষনের খরচ যোগাতেও। বড়ই আশা ছিল সম্প্রতি ঘোষিত এমপিওভুক্তির তালিকায় তাদের প্রতিষ্ঠানের নামটিও থাকবে। কিন্তু সেই আশা হতাশার সাগরে ডুবে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সকল শিক্ষক, কর্মচারী। কারণ প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পেরুলেও এবারো এমপিওভুক্ত হলো না এই মাদ্রাসাটি। আর এই হতাশার কারণে সম্প্রতি ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়ে মাদ্রাসায় পাঠদান বন্ধের আলোচনাও করা হয়েছে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮০ সালে বিজিএস মাদ্রাসাটি যখন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন শুধু ইবতেদায়ী পর্যন্ত পাঠদান চলত। পরে ২০০২ সালে পে-অফ ঘোষণা করে এবং দাখিল কার্যক্রম শুরু হয়। সেই থেকেই শিক্ষকরা নিজেদের স্বেচ্ছাশ্রমে ও অর্থায়নে মাদ্রাসা পরিচালনা করতে থাকেন। এমপিওভুক্তির আশায় এত দিন নানা চেষ্টা, তদবির করে আসছিলেন শিক্ষকরা। কিন্তু প্রকাশিত সর্বশেষ এমপিও তালিকায় মাদ্রাসাটিকে যুক্ত করা হয়নি। এই প্রতিষ্ঠানটিতে ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। মাদ্রাসায় পাঠদান বন্ধের কথা শুনে অভিভাবকরা পড়েছেন দুঃশ্চিন্তায়।

আরো পড়তে পারেন:  জানুয়ারিতে বিয়ে করছেন দেব-রুক্মিণী!

বিজিএস মহিলা মাদ্রাসার সুপার এইচ এম শাহ-আলম বলেন, ২০০২ সালে পে-অফ ঘোষণার পর থেকে শিক্ষকরা বিনা বেতনে পাঠদান চালিয়ে আসছেন। আমার মাদ্রাসা থেকে ২০১৬ সালে দাখিল পরীক্ষায় ২০ জন অংশগ্রহণ করে ১৯ জন কৃতকার্য হয়, ২০১৭ সালে ২০ জন অংশগ্রহণ করে ৯ জন কৃতকার্য হয়, ২০১৮ সালে ৩০ জন অংশগ্রহণ করে ১৪ জন কৃতকার্য হয়, ২০১৯ সালে ৩০ জন অংশগ্রহণ করে ২১ জন কৃতকার্য হয়। ফলাফলে উপজেলা পর্যায় শীর্ষে স্থান লাভ করলেও মন্ত্রণালয়ের সকল শর্ত পূরণ করা হয়েছে। তবুও এমপিওভুক্ত হয়নি আমাদের প্রতিষ্ঠানটি।

বিজিএস মহিলা দাখিল মাদরাসর সভাপতি আসাদুল কবির তালুকদার স্বপন বলেন, সকল যোগ্যতা থাকা সত্বেও প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তি না হওয়া দুঃখজনক। শিক্ষক ও শিক্ষাথীদের কথা চিন্তা করে এমপিওভুক্তি প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মীর একে এম আবুল খয়ের বলেন, প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক তথ্য চেয়েছে। সেই অনুসারে এমপিওভুক্তি হয়েছে। তবে বিজিএস মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্তি হলে ভালো হতো। আমাদের উপজেলায় ৫টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি।

সূত্র: কালের কন্ঠ

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *