বাদই পড়ছেন খোকন-আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা আজ

 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (ডিএসসিসি) মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে নূর তাপস। গতকাল আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভার পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও বিভিন্ন সূত্র এমনটাই দাবি করেছে। তাপস মনোনয়ন পাওয়ার মধ্য দিয়ে গত কয়েকদিনের জল্পনার অবসান হবে। আওয়ামী লীগের হয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ হারাবেন ঢাকা দক্ষিণের বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকন।এদিকে উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলামই দলের টিকিট পাচ্ছেন বলে গতকাল নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সূত্রের খবর, গতকাল সন্ধ্যার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এমন সিদ্ধান্তই গৃহীত হয়েছে। দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, আজ রবিবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঢাকার দুই সিটিতে দলটির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবে আওয়ামী লীগ। গতকাল মনোনয়ন বোর্ডের সভা শেষে ওবায়দুল কাদের প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান,া প্রার্থীদের বিষয়ে অধিকতর খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কাল (আজ) সকালে জানিয়ে দেওয়া হবে।

গত কয়েকদিন ধরেই নানা গুঞ্জন চলছিল

ঢাকা দক্ষিণে ক্ষমতাসীন দলটির মেয়র পদে কে মনোনয়ন পাচ্ছেন, এ নিয়ে। সব গুঞ্জন আলোচনা আর হিসাব-নিকাশের অবসান ঘটবে আজকের ঘোষণায়। গত সাড়ে চার বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, ডেঙ্গু মোকাবিলায় ব্যর্থতা এবং এ সংক্রান্ত বেফাঁস মন্তব্য, সিটির নাগরিক সুবিধা প্রাপ্তির পরিবর্তে ভোগান্তি সৃষ্টিসহ অনেক কারণেই সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডও আগে থেকেই প্রার্থী পরিবর্তনের পক্ষেই ছিল সরব। এরই আলোকে আলো পড়েছে শেখ ফজলে নূর তাপসের ওপর। অন্যদিকে ঢাকা উত্তরে আস্থা রাখা হতে পারে মেয়র হিসেবে মাত্র নয়মাস দায়িত্ব পালন করা ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলামের ওপরেই।

আরো পড়তে পারেন:  করোনাভাইরাস ঠেকাবে এই ফল!

চলমান শুদ্ধি অভিযানে আওয়ামী লীগ দল এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনে । বিতর্কিত কর্মকা-ে জড়িতরা একে একে পদ হারান। দলীয় নেতারা বলছেন, সেই শুদ্ধি অভিযানের আলোকেই সর্বশেষ সংযোজন ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন।

২০১৫ সালে জুনে ডিএসসিসির মেয়র হিসেবে সপথ নেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ছেলে সাঈদ খোকন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়ে গত সাড়ে চারবছরে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। তবে তার বাস্তবায়ন হয়েছে সামান্যই।

দক্ষিণের নগর ভবন সূত্র জানায়, গত দুই বছরের অধিক সময় ধরে ডিএসসিসি এলাকার সকল পার্ক ও মাঠ পুনঃনির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বন্ধ করে রাখা হয়। যদিও এ কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে বারবার। বেশিরভাগ পার্ক ও খেলার মাঠ উন্নয়নে বরাদ্দ টাকার বিপরীতেও টাকার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। উন্নয়নের নামে বন্ধ ওসমানী উদ্যান ও শিশু পার্ক। কেবল এসবই নয়, পুরো রাজধানী মশার নগরীতে পরিণত হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি সাঈদ খোকনকে। এর বাইরে নগর ভবনের ঠিকাদারী কাজ নিয়ন্ত্রনে কয়েকজন বন্ধুদের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন ঠিকাদার সিন্ডিকেট। যেখানে কমিশন ছাড়া একটি কাজও পাননা ঠিকাদাররা। এর বাইরে করপোরেশনের বড় বড় কাজগুলো বিএনপিপন্থী ঠিকাদাররা বেশি কমিশন দিয়ে নিয়ে যান এমন অভিযোগ আওয়ামী লীগপন্তী ঠিকাদারদের। সূত্র জানায়, এ কাজে কেবল মেয়র ঘনিষ্ঠরাই দায়ী নয়, যুক্ত আছেন কয়েকজন প্রকৌশলীও।

সর্বশেষ রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটলে বেফাস মন্তব্য করে সমালোচনার পাত্র হন সাঈদ খোকন। এমনকি মশার ওষুধ ক্রয়েও নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে ।

জানা যায়, মেয়র সাঈদ খোকনের সঙ্গে দূরত্ব রয়েছে স্থানীয় আওয়ামীলীগেরও। হাতেগোনা কয়েকজন কাউন্সিলরের বাইরে আর কেউ নেই তার সঙ্গে। কমিশনকান্ড, ঠিকাদারী কাজে বিএনপিপন্তীদের আধিক্য, মশক দমন ও নানা উন্নয়নকাজে ধীরগতির বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডও। তবে এ বিষয়ে সতর্ক হননি তিনি। ফলে মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন হারিয়ে তার মাশুল দিতে হতে পারে খোকনের। এর আগে যদিও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা তাকে নানাভাবে সতর্ক করেন।

আরো পড়তে পারেন:  ৭ নভেম্বর: ইতিহাসে আজকের এই দিনে

এদিকে ব্যরিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়ায় হচ্ছে এমন সংবাদে রাতেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল করেছে দলীয় নেতাকর্মীরা। গণভবন প্রাঙ্গণেও তাপসের পক্ষে ছিলো স্লোগান। ফজলে নূর তাপস ঢাকা-১০ আসনের সাংসদ ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগনে ও যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে তাপস। তার বড় ভাই শেখ ফজলে শামস পরস আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান।

 

সূত্র: আমাদের সময়

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *