বিএনপিতে টানাপড়েন

 

‘তারেক রহমানের একক’ সিদ্ধান্তে নাটকীয়ভাবে দলীয় চার সংসদের শপথ নেয়া আর মহাসচিবের অস্পষ্ট অবস্থান নিয়ে সন্দেহ, অবিশ্বাস ও দ্বিধাবিভক্তি ছড়িয়ে পড়েছে বিএনপিতে। পরিণতিতে নতুন সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে দলটি। ‘শপথ নেবো না, সংসদে যাবো না’- এমন ধনুর্ভঙ্গ পণ থেকে সরে এসে স্থায়ী কমিটিসহ সিনিয়র নেতাদের অন্ধকারে রেখে লন্ডন থেকে হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত এলো- এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বিএনপির কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে। শপথ নেয়ার ‘অপরাধে’ স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ঠাকুরগাঁও-৩ থেকে নির্বাচিত জাহিদুর রহমান জাহিদকে বহিষ্কার করা হয়। বাকিরা শপথ নিলে তাদের পরিণতিও একই হবে বলে হুঙ্কার ছেড়ে দেয়া হয় কঠোর বার্তা। এমনকি শপথ নেয়ার জন্য দলীয় ৪ এমপি যখন সংসদ ভবন অভিমুখী তখনো নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে দল আগের অবস্থানে অটল রয়েছে বলে জানান দেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এর ঘণ্টাখানেক পর কী এমন ঘটল যে, তারেক রহমান সম্পূর্ণ ইউটার্ন নিলেন। দলীয় নির্বাচিতদের শপথ নেয়ার নির্দেশ দিলেন। কেন মির্জা ফখরুলের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে দলের কোনো সিনিয়র নেতা তার পাশে উপস্থিত ছিলেন না। কেন রুহুল কবির রিজভী শপথ প্রশ্নে মুখ বুঝে রয়েছেন। শপথ নেয়ার প্রশ্নে তারেক রহমানের সম্মতি যদি থাকে এ প্রশ্নে তারেক রহমান কেন কোনো বিবৃতি দেননি। কেন তিনি তা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের অবহিত করলেন না। বিষয়টি নিয়ে স্থায়ী কমিটি কেন মহাসচিবের পাশে নেই। কেন মহাসচিব নিজে শপথ নিলেন না। শপথ না নেয়াটা কৌশলের অংশ হিসেবে মহাসচিব যে অজুহাত দেখিয়েছেন সে কৌশলটি কী? সংসদ সচিবালয় মির্জা ফখরুলের শপথ বিলম্বে নেয়ার আবেদনের কথা নিশ্চিত করলেও তা তিনি অস্বীকার করছেন কেন? শপথ নেয়ার সিদ্ধান্তটি সত্যিই তারেক রহমানের, নাকি মহাসচিবের সিদ্ধান্তই তারেকের নামে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে- এসব প্রশ্নে জবাব খুঁজছেন দলের নেতাকর্মীসহ কৌত‚হলী মহল। অনেকের সন্দেহ, এসবের পেছনে ‘রহস্যময়’ কোনো হাত রয়েছে। নতুন কোনো ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে মহাসচিবসহ নির্বাচিত এমপিদের।

বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মীই মনে করেন, শপথ নিয়ে এমপিরা দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তবে যারা বিশ্বাস করেন তারেক রহমানের নির্দেশেই শপথ নেয়া হয়েছে, তাদের অনেকেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ আবার সমর্থনও জানিয়েছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে শপথ নিয়েছেন কিনা এটা জানি না। উকিল আব্দুস সাত্তার শপথ নেয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক তাকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সাংসদ মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হতে পারত নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে চুপচাপ থাকা এবং যথাসময় সংসদে যোগদান করা। কিন্তু বিএনপির সিদ্ধান্ত ছিল নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করা এবং সংসদে না যাওয়া। কিন্তু ১২০ দিনের মাথায় বিএনপি তার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে নির্বাচনের ফল মেনে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে নিয়েছেন। সবচেয়ে বড় হঠকারিতা হলো, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশের দোহাই দিয়ে চারজন সংসদ সদস্য শপথ নিল; কিন্তু দলের মহাসচিব সেই নির্দেশ মেনে এখন পর্যন্ত শপথ নেননি। বিষয়টি অনেক ঘোলাটে মনে হচ্ছে! যারা মনে করছে বা ভাবছে সরকারের সঙ্গে আপসরফা করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবে, তারা শুধু দল ও জাতির শত্রু নয়; তারা খোদ খালেদা জিয়ার শত্রু। জনগণ এই শত্রুদের ধ্বংস কামনা করছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা খোন্দকার আকবর হোসেন বলেন, খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন যে একজনই ছিলেন এবং এ দলে যে আর তার মতো নেতা সহসাই জন্ম নেবে না, তা আবারো প্রমাণিত হলো। নিজের ও পরিবারের ওপর প্রচণ্ড চাপ, ভয়ভীতি, প্রলোভন, সব বিপদকে উপেক্ষা করে ২০০৭ সালের মধ্যরাতে বিএনপি ভাঙার ষড়যন্ত্র কীভাবে তিনি মোকাবেলা করেছিলেন তা আজ বড় নেতারা ভুলে গেলেও তৃণমূল নেতাকর্মীরা কখনোই ভুলে যাবে না।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আমার সঙ্গে মহাসচিবের কথা হয়নি। পার্টি যখন সিদ্ধান্ত দিয়েছে ভালোমন্দ বিচার করেই দিয়েছে। একজন কর্মী হিসেবে এ বিষয়ে আমার সমর্থন আছে।

সূত্র: ভোরের কাগজ

দেশের আরো প্রতি মূর্হর্তের খবর জানুন এখানে

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *