লাল-হলুদের ফাঁদে পড়ে কিটের সংকট!

 

দেশে এই মুহূর্তে করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে ৬৬টি পরীক্ষাগারে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ৬৬ পরীক্ষাগারে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৭ হাজার ২৪৫টি আর নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৬ হাজার ৪৩৩টি। তবে গত ১৭ জুন দেশে সর্বোচ্চ পরীক্ষা হয়েছিল ১৭ হাজার ৫২৭টি। সেদিনের পর থেকে পরীক্ষার সংখ্যা কমতে থাকে। এদিকে গত ২০ জুন পরীক্ষা হয়েছিল ১৪ হাজার ৩৪টি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পর্যাপ্ত কিটের সরবরাহ না থাকার কারণেই নমুনা পরীক্ষা কমে গেছে।

নোয়াখালী আব্দুল মালেক উকিল মেডিক্যাল কলেজে কিট আসায় তিন দিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (২৩ জুন) থেকে পুনরায় করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ছয় দিন বন্ধ থাকার পর গত ২২ জুন বিকালে কিট সরবরাহ হয়েছে নারায়ণগঞ্জের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যা হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে। ফলে এদিন বিকাল থেকে আবারও ল্যাব চালু হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কিট ছিল না বলেই পরীক্ষা আটকে ছিল। আজ (২৪ জুন) আবার এক হাজার ৯২০টি কিট পেয়েছি, পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ দিয়ে অন্তত আরও সাত থেকে আট দিন চলবে।’ তারপর কীভাবে আবার পরীক্ষা হবে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অধিদফতর থেকে অর্ধেক শেষ হলে আবার চাহিদাপত্র দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রে মজুত কিট দিয়ে আর ৫২৪ জনের শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা যাবে। ল্যাব কমিটির সদস্য ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘মজুত কিট দিয়ে আর মাত্র একদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার পরীক্ষা করা সম্ভব। কিট পাওয়া না গেলে শুক্রবার পরীক্ষা করা সম্ভব হবে না। আরেকটি পিসিআর মেশিন ও কিটের জোগান থাকলে প্রতিদিন আরও বেশি করে পরীক্ষা করা সম্ভব হতো।’

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র বলছে, দেশে পিসিআর টেস্ট যে মেশিনে করা হয় সেটা ইয়েলো কিট সাপোর্ট করে। ওই কিট ছাড়া অন্য কোনও কিট দিয়ে পরীক্ষা চলবে না। কিটের জন্য বাংলাদেশ চীনের ওপর নির্ভর করে, তবে আমদানিকারকরা ঠিকমতো আমদানি করতে না পারায় সংকটে পড়তে হয়।

আরো পড়তে পারেন:  করোনা টেস্ট উদ্ভাবক ড. বিজন কুমারকে গণভবনে ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী

সূত্র বলছে, মেশিনে লাল এবং হলুদ কিট ব্যবহার করা হয়। লাল কিটের মজুত থাকলেও হলুদ কিটের মজুত ছিল না। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে হলুদ কিটের আমদানি বন্ধ ছিল। আর আমদানিকারকরা হলুদ কিট না এনে লাল কিট এনেছেন, যার কারণে হলুদ কিট ব্যবহার করা মেশিনে পরীক্ষা হয়নি এবং সংকট তৈরি হয়েছিল।

গত ২২ জুন চীন থেকে আসা প্রতিনিধি দলকে বিদায় জানাতে গিয়ে বিমানবন্দরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও কিট সংকটের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, চাহিদা অনুযায়ী কিট পাওয়া যাচ্ছে না, বিশ্বের সব দেশেই কিটের সংকট রয়েছে। তবে এ সংকট বেশিদিন থাকবে না বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শুরু থেকেই বেশি বেশি পরীক্ষার কথা বলে এসেছে। বেশি পরীক্ষা করার সুপারিশ করেছে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিও। দিনকে দিন যেমন ল্যাবের সংখ্যা বেড়েছে তেমনি বাড়ছে রোগী সংখ্যা। আরও রোগী শনাক্ত করার জন্য আরও টেস্ট বাড়ানো দরকার।

কিট সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ছয় থেকে ১০ হাজারের মতো হলুদ কিট এসেছে এবং সেগুলো যেখানে যেখানে পাঠানোর দরকার পাঠানো হয়েছে।’

কিটের অভাবে কখনও টেস্ট বন্ধ হয়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের জন্য ৩০ হাজার কিটের ভেতরে ১০ হাজার আনার কথা ছিল হলুদ কিট আর ২০ হাজার লাল কিট। কিন্তু সেখানে সবই এসেছে লাল কিট। যারা এক্সপোর্টার তারা হয় ভুল করে দিয়েছে, নয়তো কাগজে লালই লেখা ছিল। তখন নারায়ণগঞ্জের টেস্টগুলো ঢাকায় এনে করা হয়েছে। পরবর্তীতে হলুদ কিট আসার পরই সেখানে পাঠানো হয়েছে।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোভিড-১৯ বিষয়ক সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. রিজওয়ানুল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অধিদফতরের কাছে এখন এক লাখের বেশি কিট রয়েছে। মাঝে কিটের সংকট যেটা হয়েছিল সেটা দুই দিন ফ্লাইট সমস্যার কারণে।

আরো পড়তে পারেন:  বীমা পেশায় ক্যারিয়ার

আমাদের টেস্ট কমেনি, ল্যাব বন্ধ হয়নি মন্তব্য করে ডা. রিজওয়ানুল করিম বলেন, ‘যে ল্যাবে বেশি কিট মজুত ছিল সেখান থেকে নিয়ে যেখানে ছিল না সেখানে দেওয়া হয়েছে, এখানে গাফিলতির সুযোগ খুব কম।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

Loading...
আরো পড়তে পারেন:  পুরনো সম্পর্কের একঘেয়েমি দূর করার ৮ উপায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *