“রাজনৈতিক শত্রুতাবশত আমার বিরুদ্ধে মামলা”

ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক শত্রুতাবশত হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে! ঐ নিরাপত্তা আইনের মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে করা আবেদনে এমনটাই দাবি করেছেন সাময়িক বরখাস্তকৃত এই ওসি। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দাখিল করা জামিন আবেদন পর্যালোচনা করে এমন তথ্য মিলেছে। তবে মামলার বাদী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন ইত্তেফাককে বলেন, আমি সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছি। সেই মামলা তদন্ত করে পিবিআই ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। যার ভিত্তিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। ফলে ওসি জামিন আবেদনে যে দাবি করেছেন তার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, ওসির খুঁটির জোর কোথায়? আগামী ১৬ জুনের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি উনাকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয় তাহলে হাইকোর্টে রিট করব। ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর নুসরাতের পরিবারসহ সারাদেশের মানুষ অপেক্ষা করছে কখন পলাতক ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেফতার হবেন। পুলিশ প্রশাসন চাইলে যে কোনো সময় যে কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারে এমন বহু নজির রয়েছে। ইত্তেফাক

ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা কর্তৃক ২৭ মার্চ যৌন হয়রানির শিকার হন নুসরাত জাহান রাফি। ঘটনার দিন ঐ অধ্যক্ষ, নুসরাত ও তার পরিবারের সদস্যদের থানায় ডেকে নেন ওসি। পরে নিজ মোবাইলে নুসরাতের বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করে অন্যের মোবাইলে পাঠান। যা পরবর্তীকালে ভাইরাল হয়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার পর ওই ভিডিও ধারণের ঘটনায় সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ব্যারিস্টার সুমন। পরে মামলাটি তদন্ত করে ওসির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় অভিযোগের প্রমাণ পায় পিবিআই। পরে ঐ তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। কিন্তু পরোয়ানা জারির পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও গ্রেফতার হননি ওসি। এরই মধ্যে তিনি হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তার একটি কপি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দাখিল করেন।

জামিন আবেদনে যুক্তি :

আবেদনে বলা হয়েছে, ওসি মোয়াজ্জেম একজন সুপরিচিত পুলিশ কর্মকর্তা। সমাজে তার সুনাম রয়েছে। সেটা বিনষ্ট করতে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া মামলার বাদীর সঙ্গে তার রাজনৈতিক শত্রুতা ছিল। এ কারণে শত্রুতাবশত হয়ে তার বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে। তিনি বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। নিম্ন আদালতে গেলে তিনি গ্রেফতার হতে পারেন এ কারণে তার আগাম জামিন প্রয়োজন।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, একজন আসামি জামিন আবেদনে নানা যুক্তি তুলে ধরে আদালতে জামিন প্রার্থনা করেন। জামিন মঞ্জুর বা না মঞ্জুর করা সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার।

সূত্র: আমাদের সময়

দেশের আরো প্রতি মূর্হর্তের খবর জানুন এখানে

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *