সাইবার হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কতটা ক্ষতি করতে পারবে ইরান?

 

প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরান সাইবার হামলা বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও দুই পক্ষের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা অনেকটাই কমে গেছে।

আল-কুদস ফোর্সের প্রধানকে হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেশটির দ্বিতীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বলা হতো নিহত সোলাইমানিকে। কাজেই তাকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে চাইবে ইরান; এটিই স্বাভাবিক।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, সামরিক জবাব থেকে ইরান সরে এসেছে বলেই মনে হচ্ছে। কাজেই বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের সাইবার হামলার হুমকির বিষয়টিই এখন বাস্তবতা হিসেবে ধরে নেয়া যায়।

পেন্টাগনের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জন ব্যাটম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিতে ইরানের প্রভাব ফেলতে সাইবারই সবচেয়ে সহজতর উপায়। আমি মনে করি না, সবকিছু শেষ হয়ে গেছে বলেই আমাদের ধরে নিতে হবে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সাইবার চেষ্টা থেকে ফিরে এসেছে ইরান। কিন্তু তাদের ভাণ্ডারে প্রচুর হাতিয়ার রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে।

সাবেক এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, বৈদ্যুতিক ও পানির স্থাপনাগুলো এসব হামলার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কোম্পানি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে উপাত্ত মুছে দেয়া কিংবা ধ্বংস করতে র‌্যানসামওয়্যারে মতো ম্যালওয়্যার ব্যবহার করতে পারে ইরান। এ ছাড়া মার্কিন নির্বাচন সামনে রেখে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে সামাজিকমাধ্যমে গুজব ছড়িয়েও তারা প্রতিশোধ নিতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন সেনাবাহিনীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ না জানিয়ে দেশটির বিরুদ্ধে সাইবার হামলা হতে পারে প্রতিশোধের বড় একটি উপায়।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জেমস লুইস বলেন, সাইবার হামলার প্রস্তুতিতে অবস্থান শনাক্তের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে ইরান। তারা নাটকীয় ও প্রতীকী কিছু চাচ্ছেন।

‘তারা অনেকটা সতর্ক, পরিকল্পনা নিয়ে আগাচ্ছে। অন্তত পাঁচ বছর ধরে সাইবার হামলার সক্ষমতার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। কাজেই এটি রাজনৈতিক প্রশ্নের বিষয়।’

আরো পড়তে পারেন:  অভিশংসিত হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন বিমানবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও ডেনিম গ্রুপ কনসালটেন্সির বর্তমান নির্বাহী জন ডিকসন বলেন, নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের কোনো ধরনের ঢিলেমি করা উচিত হবে না। কারণ ড্রোন হামলার পর কিছুটা সময় অতিবাহিত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, এই হামলা এখন আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রস্তুতি ও ধারণা তৈরিতে তারা সময় পেয়েছে। এসব কিছু ইরানিরা যেভাবে সাইবার হামলা পরিচালনা করে, সে অনুসারেই হবে।

ডিকসন বলেন, হামলার ক্ষেত্রে ইরানিদের সম্ভাব্য বিকল্প হচ্ছে র‌্যানসামওয়্যার। যেহেতু তারা অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক চাপে রয়েছে। সে ক্ষেত্রে হাতে নগদ অর্থ হাতিয়ে নিতে র‌্যানসামওয়্যার একটা উপায় হতে পারে।

সম্ভাব্য সাইবার হামলার সতর্কতা দিয়ে একটি বুলেটিন প্রকাশ করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। অবহিত ক্ষতির বিরুদ্ধে প্রতিশোধ হিসেবে সাইবার হামলায় ইরানের ইতিহাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এতে।

বুলেটিনে আরও জানায়, সাইবার হামলার ক্ষেত্রে ইরান তাদের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। ওয়েবসাইট বিকৃতকরণ, সেবাপ্রদান অস্বীকার (ডিডিওএস) মূলক হামলা, ব্যক্তিগতভাবে শনাক্তকরণ তথ্য চুরি করাসহ বিভিন্ন আঙ্গিকে সাইবার আঘাত হানতে নিজেদের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে ইরান।

‘কিন্তু নিজেদের তৎপরতার এই সীমাকে ছাড়িয়ে যেতে চাচ্ছে তারা। যার মধ্যে বিধ্বংসী ওয়াইপার ম্যালওয়্যার ও সাইবার কেনেটিক হামলাও রয়েছে।’

সম্ভাব্য হামলার অন্যতম মাধ্যম হতে পারে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুক ও টুইটার। যেটিকে রাষ্ট্রীয় সমর্থিত গুজব বিস্তারের উপায় বলা যায়।

আটলান্টিক কাউন্সিলের ডিজিটাল ফরেনসিক গবেষণা ল্যাবের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তথ্যাভিযান পরিচালনায় আধুনিক সরঞ্জামের অধিকারী হয়েছে ইরান। যেটি তাদের পররাষ্ট্র নীতিতেও একীভূত করা হয়েছে।

 

সূত্র: যুগান্তর

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *