লকডাউনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট!

 

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের পর থেকেই প্রতিদিন অসংখ্যবার আমরা ‘লকডাউন’ ’লকডাউন’ শব্দটা শুনছি। কার্যত: পুরো বিশ্বই এখন এক ধরনের লকডাউনের মধ্যে আছে। কিন্তু এই লকডাউনই কি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের একমাত্র উপায়। লকডাউন কি কোনো একটি জনপদ বা দেশকে করোনার ছোবল থেকে রক্ষা করতে পারে!

ড. ব্রুস আইল্ওয়ার্ডের এ ব্যাপারে ভিন্ন বক্তব্য আছে। তিনি মনে করেন, লকডাউন করোনা ভাইরাসের বিস্তারের গতি কমানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বটে, তবে এটি করোনা ভাইরাসকে থামাতে পারে না। তা হলে করণীয় কি? সে কথাও তিনি বলেছেন। সেদিকে যাবার আগে ড. ব্রুস আইল্ওয়ার্ডের পরিচয়টা দিয়ে নেই।

যারা আমার লেখা নিয়মিত পড়েন বা ফলো করেন, কানাডীয়ান এই বিশেষজ্ঞর কথা তাদের মনে থাকার কথা । গত ত্রিশ বছরের বেশি সময় ধরে যখনি বিশ্বে কোনো মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে তখনি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা তার শ্মরণাপন্ন হয়েছে। চীনের উহানে যখন করোনার প্রথম সূত্রপাত হয়, তখনি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা তাকে দায়িত্ব দেয়। চীন মিশনের দায়িত্ব পালনের পর তিনি এখন ইউরোপ দেখছেন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মাহপরিচালকের উপদেষ্টা তিনি।

স্পেনে করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে সেখানে কিছুটা সময় কাটিয়ে জেনেভায় ফিরেছেন ড. ব্রুস আইল্ওয়ার্ড। জেনেভায় ফিরে নিজের অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন সবাইকে। ড. ব্রুস আইল্ওয়ার্ড বলছেন, লকডাউনটাকে আসলে কোনো দেশ বা সরকারের জন্য ক্রমান্বয়ে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে পরিবেশ সহজ করে দেয়ার প্রস্তুতির একটা সুযোগ হিসেবে দেখা ভালো।

তা হলে করোনা ভাইরাসের মোকাবেলায় সরকারের করণীয় কি? এই ব্যাপারে তার প্রেসক্রিপশন স্পষ্ট এবং খোলামেলো। তিনি বলছেন, ’প্রথম এবং প্রধান কাজ হচ্ছে যতো বেশি সম্ভব টেষ্ট করা, আক্রান্ত ব্যক্তিদের আলাদা করে ফেলা, তাদের সংশ্পর্শে কারা এসেছিলেন তাদের চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টিনে রাখা।’

তাঁর এই প্রেসক্রিপশন না মানার বিপদ সম্পর্কেও তিনি সতর্ক করে দেন- কোনো বিষ্ফোরক যেমন মুহুর্তেই বিশাল ভবনকে ধ্বসিয়ে দিতে পারে,এই ভাইরা্সও মাত্র একদিনেই একটা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কাবু করে ফেলতে পারে। তিনি বলেন, প্রতিটিা দেশেরই একটা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নির্দিষ্ট ক্যাপাসিটি থাকে। হঠাৎ করে অগুনতি রোগী এসে হাসপাতালে ভীড় জমালে কোনো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাই তার যত্ন নিতে পারে না। এই বিষয়টাই সরকারের নীতিনির্ধারকদের আগাম ভাবনায় রাখা দরকার।

আরো পড়তে পারেন:  করোনাকালীন বাজেট: কী করার কথা, কী করেছি

ড. ব্রুস আইল্ওয়ার্ড বলেন, করোনায় আক্রান্ত একজন রোগীকে ইনটেনসিভ কেয়ারে নেয়া হলে তাকে সেখানে অন্তত তিন সপ্তাহ রাখতে হয়।সুস্থ হবার পর আরো বেশ সময় ধরে তাকে ফলোআপে রাখতে হয়। ইনটেনসিভ কেয়ারের সুবিধাদি বিশেষ করে ভেন্টিলেটর,বিছানাপত্র ্ও অন্যান্য উপকরনের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না থাকলে তখনি বিপর্যয় দেখা দেয়। রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের এগুলো আগাম ভাবনায় রাখতে হয়। করোনাকালের এই চ্যালেঞ্জটা দেশে দেশে সরকারকে এখনি মাথায় নেয়ার তাগিদ দেন এই বিশেষজ্ঞ্।

 

সূত্র: নতুনদেশ

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

Loading...
আরো পড়তে পারেন:  বাংলাদেশে প্রথম করোনা নিয়ে তথ্যমূলক ডকুমেন্টারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *