প্রিয় নবী যেভাবে কাঁদতেন

 

হাসি এবং কান্না জীবনেরই অংশ। কান্না না থাকলে মানুষ হাসির মর্ম যেমন বুঝতো না। তেমনি হাসি না থাকলে কান্নাও থাকতো না। হাসি এবং কান্না জীবনের সাথেই একই সুতোয় গাঁথা।

নানা কারণেই পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ কান্না করে। তেমনি একজন মানুষ হিসেবে মহানবী (সা.) এর জীবনেও ছিল হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার অনুভূতি।

বিভিন্ন সময় নানা কারণে মহানবী (সা.)কান্না করেছেন। সুখে-দুঃখে আল্লাহকে স্মরণ করে তিনি অনুচ্চ আওয়াজে কান্না করতেন। আল্লাহর দরবারে প্রার্থনারত অবস্থায় কাঁদতেন। তিনি কখনো বিলাপ করে কান্না করতেন না।

নামাজের সময় কান্না করতেন আমাদের প্রিয় নবী। আবদুল্লাহ ইবন সিখখির (রা.) বলেন, ‘আমি মহানবী (সা.)-এর খেদমতে উপস্থিত হলাম। তখন তিনি নামাজরত ছিলেন। তাঁর বক্ষদেশ থেকে জ্বলন্ত চুলার পানি ভরা পাত্র থেকে যেরূপ আওয়াজ আসে সেরূপ আওয়াজ আসছিল।’ (শামায়েলে তিরমিজি:৩০৭/১)

আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা.) বর্ণনা করেন, একবার মহানবী (সা.)-এর জীবদ্দশায় সূর্যগ্রহণ হয়। মহানবী (সা.) মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়া শুরু করেন। এ নামাজে এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকেন মনে হয়েছে যেন আর রুকুতে যাবেন না। অতঃপর রুকুতে যান। এত দীর্ঘ সময় রুকু করেন মনে হয়েছে যেন রুকু থেকে আর দাঁড়াবেন না। এরপর রুকু থেকে উঠে কাওমায় (রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানো) এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন, মনে হলো যেন আর সিজদা করবেন না। সিজদা এত দীর্ঘ করলেন মনে হলো যেন সিজদা হতে মাথা উঠাবেন না।

অনুরূপভাবে সিজদা থেকে উঠে দুই সিজদার মধ্যে এত দীর্ঘ সময় বসে থাকেন মনে হলো আর সিজদা করবেন না। এভাবে দ্বিতীয় রাকাতও দীর্ঘ সময় নিয়ে আদায় করেন এবং কাঁদতে থাকেন। (শামায়েলে তিরমিজি:৩০৯/৩)

আয়াত শুনে কান্না কতেন আমাদের প্রিয় নবী। মহানবী (সা.) একবার আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.)-কে বলেন, হে আবদুল্লাহ! তুমি আমাকে কোরআন তিলাওয়াত করে শোনাও। আবদুল্লাহ বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার প্রতি কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে, আর আমি আপনাকে কোরআন পড়ে শোনাব!

আরো পড়তে পারেন:  রাস্তায় মরে পড়ে থাকা ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন

মহানবী (সা.) বলেন, আমার মন চায় অন্যের মুখে কোরআন তিলাওয়াত শুনি। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) যখন তিলাওয়াত করতে করতে সুরা নিসার আয়াত ‘ফা কাইফা ইজা জি-না মিন কুল্লি উম্মাতিম বি শাহিদিন ওয়া জি-না বিকা আলা হাওলায়ে শাহিদা’ পর্যন্ত পৌঁছেন, তখন তিনি (রাসুল) কাঁদতে থাকেন। (শামায়েলে তিরমিজি:৩০৮/২)

প্রিয়জনের জন্য কান্না করতেন আমাদের প্রিয় নবী। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বলেন, ‘উসমান ইবনে মাজউন (রা.)-এর মৃত্যুর পর মহানবী (সা.) তাঁর ললাটে চুম্বন করেন। তখন মহানবী (সা.)-এর চোখ থেকে অশ্রু ঝরছিল।’ (শামায়েলে তিরমিজি:৩১১/৫)

আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, ‘মহানবী (সা.)-এর কন্যা উম্মে কুলসুম ইন্তেকাল করার পর, তার কবরের পাশে বসে ছিলেন। তখন তাঁর চোখ মোবারক থেকে অশ্রু ঝরছিল।’ (শামায়েলে তিরমিজি:৩১২/৬)

মহানবী (সা.)-এর কোন এক কন্যা মুমূর্ষু অবস্থায় উপনীত হলে তিনি তাকে স্বীয় কোলে উঠিয়ে নেন। তখন মহানবী (সা.)-এর সামনেই তার মৃত্যু হয়। মহানবী (সা.)-এর দাসী উম্মে আইমান, তখন উচ্চৈঃস্বরে কাঁদতে থাকেন। মহানবী (সা.) তাকে বললেন, তুমি আল্লাহর নবীর সামনে এভাবে উচ্চৈঃস্বরে কাঁদছ!

উম্মে আইমান বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপানাকেও তো কাঁদতে দেখছি। মহানবী (সা.) বললেন, এটা ওই নিষিদ্ধ কান্না নয়। এটা আল্লাহর রহমত। (শামায়েলে তিরমিজি:৩১০/৫)

 

সূত্র: বিডি জার্নাল

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *