রিটার্ন জমায় ছাড় নেই করোনায়ও

 

করোনার মধ্যেও ছাড় নেই রিটার্ন দাখিলে। করযোগ্য আয় থাকলেই বাধ্যতামূলক রিটার্ন দাখিল করতে হবে। আগামী ৩০ নভেম্বর নিয়মিত রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন। এবার করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে আয়কর মেলা আয়োজন করা হবে না। অনেকে করোনা সংক্রমণ এড়াতে অনলাইনে রিটার্ন জমায় আগ্রহী থাকলেও কর অঞ্চল-৬-এর করদাতারা ছাড়া এবার অন্য কাউকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ সুযোগ দিতে পারছে না। এ ছাড়া করোনার মতো ভয়ংকর এ ব্যাধির কারণে অনেকে আর্থিক সংকটে পড়লেও করদাতাদের সুবিধায় নিয়মিত কর প্রদানে কোনো ছাড় দিচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি।

গত ১০ বছরে এই প্রথম করোনা ব্যাধির কারণে আয়কর মেলা আয়োজন করছে না এনবিআর। তবে মেলা আয়োজন না করলেও প্রত্যেক কর অঞ্চলে মেলার মতো পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম নির্দেশ দিয়েছেন, করদাতাদের সুবিধায় প্রত্যেক কর অঞ্চলের প্রতিটি কর সার্কেলের জন্য একাধিক টেবিল রাখতে হবে। এসব টেবিলে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকতার সঙ্গে করদাতাদের রিটার্ন জমায় সহযোগিতা করবেন। করদাতাকে রিটার্ন ফরম সরবরাহ, রিটার্ন ফরম পূরণে সহযোগিতা করা, রিটার্ন ফরমের সঙ্গে কী কী সংযুক্ত করতে হবে সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়াসহ রাজস্ব বিষয়ক সব ধরনের সেবা প্রদান করবেন। এসব সেবা সুষ্ঠুভাবে দেওয়া হচ্ছে কি না তা নজরদারিতে এনবিআর প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিক টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রিটার্ন প্রদানকালে কোনো করদাতাকে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হয়রানি করলে টাস্কফোর্স কমিটি অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করবে। এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশে এ শাস্তি বাস্তবায়ন করা হবে।

কোনো করদাতার বয়স ১৮ বছর হলেই ইটিআইএন গ্রহণ করতে পারবে। বাড়িভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসা ভাতা বাদ দিয়ে তিন লাখ পর্যন্ত বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রে করদাতাদের কোনো কর দিতে হবে না। মহিলা ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে আয়করসীমা তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই সীমার বাইরে এক লাখ টাকা পর্যন্ত কর দিতে হবে ৫ শতাংশ হারে। তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ, চার লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ ও পাঁচ লাখ পর্যন্ত ২০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। অবশিষ্ট মোট আয়ের ওপর কর দিতে হবে ২৫ শতাংশ।

আরো পড়তে পারেন:  খাবার ভেবে তোয়ালে খেয়ে ফেলল অজগর, অতঃপর... (ভিডিও)

আয়কর আইনজীবী মো. সোহাগ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক করদাতা তাঁর আয়-ব্যয় ও সম্পদের সব তথ্য দিলে আমরা আয়কর আইনজীবীরা ওই করদাতার পক্ষে রিটার্ন ফরম পূরণ করে ব্যাংকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর জমা দিয়ে নির্দিষ্ট কর সার্কেলে গিয়ে রিটার্ন জমা দিয়ে থাকি। এ ক্ষেত্রে আমরা ফি নিয়ে থাকি।’

করোনাকালে ঘরে থেকে অনেকে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে আগ্রহী হলেও এবার এনবিআর করদাতাদের এ সুযোগ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ভিয়েতনামের এফপিটি ইনফরমেশন সিস্টেম করপোরেশন নামে একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান এনবিআরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার সফটওয়্যারটি তৈরি করেছিল। কিন্তু তাদের সঙ্গে এনবিআরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অনলাইনে রিটার্ন জমার লিংকটি বন্ধ হয়ে গেছে। তবে কর অঞ্চল-৬ থেকে নিজস্ব উদ্যোগে বিশেষ সফটওয়্যারের সাহায্যে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়া হবে। আজ রবিবার থেকে এ কর অঞ্চলের আওতাভুক্ত ব্যক্তি ও কম্পানি করদাতারা অনলাইনে চলতি করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন। এতে এ কর অঞ্চলের আওতাভুক্ত কম্পানি করদাতাদের মধ্যে ব্যাংক বেশি।

৩০ নভেম্বর নিয়মিত রিটার্ন দাখিলের শেষ সময়। তবে যুক্তি সংগত কারণ দেখিয়ে এ সময়ের পরও করদাতা রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সংশিষ্ট উপকর কমিশনারের অনুমতি নিয়ে পরবর্তী সময়ে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ আছে। তবে অনুমতি না নিয়ে নিয়মিত সময়ের পরে রিটার্ন জমা দিলে সংশ্লিষ্ট করদাতাকে জরিমানা গুনতে হবে। প্রতিবছর নভেম্বরের শুরু থেকে রিটার্ন দাখিলের পরিমাণ বাড়লেও এ বছর করোনার কারণে ভিন্নচিত্র। বিভিন্ন কর অঞ্চলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনার কারণে গত ১২ নভেম্বর পর্যস্ত গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রিটার্ন কম জমা পড়েছে। তবে এনবিআরসংশ্লিষ্টরা আশা করেছেন, আজ ১৫ নভেম্বর থেকে রিটার্ন দাখিল বাড়তে পারে।

এনবিআর সদস্য মো. আলমগীর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রতি করবর্ষে সাধারণত নভেম্বরের ১৫-২০ তারিখের পরে আগের সময়ের তুলনায় রিটার্ন জমা বেশি হয়। করোনা এড়াতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা করে যাঁদের রিটার্ন জমার প্রয়োজন তাঁদের জমা দিতেই হবে।

আরো পড়তে পারেন:  ভয়ে ট্রাম্প; ক্ষমতা ছাড়লে ধর্ষণসহ বিভিন্ন মামলায় জেলে যেতে হতে পারে

তবে করোনার কারণে এবার রিটার্ন জমা কম হতে পারে বলে মত দিয়েছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবদুল মজিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার কারণে অনেকের ব্যবসায় লোকসান হয়েছে, অনেকে চাকরি হারিয়েছে, অনেকের বেতন কমে গেছে। এভাবে করোনার কারণে আর্থিকভাবে লোকসানে পড়ে অনেকের এখন আর করযোগ্য আয় নেই। করোনায় আর্থিক সংকটে এবার রিটার্ন জমার পরিমাণ কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছি।’

সূত্র: কালেরকণ্ঠ

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

Loading...
আরো পড়তে পারেন:  সুখবর দিল চীন, করোনা ভ্যাকসিন পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *