রংপুর- ৩ আসনের নির্বাচন, সাদের পর এবার আলোচনায় এরিক

 

জাতীয় পার্টিতে (জাপা) প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ এবং ছোট ভাই জিএম কাদেরের মধ্যে বিরোধ দুই দশকের। নতুন খবর হলো, পারিবারিক এ দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়েছে এরশাদের দুই ছেলে রাহাগীর আল মাহি সাদ এবং শাহাতা জারাব এরিক। যদিও সাদ এরশাদ বলেছেন, ছোট ভাই এরিকের সঙ্গে বিরোধের প্রশ্নই আসে না। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক সহানুভূতি আদায়ে একটি পক্ষ শিশু এরিককে ব্যবহার করছে। সমকাল

জাপার প্রয়াত চেয়ারম্যান এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য রংপুর-৩ আসনে দলের প্রার্থী হতে চান সাদ এরশাদ। কিন্তু গত মঙ্গলবার রংপুর মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসিরের পক্ষে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন এরিক এরশাদ। এতে চটেছেন এরিকের মা এবং এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন ক্ষোভের কথা। বিদিশা সিদ্দিক বলেছেন, সাদকে রংপুরে জাপার প্রার্থী করা হবে। এটা পারিবারিক সিদ্ধান্ত। যারা সাদের বিপক্ষে, তারা এরিককে ব্যবহার করছে। এরিক একজন বিশেষ শিশু। সে নিজের শার্টের বোতামও এখনও লাগাতে পারে না। মনোনয়নপত্র কী, প্রার্থী কী তাও জানে না। এরিকের হাত দিয়ে মনোনয়নপত্র তোলার অর্থ হলো, তাকে ব্যবহার করা। যারা সাদ এবং এরিকের মধ্যে বিরোধের খবর রটাচ্ছে, তারা সফল হবে না। সাদের মা এবং এরিকের মা বেঁচে থাকতে তা হবে না।

সাদ এরশাদ বলেছেন, তিনি বাবার আসনে প্রার্থী হতে চান। দলের মনোনয়ন না পেলে প্রার্থী হবেন কি-না- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, না হওয়ার তো কারণ নেই। সাদ জানান, তার মা জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের সম্মতি নিয়েই প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তার চাচা জাপার চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকেও জানিয়েছেন, প্রার্থী হতে চান।

জাপা সূত্রে জানা যায়, রওশন এরশাদ ছেলে সাদকে প্রার্থী করতে চান। কিন্তু জিএম কাদের ভাতিজাকে প্রার্থী করতে রাজি নন। এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহারিয়ার আফিস, ভাগ্নি মেহেজেবুন্নেসা টুম্পা এবং ভাগ্নে মেজর (অব.) খালেদ আক্তারও রংপুর-৩ আসনে লাঙলের হাল ধরতে চান। এসএম ইয়াসির ছাড়াও পরিবারের বাইরে রংপুর জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক এসএম ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর জাপার মনোনয়ন চান। কে মনোনয়ন পাবেন, তা নির্ধারণে সম্প্রতি ৮সদস্যের পার্লামেন্টারি বোর্ড গঠন করেছে জাপা। এতে জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানো রওশন এরশাদ ও তার অনুসারীরা স্থান পাননি।

জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ বলেছেন, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে যার জয়ের সম্ভাবনা বেশি, তাকেই প্রার্থী করা হবে। বোর্ডের আলোচনায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। সাদ মনোনয়ন পাবেন কি-না, সে সম্পর্কে মন্তব্য করতে রাজি হননি কাজী ফিরোজ রশিদ।

আরো পড়তে পারেন:  ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টেও ফেরানো যাচ্ছে না তারেক-তাজউদ্দীনকে

রংপুরে জাপার প্রার্থী কে হবেন- এ বিষয়ে জিএম কাদের এবং রওশন এরশাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জাপার মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ বলেছেন, এরিককে নিয়ে কেন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসএম ইয়াসিরের বক্তব্য জানা যায়নি। তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

গত ১৪ জুলাই মারা যান জাপার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা এরশাদ। আগামী ১ সেপ্টেম্বর তার আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। ভোট হতে পারে আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে। ইভিএমে ভোট হবে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেবে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিএনপিও প্রার্থী দিতে পারে।

ক্ষমতাসীন দলের বিপক্ষে ভোটের লড়াইয়ে জিততে সাদ এরশাদকে প্রার্থী করার পক্ষে জাপার একাংশ। দলটির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য জানিয়েছেন, জাপার মনোনয়ন কে পাচ্ছেন, তা সরকারের মনোভাবের ওপরও নির্ভর করছে। বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ সরকারের ঘনিষ্ঠ। তিনি সাদকে চান। তাকে রুষ্ট করে অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে রংপুর-৩ আসন হারানোর শঙ্কা রয়েছে।

এই নেতা বলেছেন, তবে সাদকে মনোনয়ন দেয়া জিএম কাদের এবং তাদের অনুসারীদের পক্ষে সহজ নয়। কারণ সাদ এমপি হলে এরশাদের ছেলে হিসেবে উত্তরাধিকারের দৌড়ে এগিয়ে যেতে পারেন। জিএম কাদেরের নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন। তবে সাদ বলেছেন, তার এমন কোনো অভিপ্রায় নেই। তিনি আপাতত আসন্ন উপনির্বাচন নিয়েই ভাবছেন।

এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হয়েছে বিরোধীদলীয় নেতার পদ। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। তার আগে হবে জাপার সংসদীয় দলের সভা। এ সভা থেকে নির্ধারণ হতে পারে কে হবেন বিরোধীদলীয় নেতা। রওশন এরশাদের অনুসারীরা তাকেই এ পদে চান। জিএম কাদেরের অনুসারীরা এরই মধ্যে বিরোধীদলীয় নেতার পদে তাকে চেয়ে দলের বৈঠকে প্রস্তাব তুলেছেন। জাপা সূত্র জানিয়েছেন, রংপুরের নির্বাচনে যার প্রার্থী মনোনয়ন পাবেন, তার হাতেই যেতে পারে জাপার নিয়ন্ত্রণ। সাদ মনোনয়ন পেলে সংসদে ও দলে পাল্লা ভারী হবে রওশন এরশাদের।

১৯৮২ সালে সামরিক শাসন জারি করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন এরশাদ। এর দুই বছর পর এরশাদ-রওশন দম্পতির একমাত্র সন্তান সাদের জন্ম হয় বঙ্গভবনে। রাষ্ট্রপতির বাবা হওয়ার খবর সে সময় দেশজুড়ে আলোচিত হয়। ১৯৯৮ সালে বিদিশা সিদ্দিককে বিয়ে করেন এরশাদ। এরশাদ-বিদিশা দম্পতির একমাত্র সন্তান এরিকের জন্ম তার পরের বছর।

সূত্র: আমাদের সময়

দেশের আরো প্রতি মূর্হর্তের খবর জানুন এখানে

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

আরো পড়তে পারেন:  পবিত্র রোজার মাসে পবিত্র কোরআন পাঠে অনেক ফজিলত তাই বাংলা অর্থসহ কোরআন শুনুন এবং পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *