বাবার চেয়ে শ্বশুরকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

‘মানসিক দাসত্ব মারাত্বক জিনিস। মানসিক দাসত্বে যদি মানুষ আবদ্ধ হয়ে যায় তবে হাতের দাসত্ব সে চায় না। কারণটা কি মানসিক দাসত্বে টাকা পাওয়া যায়। সেজন্য সে এদিকে ঝুঁকে। যার একটি বড় উদাহরণ ঢাকা ইউনিভার্সিটি। মানসিক দাসত্বে তারা আবদ্ধ। জেনারেল স্টুডেন্ট থেকে ইভনিং এর স্টুডেন্টদের তারা বেশি গুরুত্ব দেয়।

সকালে ক্লাস হোক বা না হোক তাতে কিছু আসে যায় না এবং আরও অনেক প্রমাণ আমি দেখেছি। বাবা উপস্থিত থাকাবস্থায় যদি শ্বশুরকে বেশি আপ্যায়ন করা হয় সেক্ষেত্রে অর্থ কি? ঢাকা ইউনিভার্সিটি কিন্তু ঠিক তাই করছে। বাবা উপস্থিত মানে আমার নিজের শিক্ষার্থী আর শ্বশুর মানে একটু দূরের। ইভনিং স্টুডেন্ট তার প্রতি আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি অথচ বাবাকে চেয়ারে বসতে দিচ্ছি না। যা আমাদের জন্য কল্যাণকর হবে বলে আমি মনে করি না।’ কথাগুলো বলেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেবেকা সুলতানা। রোববার বইয়ের ফেরিওয়ালা(ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘এসো মানুষ হই সুশিক্ষায়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তৃতায় তিনি এই কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন,’এ ছেলেটা বেয়াদব এই টোনে যারা কথা বলেন তারা জাত টিচার নয়। যারা ছাত্রদের হুংকার দিয়ে কথা বলেন তারা জাত টিচার নন। তারা টিচার হওয়ার যোগ্য কিনা তাতেও সন্দেহ রয়েছে। শিক্ষকতাকে শুধু প্রফেশন হিসেবে নেয়া যাবে না এর মধ্যে প্যাশন ও প্রফেশন দুটই থাকতে হবে।’

সুশিক্ষার সংজ্ঞায় তিনি বলেন,’ শুধু শিক্ষা মানুষকে মানুষ করে তোলে এটি আমি কখনো বিশ্বাস করিনা, এখনো করিনা, ভবিষ্যতেও করবো না। সুশিক্ষা সম্পূর্ণ নিজের উপর নির্ভর করে। প্রমথ চৌধুরী বলেছেন-সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত। সুশিক্ষিত লোকদের ভিতর এবং বাহিরের রূপ একই থাকবে। নেলসন মেন্ডেলা বলেছেন-দুনিয়া পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার হল শিক্ষা। আমি মনে করি শুধু শিক্ষা না। দুনিয়া পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার হল সুশিক্ষা। ‘ সায়মার হত্যাকান্ড, জেলারের প্রতিদিন ১০লাখ করে আয় করা, তিতাসের এ্যাম্বুলেন্স আটকিয়ে রাখা এগুলো সুশিক্ষা হতে পারে পারে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আরো পড়তে পারেন:  সারাদেশে রেলস্টেশন পরিচ্ছন্নতার নামে লুটপাট

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মানুষের মৃত্যু আমায় আঘাত করেনা, আঘাত করে আমায় মনুষ্যত্বের মৃত্যু’ এই উক্তিটিকে উল্লেখ করে সুশিক্ষার আর একটি সংজ্ঞা মনুষ্যত্ব-মানবিকতা বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিসিএস এর প্রতি শিক্ষার্থীদের ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি নিয়ে সহযোগী অধ্যাপক রেবেকা সুলতানা বলেন,’ভিআইপির সংজ্ঞা হাইকোর্ট থেকে নির্ধারণ করে দিয়ে বিসিএস ক্যাডারদের হতাশ করেছে হাইকোর্ট। বিসিএস ক্যাডারই যে হতে হবে এই ধ্যান ধারণা পরিত্যাগ করতে হবে।’

তিনি শিক্ষার্থীদের বিশ্বজনীন হওয়ার ধারণা লালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,’আমাদের চিন্তাটাকে এত দূরে রাখবো যে একটা না একটা কিছু হবেই। সুযোগ হলো চলমান বাসের মতো। আমাদের চোখ কান খোলা রেখে সেটিকে গ্রহণ করতে হবে।’

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার রাজিয়া রহমান জলি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহের নিগার এবং দর্শন বিভাগের প্রভাষক অরিনা খাতুন জিনিয়া।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে জলি শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে মেহের নিগার বলেন,’তিন বছরের-পাঁচ বছরের বাচ্চাকে ধর্ষণ, পুড়িয়ে মারা সুশিক্ষা হতে পারে না।’
তিনি এসময় শিক্ষার্থীদের বেগম রোকেয়ার বই বার বার পড়ার অনুরোধ জানান।

সূত্র: Amadershomoy

দেশের আরো প্রতি মূর্হর্তের খবর জানুন এখানে

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *