প্রধানমন্ত্রীকে পাশ কাটিয়ে সুদানে মিশনপ্রধান নিয়োগ!

 

প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত না করে সুদানের মিশনপ্রধান নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণাললের বিরুদ্ধে। সরকারের রুলস অব বিজনেস (কার্যবিধি) অনুযায়ী রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও সিডিএ (চার্জ দি অ্যাফেয়ার্স) নিয়োগ দিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন ভুল করার কথা না অথচ বাস্তবে তা-ই হয়েছে। এটা রুল অব বিজনেসের লঙ্ঘন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিসিএস (নিরীক্ষা ও হিসাব) ক্যাডারের কর্মকর্তা মাইনুল হাসান বর্তমানে ব্রুনাইয়ের বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর হিসেবে কর্মরত। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সেখানে কর্মরত আছেন তিনি। এর মধ্যে ২০১৮ সালে তিনি ক্যাডার বদল করে অ্যাডমিন ক্যাডারে যুক্ত হন। বর্তমানে তাঁর নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সূত্র মতে, ব্রুনাইয়ে চাকরির মেয়াদ তিন বছর পূর্ণ হওয়ার পরও মাইনুল হাসান দেশে ফেরেননি। সেখান থেকেই তাঁকে সুদানে নবগঠিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর এবং সিডিএ হিসেবে বদলি করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত ১৬ আগস্ট মাইনুল হাসানকে নতুন এ পদে নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই দিন তাঁর আর্থিক সুবিধাদি সম্পর্কিত আদেশও জারি করা হয়।

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে কার্যবিধি সম্পর্কিত বিষয়গুলো নির্ধারণ হয় সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রণীত রুলস অব বিজনেসের মাধ্যমে। এর দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৭ নম্বর রুলে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কোন কোন বিষয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন লাগবে, তার উল্লেখ রয়েছে। ৭ নম্বর রুল (শিডিউল নম্বর ৪, সিরিয়াল নম্বর ২৮) অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, মিনিস্টার ও চার্জ দি অ্যাফেয়ার্স নিয়োগ এবং প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিডিএ নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিতে হয় না।’ রুলস অব বিসনেসে এ কথা লেখা আছে জানালে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি দেখে কথা বলতে হবে।’

আরো পড়তে পারেন:  নবী করিম (সা.)-এর সহনশীলতা ও ক্ষমা

সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি দেশের মিশনপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পূর্ববর্তী জীবনের খুঁটিনাটি বিষয়ও নিবিড়ভাবে দেখা হয়। কারণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। মাইনুল হাসানের বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। মালয়েশিয়ার একজন নাগরিককে বাংলাদেশে ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে অসদাচরণের অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। মালয়েশিয়ান নাগরিককে ভিসা দেওয়ার পরও তাঁর পাসপোর্টে ভিসা কাটাকাটি করে নষ্ট করার প্রমাণ কালের কণ্ঠ’র হাতে রয়েছে। অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি পদোন্নতি পাওয়ার সময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে ভুয়া পদবি অবহিত করেছেন। ২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পদোন্নতি পাওয়ার তালিকায় তাঁর পদবি উল্লেখ করা হয়েছে, ‘উপ-হাইকমিশনার, বাংলাদেশ হাইকমিশন, ব্রুনাই’। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ব্রুনাইয়ে উপহাইকমিশনার নামে কোনো পদ নেই। মাইনুল হাসান সেখানে কাউন্সেলর হিসেবে কর্মরত, যা উপহাইকমিশনারের চেয়ে দুই ধাপ নিচের পদ।

বিদেশে বাংলাদেশের একাধিক দূতাবাস ও মিশনে কাজ করে আসা একজন অতিরিক্ত সচিব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজেদের সমান্তরাল সরকার মনে করে। তারা জনপ্রশাসনের অনেক বিষয় তোয়াক্কা করে না। দীর্ঘদিনের এমন কার্যক্রমের কারণে এখন তারা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে পাশ কাটিয়ে মিশনপ্রধান নিয়োগ  দিয়েছে। অথচ এ বিষয়ে রুলস অব বিজনেসে কী আছে, সেটাও তারা জানে না।’ বিষয়টি খুবই হতাশার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

সূত্র: যুগান্তর

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

Loading...
আরো পড়তে পারেন:  কানাডার জনপ্রিয় মডেলের ইসলাম গ্রহণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *