শবে মিরাজের সময়কাল নিয়ে মতভেদ

মহান আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় তাঁর সান্নিধ্যে রাসূল (সা.) এর অলৌকিকভাবে মসজিদে হারাম থেকে মসজিদুল আকসা এবং ঊর্ধ্বজগতে ভ্রমণকে মিরাজ বলা হয়। তবে এটি কবে সংঘটিত হয়েছিল এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোন তারিখ উল্লেখ নেই। পবিত্র কুরআনের দুটি সূরায় এবং বুখারী ও মুসলিমসহ হাদীসের বিভিন্ন কিতাবে সহীহ সনদে বিশজনের অধিক সাহাবী (রা.) থেকে মিরাজ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় জানা গেলেও সঠিক তারিখ নির্দিষ্ট করা যায়নি। যদিও আমাদের সমাজে রজব মাসের ২৭ তারিখ মিরাজের রাত্রি হিসেবে প্রচলিত আছে।

 

মূলত মিরাজ সংঘটনের সময়কাল নিয়ে সীরাত বিশেষজ্ঞ উলামায়ে কেরামের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে। মিরাজ পূর্ব ঘটনা থেকে অনুমান করে মিরাজ কবে সংঘটিত হয়েছিল এ ব্যাপারে সীরাত বিশেষজ্ঞগণ নিম্নোক্ত মতবাদ ব্যক্ত করেছেন-

০১। নাম অজানা কোন এক সীরাত বিশেষজ্ঞ বলেন, মিরাজ নবুওয়াতের পূর্বে সংঘটিত হয়েছে। তবে এ কথার কোন ভিত্তি নেই কারণ নির্ভরযোগ্য কথা হলো মিরাজ নবী করীম (সা.) এর নবুওয়ত প্রাপ্তির পরের ঘটনা।
০২। আল্লামা তাবারী (রহ.) বলেন, রাসূল (সা.) যে বছর নবুওয়ত প্রাপ্ত হন, সে বছরই মিরাজ সংঘটিত হয়।
০৩। ইমাম নবুবী, জুহুরী, কুরতুবী ও ইবনে সাদের মতে, নবুওয়তের পাঁচ বছর পর মিরাজ সংঘটিত হয়।

০৪। ইবনুল জাওযির মতে, মিরাজের সময়কাল হলো হিজরতের আট মাস পূর্বে।
০৫। রবী বিন সালামের মতে, হিজরতের ছয় মাস পূর্বে মিরাজ সংঘটিত হয়।
০৬। ইবনু আব্দিল বারের মতে, হিজরতের ষোল মাস পূর্বে অর্থাৎ নবুওয়াতের দ্বাদশ বর্ষে রমযান মাসে মিরাজের ঘটনা ঘটে।
০৭। ইবনু কুতাইবার মতে, হিজরতের আঠার মাস পূর্বে রাসূল (সা.) ঊর্ধ্বালোক গমন করেন।
০৮। ইব্রারাহীম আল হারবী বলেন, মিরাজের রজনী হলো হিজরতের এক বছর পূর্বে রবিউস আওয়াল মাসের কোন এক রাত্রি।

০৯। ইবনে হাযমের মতে, নবুওয়তের দ্বাদশ বর্ষে রজব মাসের ২৭ তারিখ মিরাজ সংঘটিত হয়।
১০। আল্লামা মানসুরপুরী বলেন, নবুওয়াতের দশম বর্ষের ২৭শে রজব তারীখে মি’রাজ সংঘটিত হয়েছিল।

উল্লেখিত মতামতের ভিত্তিতে মিরাজ রবিউল আওয়াল, রবিউস সানী, রজব, রমজান ও শাওয়াল মাসে সংঘটিত হয়েছে মর্মে ধারণা করা যায়। আল্লামা ছফিউর রহমান মোবারকপুরী বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার পূর্বে উম্মুল মুমিনীন হজরত খাদিজা (রা.) নবুওয়াতের দশম বর্ষের রমযান মাসে মৃত্যুবরণ করেন এ ব্যাপারে সবাই একমত। আর নামাজ ফরজ হয় মিরাজের রাত্রিতে। সুতরাং মিরাজ সংঘটিত হয় খাদিজা (রা.) মৃত্যুর পর। আবার সূরা বণী ইসরাঈলের বর্ণনাভঙ্গি থেকে অনুমান করা যায় যে, মিরাজের মতো অলৌকিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর মক্কা জীবনের শেষ সময়ে। যাহোক ! অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম শেষোক্ত মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন বিধায় আমাদের দেশে ২৭ শে রজব মিরাজের রজনী হিসেবে প্রচলিত হয়েছে। (তথ্যসূত্র : আর রাহিখুল মাখতূম ও ফতহুল বারী)

আরো পড়তে পারেন:  কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় সিটি ব্যাংকের নারী কর্মকর্তাকে বরখাস্তের অভিযোগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *