ভারতে করোনা পরীক্ষা করতে যাওয়া চিকিৎসকদের পাথর নিক্ষেপ (ভিডিওসহ)

 

 

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে করোনাভাইরাস উপসর্গ পরীক্ষা করতে গেলে স্বাস্থ্যকর্মী ও পৌর কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করেছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ লোকজন।

বুধবারের ওই হামলায় দুই নারী চিকিৎসক আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করেছে। এর দুদিন আগে রানিপুর এলাকায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন কর্মকর্তারা। এসময় তাদের নোংরা ভাষায় গালাগাল করা হয়।- খবর এনডিটিভির

এক ভিডিওতে দেখা গেছে, হালকা নীল রঙের পিপিই পরা দুই স্বাস্থ্যকর্মী পালিয়ে যাচ্ছেন। এসময় তাদের ওপর পাথর ও লাঠি নিক্ষেপ করছিল ক্ষুব্ধ লোকজন।

এ যাবতকালে মধ্যপ্রদেশে করোনাভাইরাসের ৭৬ শতাংশের উৎসস্থল ইন্দোর। রাজ্যটিতে ৯৩ জন আক্রান্ত হলে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।

গত কয়েক দিনে দেশটিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যু হলে হায়দারাবাদের গান্ধী হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলা করা হয়েছে।

সুরাট ও গুজরাট থেকেও চিকিৎসাকর্মীদের ওপর হামলার খবর এসেছে। এদিকে আতঙ্কিত বাড়ির মালিক ও হাউসিং সোসাইটির উচ্ছেদের মুখে সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছেন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকরা যখন প্রাণ বাঁচাতে লড়াই করে যাচ্ছেন, তখন তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ না করতে আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এমনকি চিকিৎসকদের হয়রানি করলে পুলিশি ব্যবস্থারও হুমকি দিয়েছেন তিনি।

এদিকে ভারতে বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১২ জন।

এনডিটিভির খবরে জানা গেছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৯৬৫ জন প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩২৪ জন।

এ ছাড়া ১৫১ জন রোগটি থেকে সেরে উঠেছেন বলে খবরে বলা হয়েছে। এর আগে ভারতে বুধবার একদিনেই ৪৩৭ ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন তামিলনাড়ুতে।

তাবলিগের দিল্লি মারকাজ মসজিদের ধর্মীয় জমায়েতে থাকা অন্তত সাত হাজার ৬০০ ভারতীয় এবং এক হাজার ৩০০ বিদেশিকে শনাক্ত করা হয়েছে।

আরো পড়তে পারেন:  করোনায় আরো তিনজন আক্রান্ত, মোট ৮

তাবলিগের গত মাসের ওই জমায়েত ভারতজুড়ে করোনাভাইরাসের ছড়ানোর সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে উঠেছে বলে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে।

ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা তাবলিগ জামাতের আরও সদস্য শনাক্ত হলে সংখ্যাটি বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

দিল্লির পশ্চিম নিজামুদ্দিন এলাকায় তাবলিগ জামাতের ওই মারকাজ বা কেন্দ্রকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার করোনাভাইরাসের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করে।

এর পর থেকে ভারতের ২৩টি রাজ্য ও চারটি কেন্দ্রশাসিত এলাকা ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করে সংগঠনটির এক হাজার ৩০৬ জন বিদেশি সদস্যকে শনাক্ত করে।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১ এপ্রিল পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যে দেখা গেছে, ওই বিদেশিদের মধ্যে এক হাজার ৫১ জন কোয়ারেন্টিনে আছেন, ২১ জনের দেহে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে এবং দুজন মারা গেছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা সব ধরনের সুযোগ ব্যবহার করে তাবলিগ জামাতের স্থানীয় সাত হাজার ৬৮৮ সদস্য ও তাদের সংস্পর্শে আসা লোকদের শনাক্ত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। কারণ এদের সবাইকেই কোয়ারেন্টিনে রাখতে হবে।

 

সূত্র: যুগান্তর

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

Loading...
আরো পড়তে পারেন:  ফেসবুক লাইভে এসে এক মাসের সন্তানের মুখে সিগারেটের ধোঁয়া, অতঃপর...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *