রাহুলবিরোধী নেতাদের কমিটি থেকে বাদ

সভাপতি পদে গান্ধী পরিবারের বিকল্প খুঁজতে সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখা রাহুল গান্ধীবিরোধী সেই বিক্ষুব্ধ নেতাদেরই এবার কমিটি থেকে বাদ দিল কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তর প্রদেশ কংগ্রেসে সাতটি নির্বাচনী কমিটি গঠন করল দলটি।

ইশতেহার গঠন, সংগঠনের বিস্তার কমিটি, সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রশিক্ষণ ও ক্যাডার, পঞ্চায়েত এবং প্রচার ও জনসংযোগ সংক্রান্ত কমিটি। দলের আমূল সংস্কারের দাবিতে চিঠি দেয়া ২৩ নেতার কাউকেই এসব কমিটিতে রাখা হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেই চিঠি লিখারই খেসারত দিতে হল তাদের। ভোটের দু’বছর আগেই প্রস্তুতির দুটির কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, সংগঠনকে আরও চাঙ্গা করা। দ্বিতীয়ত, বিক্ষুব্ধদের একটা কড়া হুশিয়ারি দেয়া।

রোববার রাতে দলের এক দাফতরিক ঘোষণায় বলা হয়, নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির জন্য উত্তর প্রদেশের নতুন এ কমিটির নেতৃত্ব দেবেন সলমন খুরশিদ। আর এ সাত কমিটির পূর্ণ তদারকিতে থাকবেন উত্তর প্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াংকা গান্ধী। গত মাসে নেতৃত্বের বদল নিয়ে দলের অন্দরেই দুটো দলে ভাগ হয়ে গিয়েছিলেন নেতারা।

সেসময় সলমন খুরশিদের মতো বেশ কিছু নেতা গান্ধী পরিবারের নেতৃত্বের ওপরই আস্থা রাখেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি স্পষ্ট বলছি কংগ্রেসের মাথাই হচ্ছে গান্ধীরা। এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। বিরোধীরাও নয়। দলে সভাপতি থাকল কি থাকল না তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নই। আমাদের একজন নেতা আছেন (রাহুল গান্ধী) এবং সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।’

এদিকে একেবারে সরাসরি সোনিয়াকে নিশানা করে চিঠি লিখলেন উত্তর প্রদেশ কংগ্রেসের আরও ৯ নেতা। সোনিয়া গান্ধীকে নিশানা করে চিঠিতে লিখা হয়েছে, ‘পরিবারের মোহ ছাড়ুন। দলে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনুন। সবার সম্মতিক্রমে দলে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করুন। আপনি যদি আপনার দায়িত্ব এড়িয়ে যান তাহলে দেশের রাজনীতিতে ইতিহাস হয়ে যাবে কংগ্রেস।

এই মুহূর্ত কংগ্রেস সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে, দলের নেতাদের মধ্যে যোগাযোগ নেই, দলের স্বার্থ কথা বলার জায়গা কমে যাচ্ছে, এমনকি দল অস্তিত্বহীনতায় ভুগছে।’

আরো পড়তে পারেন:  ১৩ নভেম্বর: ইতিহাসে আজকের এই দিনে

দলের ভাবমূর্তি নষ্টের কারণে গত বছর নভেম্বরে তাদেরকে ছয় বছরের জন্য বরখাস্ত করে কংগ্রেস। গত তিন দশক ধরেই রাজনৈতিকভাবে দেশের অন্যতম গুরুত্ববাহী উত্তর প্রদেশে ভালো করতে ব্যর্থ কংগ্রেস।

২০১৭ সালে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট হলেও মাত্র সাতটি আসন দখল করতে পেরেছিল শতাব্দী-প্রাচীন দলটি। ২০১৯ লোকসভা ভোটের আগে পূর্ব উত্তর প্রদেশের দায়িত্ব আনা হয় প্রিয়াংকা গান্ধী ভদ্রকে। কিন্তু তাতেই ফলাফলের বদল হয়নি। উল্টে পদ্ম ঝড়ে নেহেরু-গান্ধীদের দুর্গ বলে পরিচিত আমেঠি রাহুল গান্ধীর হাতছাড়া হয়।

 

সূত্র: কালের কণ্ঠ

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

Loading...
আরো পড়তে পারেন:  বিশ্বনবীর মিম্বর থেকে করোনা বিষয়ে শাইখ সুদাইসের উপদেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *