বিএনপির ঘাড়ে সওয়ার হয়ে গণফোরামের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঘিরে গঠন হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এই ফ্রন্টের প্রধান দল বিএনপি। দলটির জনপ্রিয়তায় ওপর ভর করে সবচেয়ে বেশী লাভবান হয়েছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধিন গণফোরাম। এমনটাই মনে করেন বিএনপি ও গণফোরামের নেতাকর্মীরা।

আগামী দিনে রাজনীতিতে নিজেদের শক্তি জানান দিতে কৌশলী সব সিদ্ধান্ত নিয়ে ড. কামাল হোসেন দলকে ঢেলে সাজাচ্ছেন। ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গণফোরাম একটা শক্তিতে পরিণত করতে চান তিনি। এনিয়ে চিন্তিত নন বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা। তারা মনে করেন গণফোরাম তার সাংগঠনিক কর্মকান্ড করছে। এটা যেকোনো রাজনৈতিক দল করে থাকে। গণফোরামকে বিকল্প শক্তি হিসেবে ভাবতে চান না তারা।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম বলেন, বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করার আগে পর্যন্ত গণফোরামের রাজনৈতিকভাবে অবস্থান কি ছিলো তা তো সকলেই জানেন। এক কোটি ভোটের ব্যবধানে যিনি হেরে গেছেন তিনি কিভাবে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতার আসন পেলেন এটা আমার কাছে আজও বোধগম্য নয়।

শীর্ষনেতা থাকার কথা তো বেগম খালেদা জিয়া। ভবিষ্যতে এই দল রাজনীতিতে তাদের অস্বস্তিত কতটুকু ধরে রাখতে পারবে তা নিয়ে আমি সন্দিহান। দলের সাংগঠনিক বিষয় দেখভাল করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, ঐক্যফ্রন্টের একটি শরীক দল গণফোরাম। তাদের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা সমাচীন হবে না। বিএনপি নিজস্ব কৌশল নিয়ে কাজ করছে। অন্য দল তারা কি করবে তা আমাদের বলার বিষয় না।

দল গঠনের পর রাজনীতিতে খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করে সংসদে দুটি আসনে জয় পায় গণফোরাম। এরআগে পর্যন্ত রাজনৈতিক দল হিসেবে রাজনীতির মেইনস্ট্রীমে আসতে পারেনি। বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী জোট করার পর ড. কামালকে ফ্রন্টের শীর্ষনেতা করা হয়। এরপর থেকে প্রবীন এই আইনজীবী ও সংবিধান প্রণেতা রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেন। সঙ্গে তার দল গণফোরামও লাইমলাইটে আসে থাকেন।

নির্বাচন সামনে রেখে গণফোরামে যোগ দেন আওয়ামী লীগের সাবেক কয়েকজন নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রীর ছেলেরেজা কিবরিয়া। এছাড়া সামরিক বাহিনী থেকে অবসর প্রাপ্ত সাবেক ১০ সেনা কর্মকর্তা যোগ দেন গণফোরামে। বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎ করে দফায় দফায় বৈঠক করেন। ফলে মিডিয়া কভারেজসহ সাধারণ মানুষ অপেক্ষায় থাকে ড. কামাল হোসেন কি বলেন সেদিকে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গণফোরাম সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়িয়ে দেয়। দল গঠনের ৮ বছর পর দলের কাউন্সিল করেন ড. কামাল।

সূত্র: আমাদের সময়

দেশের আরো প্রতি মূর্হর্তের খবর জানুন এখানে

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *