বিএনপি চলছে কার সিদ্ধান্তে?

 

বিভুরঞ্জন সরকার : এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহের রাজনীতিটা নাটকীয়তায় ভরা থাকবে, এটা কমবেশি অনেকের জানা ছিলো। বিএনপির পাঁচ সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণের শেষ সময় ছিলো ২৯ এপ্রিল। শোনা যাচ্ছিলো, এর আগেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাবেন এবং বিএনপির এমপিরা শপথ নিয়ে সংসদে যাবেন। তাতে কারো কারো ভাষায় ‘অবৈধ’ সংসদ বৈধতা পেলেও সংসদ নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটবে কিনা সে প্রশ্নও ছিলো। প্রচার ছিলো বিএনপির সঙ্গে সরকারের একটি গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে সব কিছু হবে। কিন্তু গোপন কথাটি গোপন না থাকায় শেষ মুহূর্তে নাটকীয়তা, উত্তেজনা হলেও মূল চিত্রনাট্যে কিছু পরিবর্তন হলো। এখন আবার নতুন গুজব, নতুন সম্ভাবনা এবং নতুন প্রশ্ন সামনে আসছে।

সবচেয় বড় প্রশ্ন যেটা সামনে আসছে সেটা হলো, বিএনপি এখন কার নেতৃত্বে বা কার সিদ্ধান্তে বা কার নির্দেশে চলছে? এরপরের প্রশ্ন হলো, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেন শপথ না নিয়ে তার আসন শূন্য হওয়ার সুযোগ করে দিলেন? তারপর গুজব ও সম্ভাবনার কথা যে শোনা যাচ্ছে সেটা হলো, খালেদা জিয়া ফখরুলের শূন্য হওয়া আসনে উপনির্বাচনে জিতে সংসদে আসছেন! কারো কারো কাছে এটা কষ্ট কল্পনা মনে হতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি যে ধারায় চলছে তাতে এটা খুব অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে কি? এখন বিএনপিতে চলছে ইউ টার্নের রাজনীতি। যে কথা বলে বাজার গরম করা হবে, বাস্তবে করা হবে তার উল্টোটা। সংসদে যাবো না, এই সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, যারা সংসদে যাবে তারা গণদুষমন, বেইমান – এসব কথা বলে বলে বিএনপির বাকপটু নেতারা অনেকের কান ঝালাপালা করে দিয়েছেন।

এখন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘নির্দেশে’ দলীয় চার এমপি শপথ নেওয়ার পর ওই নেতাদের মুখে কুলুপ আঁটা! মনে হচ্ছে সরকারি চাপে বুঝি বিএনপি নেতারা বাকধর্মঘট করছেন! বিএনপির একজন আবাসিক নেতা আছেন, যিনি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের পদের অধিকারী, একসময় যিনি তুখোড় ছাত্র নেতা ছিলেন সেই রুহুল কবির রিজভী সাহেবকেও কথা বলতে বা ব্রিফ করতে দেখা যাচ্ছে না। বিস্ময়ের ব্যাপার! সব বিষয়ে কথা বলা যার অভ্যাস কার সিদ্ধান্তে তিনি চুপ আছেন?

রিজভী সাহেব সেদিন প্রথমে বললেন, ‘জোরজবরদস্তি ও চাপ প্রয়োগ করে বিএনপির নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ করিয়ে সংসদের বৈধতা আনার চেষ্টা করছে সরকার’। তার কিছুক্ষণ পরেই আবার বললেন, ‘তারেক রহমানের নির্দেশেই শপথ নিয়েছেন বিএনপির নির্বাচিতরা’। তার কোন কথাটা সত্য? ধরে নেওয়া যায় দ্বিতীয়টিই সত্য। তার মানে এখন বিএনপি চলছে ‘তারেক রহমানের নির্দেশে! হ্যাঁ, দলের স্থায়ী কমিটির সবাই মিলে তারেক রহমানকেই এককভাবে দল পরিচালনা করার দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি প্রাপ্ত ক্ষমতা বলেই এখন থেকে একক সিদ্ধান্তে দল চালাবেন।

বিএনপির সিনিয়র যেসব নেতা বলছেন যে কীভাবে শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হলো তা তারা জানেন না কিংবা এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে তারা একমত না – তারা ভুলে গেছেন যে তারা স্বেচ্ছায় সব ভার তারেকের হাতে তুলে দিয়েছেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, তারেক রহমান চার এমপিকে শপথ নেওয়ার নির্দেশ দিলেন আর দলের মহাসচিবকে দিলেন না কেন? এখানে ‘পলিটিক্স’টা কি? মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন তিনি দলের সিদ্ধান্তেই শপথ গ্রহণ থেকে বিরত রয়েছেন। দল এবং তারেক রহমান আলাদা আলাদা সিদ্ধান্ত নিলো? মির্জা ফখরুল তারেকের ‘নির্দেশ’ না মেনে মানলেন দলের ‘সিদ্ধান্ত’? এটা হতে পারে? না, তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে সব।

একজন পবীণ রাজনীতিবিদ আমাকে একটু ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, বিএনপির চমক দেখানো আরো বাকি আছে। এরপর বেগম জিয়া জামিন পাবেন, প্রথমে চিকিৎসা নিতে বিদেশ যাবেন তারপর দেশে ফিরে বগুড়া-৬ আসন থেকে উপনির্বাচনে জিতে এসে সংসদ আলোকিত করবেন। বেগম জিয়াকে বর্তমান সংসদে আনতে পারলে খুশিতে উল্লাস করবে আওয়ামী লীগ । প্রশ্ন হলো, বিএনপি কি সরকারকে উল্লসিত হতে দেবে? এখন পর্যন্ত যে দিচ্ছে তাতো দেখাই যাচ্ছে। সরকারের হাত অনেক লম্বা। বিএনপি এতোদিন সরকারে থেকেও সেটা কেন বুঝতে পারছে না – সে প্রশ্নও করা যেতেই পারে।

সূত্র: আমাদের সময়

দেশের আরো প্রতি মূর্হর্তের খবর জানুন এখানে

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *