প্যারোলে মুক্তি পেয়ে খালেদা জিয়া বিদেশ গেলে বিএনপি’র নির্বাচিতরা সংসদে শপথ নেবেন

 

চলতি মাসের ৩০ তারিখের ভেতর রাজনীতির মাঠে ঘটতে পারে বেশ কিছু অভাবনীয় ঘটনা। পাল্টে যেতে পারে রাজনীতির পুরনো হিসেব নিকেশ। কারণ হিসেবে রাজনীতি সংশ্লিষ্ট ও পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিগত দিনে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দলের নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও পারেননি। পারেননি ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে মিলিতভাবেও একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে আনতে। বর্তমান সরকারের মেয়াদকাল পূর্ণ করা পর্যন্ত বড়ো রকমের কোনো অঘটন না ঘটলে বিএনপির করার কিছুই নেই। আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব না এটি দলের অনেক শীর্ষ নেতারাই বুঝে ফেলেছেন। ফলে বিএনপি ও সরকার পক্ষ চাইতে পারে, খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির ইস্যু নিয়ে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক অর্জনটা নিজেদের পক্ষে নিতে। বিএনপির নেতারা চাইছেন তাদের যেন সুষ্ঠু ও বাধাহীন পরিবেশে রাজনৈতিক কর্মকা-ের সুযোগ নিশ্চিত হয়। আর ক্ষমতাসীনরা চাইছে, বিএনপির নির্বাচিতরা যেন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়। বিএনপির সিনিয়র নেতা গয়েশ্বর রায় গতকাল বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্তি দেওয়া উচিত। তিনি অসুস্থ।

সরকারের এটি বোঝা উচিত। প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে আমি অবগত নই।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের মূল দাবি হচ্ছে চেয়ারপারসনের উন্নত চিকিৎসা। তার চিকিৎসার ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। এজন্য যা যা করা দরকার আমরা তাই চাচ্ছি। তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির দাবি জানিয়েছে। তার জন্য বোর্ড গঠন করা হয়েছে, দেখি তারা কি বলে। তার পরিবারের সদস্যরা চাচ্ছেন তার উন্নত চিকিৎসা হোক।’ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বিশেষ ক্ষেত্রে সাজাপ্রাপ্ত আসামি, কয়েদি ও হাজতিকে সরকার প্যারোলে মুক্তি দিতে পারে। সেটা হতে পারে চিকিৎসার জন্য বা জানাজায় অংশ নিতে। সাজাপ্রাপ্ত হলে প্যারোল হবে না- এ বক্তব্য সঠিক নয়। তিনি বলেন, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্ত হবেন কিনা সেটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আমি এক সময় ম্যাডাম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির কথাটা বলেছিলাম। তখন বিএনপি হাইকমান্ড এটাকে সহজভাবে নেয়নি। তারা মনে করেছিলেন এটা বিএনপির রাজনীতিতে পরাজয় হবে।’ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘জেল কোড অনুযায়ী কোনো আসামিকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার বিধান নেই। প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। তবে সরকার ইচ্ছা করলে কাউকে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্যারোলে মুক্তি দিতে পারে। এর আগে সেনাসমর্থিত সরকারের সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়েছিল।’

সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়

দেশের আরো প্রতি মূর্হর্তের খবর জানুন এখানে

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *