শীতে কাঁপছে পঞ্চগড়; জনপ্রতিনিধিদের স্বজনরাই পাচ্ছেন শীতবস্ত্র!

 

গত কয়েকদিনের শৈত্য প্রবাহে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ছিন্নমূল মানুষেরা। পঞ্চগড় জেলার জনসংখ্যা ১০ লক্ষাধিক। বেসরকারি এক হিসেবে জেলায় দরিদ্র শীতার্তের সংখ্যা প্রায় দুই লাখ। সরকারিভাবে এই জেলায় জেলার জন্য শীতবস্ত্রের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ২৮ হাজার শীতবস্ত্র। দুস্থ শীতার্ত প্রতি সাত হাজার মানুষের বিপরীতে শীতবস্ত্র বরাদ্দ মাত্র একটি।

জানা যায়, শীতবস্ত্রের অধিকাংশই বিতরণ করা হচ্ছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে। অভিযোগ উঠেছে অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা তাদের স্বজন, পরিচিত ব্যক্তি, ভোটে সহায়তাকারী ও ভোটারদেরকেই শীতবস্ত্র দিচ্ছেন। তবে সীমিত পরিসরে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা রাতে ঘুরে ঘুরে দুস্থ শীতার্ত ব্যক্তিদের খুঁজে খুঁজে শীতবস্ত্র তুলে দিচ্ছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এবার শীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ২৮ হাজার শীতবস্ত্র পঞ্চগড়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। অধিকাংশ শীতবস্ত্র ডিসেম্বরের শুরুতেই প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে তা ভাগ করে বিতরণের জন্য পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু বিতরণের ক্ষেত্রেই দেখা দেয় অনিয়ম। অভিযোগ রয়েছে অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেই চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা তাদের আত্মীয় স্বজন, ভোটে সহায়তাকারী ও তাদের ভোটারদেরকেই শীতবস্ত্র দিচ্ছেন। এতে কেউ কেউ প্রতিবারই শীতবস্ত্র পাচ্ছে। স্বজনপ্রীতির কারণে প্রকৃত দুস্থ শীতার্তরা শীতবস্ত্র থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের খড়কুটো জ্বালিয়েই শীত নিবারণ করতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ হয়ে গেলেও কোনো খবরই জানেন না স্থানীয়রা। এ নিয়ে ক্ষোভের শেষ নেই শীতার্তদের।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার পূর্ব শিংপাড়া এলাকার শাহজাহান আলী বলেন, চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা আমাদের কোনো খোঁজ নেয় না। শীতবস্ত্র এলে তাদের যারা ভোট দেয় এবং ভোটে সহযোগিতা করে তাদেরকেই শীতবস্ত্র দেওয়া হয়।

তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের আফিলা খাতুন বলেন, শীতবস্ত্র আসে, দেওয়া হয় কিন্তু আমরা কোনো খোঁজ খবর পাই না। যারা ধনী তাদেরকেই বার বার দেওয়া হয়।

আরো পড়তে পারেন:  ১৯ ফেব্রুয়ারি: ইতিহাসে আজকের এই দিনে

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহেদুল হক বলেন, আমার ইউনিয়নের চার থেকে পাঁচ হাজার দুস্থ শীতার্ত রয়েছে। আমি শীতবস্ত্র পেয়েছে মাত্র চারশ। যারা পাওয়া যোগ্য তাদেরকেই দেওয়া হয়েছে। আমাদের আত্মীয়, স্বজন, ভোটে সহযোগিতাকারী ও ভোট দেওয়া ব্যক্তিরা যদি শীতবস্ত্র পাওয়ার যোগ্য হয় তবে তো তাদেরকেই আগে দিতে হবে।

তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মকছেদ আলী বলেন, ‘আমরা ইউনিয়নে শীতবস্ত্রের বরাদ্দ খুবই কম। আমি ছয় হাজার মানুষের জন্য শীতবস্ত্র পেয়েছি মাত্র চারশ। তাই সবার মন রক্ষা সম্ভব নয়। যারা পায়নি তারাই অভিযোগ করে।’

জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, প্রত্যেক উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। প্রকৃত শীতার্তদেরই যেন শীতবস্ত্র দেওয়া হয় সেই নির্দেশনা আমরা দিয়েছি। তারপরও শীতবস্ত্র বিতরণে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা খুঁজে খুঁজে দরিদ্র শীতার্তদের শীতবস্ত্র বিতরণ করছে। তবে জেলার দরিদ্র শীতার্তদের তুলনায় আমাদের শীতবস্ত্রের বরাদ্দ কম। আমরা ২৮ হাজার শীতবস্ত্র পেয়েছি। আরো শীতবস্ত্রের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

 

সূত্র: যুগান্তর

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *