যে ৯ কারণে করোনাভাইরাসে আতঙ্ক নয়

বিশ্বের প্রায় ১০০ দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। তবে আতঙ্কিত না হয়ে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। 

চীনের বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে সতর্ক থাকা। সতর্কতা বিষয়ে যেসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, সেগুলো সাধ্যমত মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

আক্রান্ত হওয়া সহজ নয়
আক্রান্তের শারীরিক সংস্পর্শে ১৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে আসলে বা তার কফ-থুতু গায়ে লাগলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিকে রাস্তায় পার করতে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।

খুব সহজেই মোকাবিলা সম্ভব
শুধু ঘন ঘন হাত ধোয়ার মাধ্যমে সহজেই করোনাভাইরাস মেরে ফেলা সম্ভব। সাবান দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। হাতের দুই পৃষ্ঠ খুব ভালোভাবে ধুতে হবে। আঙুলের ফাঁক যাতে ভালোভাবে পরিষ্কার হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

স্বাভাবিক জ্বর-সর্দির মতোই করোনার উপসর্গ 
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থা স্বাভাবিক জ্বর-সর্দির মতোই হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে হাঁচি-কাশি হলে মুখে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সুস্থ মানুষের আক্রান্ত হওয়ার হার একেবারে কম
করোনাভাইরাসে সুস্থ মানুষের আক্রান্ত বা ‘সংকটাপন্ন’ হওয়ার হার একেবারেই কম। আক্রান্তদের আড়াই শতাংশের কম মৃত্যু ঝুঁকিতে থাকতে পারে। বলা হচ্ছে, এই রোগে যাদের মৃত্যু হয়েছে তারা বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা বা আগে থেকেই অন্য বড় রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

ল্যাব টেস্টে সংক্রমণ শনাক্ত সম্ভব
করোনাভাইরাস ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে সংক্রমণ শনাক্ত করা সম্ভব। ভাইরাস শনাক্তের ১৩ দিনের মাথায় ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে এই ভাইরাস শনাক্ত করা গেছে। রটারড্যাম, লন্ডন এবং হংকংয়ের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় বার্লিনের চ্যারিটি বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের বিজ্ঞানীরা ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে করোনাভাইরাস শনাক্তের পথ খুঁজে পান।

কোয়ারেন্টিন পদ্ধতি কাজে আসছে
করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের আলাদা করে রাখায় নতুন করে সংক্রমণের সংখ্যা কমছে। চীনের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোয়ারেন্টিন পদ্ধতিতে অনেক প্রদেশে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যতে নেমে এসেছে।

আরো পড়তে পারেন:  জুনের আগে যাবে না করোনা

প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ
সঠিক ব্যবস্থা নিলে করোনাভাইরাস বিস্তার ভৌগোলিকভাবেই আটকানো সম্ভব। বিশ্বের বহু দেশে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

বিজ্ঞানীদের গবেষণা চলছে 
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ে নানা ধরনের গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। গবেষকরা করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সতর্কতামূলক নানা আর্টিকেল লিখছেন এবং তা জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

শিগগিরই প্রতিষেধক
চীনের উহানে করোনাভাইরাস সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে এর উৎস, প্রকৃতি ও সংক্রমণের ধরণ শনাক্ত হয়েছিল। যেখানে এইচআইভি এইডসের ক্ষেত্রে সময় লেগেছিল দুই বছর। অনেক দূর প্রতিষেধক টিকা উদ্ভাবনের কাজও এগিয়েছে। খুব শিগগির তারা করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক নিয়ে সুখবর দিতে পারবেন বলে চীনের গবেষকরা জানিয়েছেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

Loading...
আরো পড়তে পারেন:  ২১ নভেম্বর: ইতিহাসে আজকের এই দিনে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *