ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরাইলি নীতি গ্রহণযোগ্য নয় : এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান বলেছেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইহুদিবাদী ইসরাইল যে নীতি অনুসরণ করছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ইসরাইলের নীতি তেল আবিব এবং আঙ্কারার মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার ইস্তাম্বুলে জুমার নামাজের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন এরদোগান। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ফিলিস্তিন বিষয়ক নীতি হচ্ছে আমাদের রেড লাইন। ইসরাইল এখন ফিলিস্তিন বিষয়ে যে নীতি অনুসরণ করছে তা আমাদের পক্ষে গ্রহণ করা অসম্ভব। তাদের নির্মম কাজগুলো অগ্রহণযোগ্য’। এরদোগান বলেন, ইসরাইলের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু ব্যক্তির সঙ্গে তুরস্কের ইস্যু রয়েছে। যদি তুরস্ক নিয়ে তাদের কোনো ইস্যু না থাকতো, তাহলে আমাদের সম্পর্ক অন্যরকম হতো। এরপরই এরদোগান বলেন, ‘আমরা ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করতে চাই’। চলতি মাসের প্রথম দিকে ইসরাইলে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক। তুর্কি পদক্ষেপের মধ্যদিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে আংকারার সম্পর্কোন্নয়নের প্রচেষ্টার প্রতিফলন ঘটেছে। ২০১৪ সালে তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস পবিত্র জেরুজালেম আল-কুদস শহরে স্থানান্তর করা হয়। এর প্রতিবাদ জানিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট ইসরাইল থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করেন। ওই সময় আঙ্কারা ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে। দুই দেশের মধ্যে ২০১৮ সালে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার হলেও দুই দেশের মাঝে শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। যদিও গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনের কাছ থেকে জোরপূর্বক দখল করে পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি নির্মাণ, গাজা অবরোধ ও ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসা ইস্যুতে ইসরাইলি কার্যক্রমের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক। এরদোগান বলেন, তাদের সঙ্গে আমাদের মূল সমস্যা আসলে শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি। ফিলিস্তিন নীতিমালা আমাদের রেড লাইন। আমাদের জন্য ইসরাইলের নির্মম ফিলিস্তিন নীতিমালা অগ্রহণযোগ্য। ইসরাইলের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক উন্নয়ন প্রসঙ্গে এরদোগান বলেন, আমরা আমাদের সম্পর্কগুলো আরেকটু ভালো অবস্থানে নিতে চাই। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। আজারবাইজান সম্প্রতি আর্মেনিয়ার কাছ থেকে নাগারনো-কারাবাখ অঞ্চলে যুদ্ধে জয় পেয়েছে। তুরস্ক ও ইসরাইলের ড্রোন ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে তাদের বিশেষ সহায়তা করেছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা জানিয়েছে, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ গত সপ্তাহে এরদোগানকে ফোন করে ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়ে কথা বলেন। আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেইহান বেইরামুভ ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাবি আশকেনাজির সঙ্গে একই বিষয়ে কথা বলেন। আজারবাইজান চায়, ইসরাইল ও তুরস্ক তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করুক। প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের মাভি মারমারা সংকটের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। তখন তুরস্কের একটি জাহাজ বহর ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় সাহায্য পৌঁছাতে গেলে ইসরাইল সেখানে হামলা চালায়। এতে ১০ ত্রাণকর্মী নিহত হন। এই হামলার পর তৎকালীন তুর্কি প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান বলেন, এই নির্বিচার হত্যাকান্ডের জন্য ইসরাইলকে শাস্তি পেতে হবে। পরে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তুরস্কের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে ওই ঘটনার জন্য তিনি ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেন। পরে তুরস্ক-ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০১৬ সালে দেশ দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নিলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ফিলিস্তিনিরা। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বিক্ষোভরত ৬২ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরাইলি বাহিনী। ওই হামলার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইতান নাভেহকে বহিষ্কার করে তুরস্ক। ডেইলি সাবাহ, মিডলইস্ট মনিটর।

আরো পড়তে পারেন:  এক ভুলেই ইতালিতে মহামারি

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

DSA should be abolished
/ জাতীয়, সব খবর
Loading...
আরো পড়তে পারেন:  ইসরাইলকে পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করার আহ্বান জাতিসংঘের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *