বিল বেশি তোলার জন্য দায়ী কয়েকটি বৈদ্যুতিক সামগ্রী

 

দেশে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য কত জানেন? ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড – বিপিডিসির দেয়া তথ্যমতে প্রথম ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য আপনাকে বিল গুনতে হবে ৩.৫০ টাকা প্রতি ইউনিট হারে। আর কোনভাবে যদি ৫০ ইউনিটের বেশি ব্যবহার করেন তাহলে ০ থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ইউনিট প্রতি বিল গুনতে হবে ৪ টাকা হারে। ইউনিট যত বাড়বে, প্রতি ইউনিটের দামও বাড়তে থাকবে। আর এর সাথে ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট ইত্যাদি তো আছেই। তাই বাড়তি বিল থেকে রক্ষা পাবার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় বিদ্যুৎ খরচ কমানো।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য বৈদ্যুতিক সামগ্রীর কোন অভাব নেই। লোডশেডিং এর সময়ে সবার বেহাল দশা দেখলেই তা বোঝা যায়। তাই প্রতি মাসে বেশ ভাল পরিমাণে বিদ্যুৎ খরচ আমাদের করতেই হয়। কিন্তু সবচেয়ে বেশি কারেন্ট টানে এমন সামগ্রী কোনগুলো? ফ্রিজ, এসি বা পানির পাম্পের মতন এমন খরুচে বৈদ্যুতিক যন্ত্রগুলো সম্পর্কে চলুন জেনে নিই –

রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ

ফ্রিজ
ফ্রিজ দিনরাত চলে

টিভি, ফ্যান, লাইট, ওভেন বা কম্পিউটার, এই ইলেকট্রিক যন্ত্রগুলি যতই বিদ্যুৎ টানুক না কেন, এগুলো কিছু নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই কিন্তু চলে। যেমন, শীতকালে হয়ত তেমন ফ্যান চলে না, শুধুমাত্র খাবার গরম করার সময়েই হয়ত ওভেন চলে, লাইট সাধারণত জ্বলে রাতে। কিন্তু অল্প যেসব সামগ্রী দিনরাত ২৪ ঘন্টা টানা চলতে থাকে তাদের মধ্যে প্রধান হল খাবার রাখার ফ্রিজ অথবা ডিপফ্রিজ। নিজেই মনে করে দেখুন, নষ্ট না হলে অথবা পরিষ্কার করার সময় ছাড়া আপনি কবে আপনার ফ্রিজটি অফ করেছিলেন? আর এমন টানা চলতে থাকা কোন যন্ত্র থেকে যে প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হবে, সেটিই কিন্তু স্বাভাবিক। বিভিন্ন হিসাবে দেখা যায় প্রকারভেদে বছরে ২৫০ থেকে ৮০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে একটি ফ্রিজ। তাই ফ্রিজ ব্যবহারের সময় থাকতে হবে সতর্ক। ফ্রিজের বিল কমানোর উপায়গুলো হল

  • সম্ভব হলে অনেক পুরাতন ফ্রিজ বদলিয়ে নতুন ফ্রিজ কিনুন। তুলনামূলক নতুন প্রযুক্তিতে ফ্রিজ কম কারেন্ট ইউজ করে।
  • ডিপ ফ্রিজে বরফ জমতে দেবেন না। গায়ে বরফের আস্তর জমে গেলে ফ্রিজের কর্মদক্ষতা কমে যায়, বাড়ে বিদ্যুৎ খরচ। পৌনে ইঞ্চি বা আধা সেন্টিমিটারের মতন বরফ জমে গেলেই তা পরিষ্কার করে ফেলা ভাল।
  • ফ্রিজের থার্মোস্ট্যাট ব্যবহার করতে শিখে নিন। সব সময় ফ্রিজের ভেতরে একই তাপমাত্রা দরকার না-ও হতে পারে। তাই ভেতরে টেম্পারেচার কম-বেশি করেও আপনি কারেন্ট বিল কমাতে পারেন।
  • ফ্রিজের দরজা কোনভাবেই বেশিক্ষণ খোলা রাখবেন না। এমনকি, ফ্রিজের ভেতরে জিনিসপত্র সাজিয়ে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন যেন ফ্রিজ খোলার আগেই আপনি জানেন ফ্রিজের ভেতর কোথায় কী আছে।
আরো পড়তে পারেন:  দেশে করোনা চিকিৎসায় রেমডেসিভিরের প্রয়োগ শুরু

শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র বা এয়ার কন্ডিশনার

এসি
এসি অনেক বিদ্যুৎ খরচ করে

ফ্রিজের পরেই বিদ্যুৎ বিল আকাশে তোলার দায়িত্ব যে নেয় তার নাম এসি। সংজ্ঞানুসারে আমাদের দেশ নাতিশীতোষ্ণ। তাই কিছুদিন আগেও আমাদের দেশে এখনকার মত এসির আধিক্য ছিল না। সময়ের সাথে সাথে যেমন বদলেছে মানুষের মানুষিকতা আর সহ্য ক্ষমতা, তেমনি বদলেছে সামর্থ্য আর এসির দাম। তাই ঘরে ঘরে এখন দেখা মেলে এক বা একাধিক এসির। কিন্তু দাম কমাতে গিয়ে দেখা যায় এসিম মান হয়ে যাচ্ছে নিম্ন। তাই এসি থেকে বিদ্যুৎ বিল আসছে হু হু করে। কীভাবে এসির বিল কিভাবে কমাবেন?

  • প্রতি বছরে একবার বা নির্দিষ্ট সময় পরপর একজন অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান দ্বারা এসিটি চেক করারন। সঠিক ফ্লুইড লেভেল, কুল্যান্ট চার্জ এবং ইনসুলেশন থাকাটা এসির জন্য খুবই জরুরী।
  • ঘরের যে অংশগুলো দিয়ে বাতাস প্রবেশ করতে পারে কিন্তু সচরাচর তা ব্যবহার করা হয় না বললেই চলে (যেমন ভেন্টিলেটর) সেগুলো বন্ধ করে দিন।
  • খুব ভালভাবে ঘরে ইনসুলেটর ইন্সটল করুন যেন তাপ ভেতর থেকে বাইরে বা বাইরে থেকে ভেতরে না আসতে পারে। তাহলে ঘর একবার ঠাণ্ডা হয়ে গেলে এসি অফ করেও অনেকক্ষণ রাখতে পারবেন। এতে বিদ্যুৎ খরচ কমে আসবে অনেকটাই।

ডিহিউমিডিফায়ার বা আর্দ্রতা কমানোর যন্ত্র

ডিহিউমিডিফায়ার
ডিহিউমিডিফায়ার

আমাদের দেশের প্রচন্ড গরমের একটি মূল কারণ হল জলীয়বাষ্প। আর্দ্রতা বা হিউমিডিটির কারণে তা আরও বেশি গায়ে লাগে। ডিহিউমিডিফায়ার হল আর্দ্রতা কমানোর যন্ত্র। আমাদের দেশে এখনো হয়ত বাসাবাড়িতে তেমন জনপ্রিয় নয় কিন্তু যে প্রচন্ড গরম আর আর্দ্রতা তাতে কয়েক বছরের মধ্যেই ঘরে ঘরে আর্দ্রতা কমানোর যন্ত্র দেখা গেলে তাতে অবাক হবার কিছু থাকবে না। আর এই ডিহিউমিডিফায়ার প্রচুর পরিমাণে বাড়িয়ে দিতে পারে বিদ্যুৎ খরচ।

ওয়াটার হিটার, পাম্প, ওয়াশিং মেশিন ইত্যাদি

ওয়াশিং মেশিন
ওয়াশিং মেশিন

বিদ্যুৎ বিলের আরেকটি বড় খরচ থাকে পানি সংক্রান্ত বিষয়ে। আমাদের দেশে শীত কাল যদিও খুব বেশি না কিন্তু অনেককেই দেখা যায় ওয়াটার হিটার ব্যবহার করতে। এই হিটার খুব অল্প সময়ে প্রচুর ইলেকট্রিসিটি টেনে নেয়। ফলে বিলও বেড়ে যায় অনেক।
হিটার হয়ত কম সময় ব্যবহার করা হয় কিন্তু পানির পাম্প কিন্তু ব্যবহার হয় প্রতিদিনই। আর এই পাম্পও আপনার পকেট থেকে খসিয়ে নিয়ে যায় অনেক টাকা শুধু মাত্র বিদ্যুৎ বিল বাবদ।
এখন ঢাকায় অনেককেই দেখা যায় ওয়াশিং মেশিন ব্যবহার করতে যা আরেকটি বড় উৎস বিদ্যুৎ বিলের। বিল কমানোর উপায় হল এগুলোর পরিমিত ব্যবহার।

আরো পড়তে পারেন:  ২৭ জানুয়ারি: টিভিতে আজকের খেলা সূচি

 

source: bproperty

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

Loading...
আরো পড়তে পারেন:  করোনাকে হারিয়ে দিচ্ছে শ্রমজীবীরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *