বিএনপি সরকারকে অবৈধ বলার নৈতিক ক্ষমতা হারিয়েছে শপথ গ্রহণ করে-সংসদে গিয়ে; আমি এটা হারাতে চাই না

 

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, বিএনপি এই অবৈধ সরকারকে অবৈধ বলার নৈতিক ক্ষমতা হারিয়েছে শপথ গ্রহণ করে, সংসদে গিয়ে। আমি এটা হারাতে চাই না। এই সংসদের বৈধতা প্রশবিদ্ধ করেই আমি আগামীদিনের রাজনীতি নিয়ে এগোবো। আমি যদি মেনেই নিই সংসদ বৈধ, ৯৭ শতাংশ আসন যাদের অনুকূলে সংসদে গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আমি কি কথা বলবো? শপথ গ্রহণ করে বিএনপি কতো বড় ভুল করেছে সময়ই বলে দিবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর বিএনপি ১২০ দিন বলেছে তাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেয়া ঠিক হবে না। কারণ শপথ নিলে থুথু মারা হবে, কিন্তু ১২১ দিনের মাথায় এসে তারা  মনে করেছে শপথ গ্রহণ দরকার, সংসদে আমরা যাবো। এটাই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমি মনে করেছি ঠিক হয়নি। বিএনপি তার কথার পরিবর্তন করতে পারলেও আমি নিজেকে পরিবর্তন করতে পারিনি।

শপথ নেওয়ার বিষয়টি বিএনপির সিদ্ধান্তহীন রাজনৈতিক কোনো দুর্বলতা বলে মনে করি না আমি। বাংলাদেশের অনেক বড় একটি রাজনৈতিক দল। বিএনপি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কৌশলগত কারণে সিদ্ধান্ত নেয়। আমরা ২০ দলীয় জোটে ছিলাম। সেটি অনেক সময় ঐকমত্য হয়েছে বা মিলেছে, অনেক সময় মতের মিল হয়নি। কৌশলগত কারণে এখন হয়তো বিএনপি মনে করছে, ২০ দলীয় জোটের চেয়ে ঐক্যফ্রন্টকে মূল্যায়ন করা বেশি দরকার বা ঐক্যফ্রন্টমুখী রাজনীতি বেশি জরুরি। তারা হয়তো মনে করছে, আমাদের এখন ওইরকমভাবে পারফর্ম করার সময়টা নেই, বিএনপি যে সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে তার অংশ আমরা নই। ফলে আমরা আমাদের মতো করে এগোতে চাই।

জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অন্য শরিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলিনি। বরং তাদের অনেকেই আমাকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বলেছেন, পার্থ আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভালো কাজ করেছেন। জোট থেকে বেরিয়ে ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চাপ আমাদের উপর ছিলো না। একদমই কোনো সরকারি চাপ ছিলো না আমাদের উপর। নতুন কোনো জোট গঠন করবো না। সরকারি দলে যাবো কি যাবো না এ ধরনের কোনো কথাবার্তা আসেনি। আমরা আসলে আমাদের দল নিয়ে ভাবছি। এখন আমরা দল গোছাবো। সারাদেশে দলের সাংগঠিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাবো। চেষ্টা সাংগঠনিকভাবে দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার। এর বাইরে কিছুই এখন চিন্তা করছি না।

জোটের রাজনীতিতে আমি অনেক প্রাধান্য পেয়েছি। অনেক বড় সিদ্ধান্তে আমার অংশগ্রহণ ছিলো। আমার মতামত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হতো। ২০ দলীয় জোটের সবচেয়ে পুরোনো দল তো বিজেপিই। জামায়াতে ইসলামীর তো নিবন্ধন নেই। আমাদের সঙ্গে বা বিজেপির সঙ্গে বিএনপি শপথ গ্রহণের আগে তো আলাপ করেইনি, শপথ গ্রহণের পরও কোনো ধরনের আলাপ আমাদের সঙ্গে করা হয়নি। বিজেপি জোট থেকে বেরিয়ে গেছে। এখন অন্যরা জোটে থাকবে কি থাকবে নাÑএটা তাদের ব্যাপার। আমি মনে করেছি ২০ দলীয় জোটে থাকা উচিত নয়। থাকবো না। কারণ এখানে রাজনৈতিক নীতিবোধগুলো মানা হচ্ছে না। মনে করুনÑগণশুনানি হয়েছে, গণশুনানির যে কর্মসূচি দেওয়া হবে এ ব্যাপারে বিএনপি আমাদের সঙ্গে কোনো কথা বলেনি। আমরা টেলিভিশনে দেখেছি ও জেনেছি গণশুনানি সম্পর্কে। শপথে যাওয়ার এতোবড় একটা সিদ্ধান্ত নিলো অথচ আমাদের জানোনো হয়নি।

জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি কারণ তারা হয়তো মনে করেছে আমাদের চেয়ে ঐক্যফ্রন্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ঐক্যফ্রন্টকে তারা প্রাধান্য দিচ্ছে। এটা হতেই পারে রাজনীতিতে। আজ আমি হয়তো ২০ দলীয় জোট ছেড়ে দিয়েছি, বিএনপি হয়তো … করছে ২০ দলীয় জোট ভেঙে যাচ্ছে। যদি বিএনপি ২০ দলীয় জোট ভেঙে দিতো ২ মাস পর তখন কি হতো? এখন আমি বের হয়ে গেছি বলে নানা রকম বিপদ-আপদের কথা উঠছে।

সরকার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করুক, কিন্তু তারা তো অবৈধ। ২০ বছর আগে আমার বাবা এরশাদের দলের সবচেয়ে পাওয়ারফুল মহাসচিব ছিলেন। সেই দলটি কেন ছেড়েছিলো জানেন? কারণ এরশাদ ৪ দল ভাঙতে বলেছিলেন। আব্বা তখন বলেছিলেন, স্যার, এই জোট এখন নীতিগতভাবে মানুষের মধ্যে ঢুকে গেছে। এই জোট যদি ভাঙতে যাই মানুষ ছুড়ে ফেলে দিবে। বর্তমান সংসদ নিয়ে মানুষ ঠাট্টা করে। শপথ নিয়ে বিএনপি নিজে ঠাট্টার পাত্র হয়ে গেছে। বিএনপি ভুল করেছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে।

তরুণদের নিয়ে কাজ করবো। আমরা মনে করি বড় দুই দলের অপরাজনীতির ফলে তারা রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়ছে। রাজনীতিটাকে তারা এখন অপশন হিসেবে নেয় না। একটা প্রজন্মই মনে করে রাজনীতি বলতে হরতাল, মারামারি, মামলা-মোকদ্দমা, ক্রসফায়ার। তারা রাজনীতিবিমুখ। আমরা চেষ্টা করবো কীভাবে তাদের রাজনীতিতে নিয়ে আসা যায়। সম্পৃক্ত করা যায়। আমরা চেষ্টা করবো কী হয় পরে দেখা যাবে।

এখন রাজনীতিটা এতো খারাপ করা হয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে যাতে ভালো মানুষেরা রাজনীতিতে না আসে। তারা যেন রাজনীতি থেকে দূরে থাকে, অন্য কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কর্মী যেমন কর্মচারীতে রূপান্তিরত হয় সেই ব্যবস্থাটাই করা হয়েছে রাজনীতিতে। এটা ইচ্ছা করেই করা হয়েছে। ভালো, শিক্ষিত মানুষ যাতে রাজনীতিতে না আসে। এই গ্রুপটাকেই আমাদের বের করে নিয়ে আসতে হবে। বড় দুই দল রাজনীতিতে কি দিলো এতোদিনে? আমি বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগ করবোÑআমি এই টাইপের রাজনীতি করি নাকি? নীতিবান কি কেবল সিনিয়ররাই হতে পারেন, জুনিয়রদের কেউ হতে পারেন না? সবাইকেই কি এ খোলসে বন্দি থাকতে হবে যে, এই জোট ছেড়ে ওই জোট যাওয়া!

আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার আত্মীয়তা তো আমার জন্মের আগে থেকেই, গেলে তো আমি অনেক আগেই যেতাম। এখন কেন এই আলোচনা হবে যে, আমি আওয়ামী লীগে যাবো কিনা? গেলে তো আরও ছয়মাস আগেও যেতে পারতাম। পাঁচ বছর আগেও তো যেতে পারতাম, এমপি-মন্ত্রী দুটিই থাকতে পারতাম। আমি আসলে আমার নীতিগত জায়গা থেকে নড়বো না। অটল থাকবো। নতুন কোনো জোট গঠন বা অন্য কোনো রাজনৈতিক জোটে যাবো না।

সূত্র: আমাদের সময়

দেশের আরো প্রতি মূর্হর্তের খবর জানুন এখানে

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *