বাইডেনের বিজয়ে পুনর্মূল্যায়িত হবে সউদী-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক

সউদী আরব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুবাদে যে অবাধ ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা উপভোগ করেছে, সেটি ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে নাও পেতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেন বিজয়ী হলে হোয়াইট হাউস সউদী-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়িত হবে এবং কৌশলগতভাবে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে হলে সউদীকে আরও সাবধানতার সাথে পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সউদীকে পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে রিয়াদের মানবাধিকার অবস্থা, ২০১৮ সালে ওয়াশিংটন পোস্টের সউদী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে নৃশসংসভাবে হত্যা এবং নারী আন্দোলন কর্মীদের আটক সহ ইয়েমেন যুদ্ধের মতো বিষয়গুলি বাইডেন প্রশাসনের কাছে মূল নিয়মক হয়ে দাড়াবে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে শক্তি প্রদর্শনের খেলায় সউদী আরব শত্রæ ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের পক্ষে ট্রাম্পকে কঠোর তদবির করেছিল যার ফলে ওয়াশিংটন ২০১৮ সালে ওয়াশিংটন ইরানের সাথে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসে। এই ইস্যুতে বাইডেন তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলির বিষয়ে এবং ইরানের সাথে পারমাণবিক চুক্তি পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে আঞ্চলিক প্রতিনিধিদের সাথে যেকোনও আলোচনায় সমর্থন করবেন। বাইডেনের এক প্রচার মুখপাত্র বলেছেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে একনায়ক ও স্বৈরশাসকদের খালি চেক দেয়ার ব্যবস্থা করলেও, জো বাইডেন মিত্রদের ও শত্রæদের জন্য বিশ^জনীন মূল্যবোধের পক্ষে থাকবেন এবং গণতান্ত্রিক বিশ্বের পাশে দাঁড়াবেন যেভাবে আমরা সার্বজনীন চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলা করি।’ রিয়াদের গাল্ফ রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান আবদুলাজিজ সাগর বলেছেন, ‘উদ্বেগের বিষয় যে, বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার অর্থ মধ্য প্রাচ্যের প্রতি মার্কিন মনোযোগ হ্রাস পাবে এবং সবচেয়ে খারাপ দিক হ’ল, সউদী আরব এবং উপসাগরীয় দেশগুলির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কঠোরতর হবে।’

সংযুক্ত আরব আমিরাত তার বাজি ধরে রেখেছে, ইয়েমেনে সামরিক উপস্থিতি হ্রাস করেছে এবং ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য গত চার শতাব্দীর মধ্যে প্রথম আরব রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে। তারা ইরান ও অন্যদের বিরুদ্ধে একটি নতুন অক্ষ তৈরি করেছে। ইউএই এবং কাতার সহ উপসাগরীয় দেশগুলি সাথে মার্কিন এফ-৩৫ ফাইটার জেট সংগ্রহের পাশাপাশি অস্ত্রের চুক্তি চালিয়ে যাওয়ার জোর চেষ্টা করছে। ইসরাইল ইস্যুতে বাহরাইন সউদীকে অনুসরণ করেছে, ট্রাম্পকে মার্কিন-দালালীতে জিতিয়েছে, যা দ্বিপক্ষীয় সমর্থনও অর্জন করেছে। প্রক্রিয়াটির একটি সূত্র বলেছে, ‘উপসাগরীয় দেশগুলি সম্পর্ক স্থাপনের অন্যতম কারণ হ’ল কয়েক মাস আগে তারা বুঝতে পেরেছিল যে, তারা অতীতের মতো যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভর করতে পারে না। ইসরাইল তাদের জন্য একটি প্রাকৃতিক অংশীদার।’ সউদী কলাম লেখক মোহাম্মদ আল আল-শেখ স্থানীয় দৈনিক আল জাজিরাহতে লিখেছেন, ‘এটি এমন একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে, যা ইরানের সাথে চুত্তি করার ক্ষেত্রে প্রার্থী বাইডেন উপেক্ষা করতে পারবেন ন্’া

আরো পড়তে পারেন:  করোনা চিকিৎসায় 'প্লাজমা থেরাপি' শুরু করবে দিল্লি

সউদী আরব ইসরাইলের চুক্তিগুলিকে সুস্পষ্টভাবে সমর্থন করেছিল। তবে, খুব শীঘ্রই ইসলামের পবিত্রতম স্থানগুলির রক্ষাণাবেক্ষণকারী হিসাবে এবং ২০০২ সালে আরব পিস ইনিশিয়েটিভের স্থপতি হিসাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিনিময়ে ইসরাইলের সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়ার কারণে এই পদে যোগদানের সম্ভাবনা নেই। রিয়াদ বলেছে যে, কেবল ইসরাইল-ফিলিস্তিন চুক্তিই স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে পারে। রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের সাবেক চিফ অফ মিশন ডেভিড রুনডেল বলেছেন, ‘সউদীরা সম্ভবত নির্বাচনের আগে ইসরাইলকে স্বীকৃতি জানাতে অগ্রসর হবে না কারণ এই একটি তাস, যা তারা বাইডেন প্রশাসনের সাথে খেলতে পারে।’ উপসাগরীয় শক্তিগুলি একজোট হয়ে রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার বিষয়টি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। রিয়াদ এবং তার মিত্ররা কাতারকে বয়কট করেছে। উপসাগরীয় দু›টি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প যদি জেতেন তবে রিয়াদ এই বিরোধের সূত্র ধরে ইরানের বিরুদ্ধে সংযুক্ত উপসাগরীয় আরব মোর্চা গঠনের চেষ্টা করবে। আরেকটি সূত্র বলেছে, ‘এটি বাইডেনের পক্ষে এত বড় ইস্যু নাও হতে পারে, তবে যদি তিনি এর পক্ষে চাপ দেন, তবে আমরা পরিস্থিতির ফলাফল দেখতে পাব।’ সূত্র : ডন।

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

Loading...
আরো পড়তে পারেন:  রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম চিনবেন যেভাবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *