পেপটিক আলসার হওয়ার মূল কারণ কোনটি জানেন কি?

পেপটিক আলসার বর্তমানে খুব প্রচলিত একটি রোগ। যা নানা কারণে মানুষের দেহে বাসা বাঁধতে পারে। বিশেষ করে যারা সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণ করেন না অর্থাৎ খাবারে অনিয়মের কারণে এই রোগ হয়ে থাকে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল পেপটিক আলসার হওয়ার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। চলুন জেনে নেয়া যাক সেগুলো-

তিনি বলেন, অনেক সময় ধরে খালি পেটে থাকলে আমাদের পেটের উপরিভাগে যদি ব্যথা বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হয় তবে তাকে আমরা সাধারণত গ্যাস্ট্রিক পেইন বলে থাকি। আসলে গ্যাস্ট্রিক শব্দের প্রকৃত অর্থ পাকস্থলী বা স্টমাক। যাকে আমরা গ্যাস্ট্রিক পেইন বলে থাকি তা কিন্তু আসলে পেপটিক আলসারের ব্যথা। তবে পেটের উপরি অংশে শুধু পেপটিক আলসারের কারণেই ব্যথা হয় না, ব্যথা বা জ্বালাপোড়ার অন্য কারণও আছে।

মানুষের শরীরে খাদ্যগুলো পাকস্থলীতে জমা হয়। সেখান থেকে এসিড নিঃসরণ হয়। এই এসিড নিঃসরণ যেন চারদিকে না ছড়িয়ে যায়, তার জন্য কিছু ব্যবস্থা মানুষের শরীরে আছে। সবসময় এটি একটি ভারসাম্যের মধ্যে থাকে। এই ভারসাম্য যদি কোনো কারণে এসিডের দিকে বেশি চলে যায় এবং উপাদানের ক্ষমতা যদি কমে আসে, তাহলে পেপটিক আলসার রোগ হতে পারে। আর আলসার মানে সহজ বাংলায় হলো ঘা। ঘায়ে দীর্ঘসময় সুরক্ষা ক্ষমতা না থাকলে আলসার হতে থাকবে। সহজ ভাষায় বললে পেপটিক হলো খাদ্যভাণ্ডার পাকস্থলীর ঘা। অনেক কারণে এটি হতে পারে।

অনেকে ভাবে, বিভিন্ন ধরনের খাদ্য খেলে গ্যাস্ট্রিক হয়। অথবা শুধু ঝাল খেলে হয়। শুধু ঝাল খেলে যে গ্যাস্ট্রিক আলসার হবে- এমন কোনো প্রমাণ নেই। তবে দেখা গেছে, যারা অনেক বেশি টিনজাত খাবার খায় বা খাবার সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন পদার্থ আছে, এর ব্যবহার করলে তার গ্যাস্ট্রিক আলসার হওয়ার প্রবণতা বেশি।

আরো পড়তে পারেন:  পরকালে মুক্তির আশায় মুসলিম হয়েছি : গ্রেগ নুয়াকিজ

আবার শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অনেক বেড়ে গেলে গ্যাস্ট্রিক বা পেপটিক আলসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। হ্যালিকোবেকটার পাইলোরি নামের একটি ব্যাকটেরিয়া আছে। এটি ক্ষুদ্রান্তে থাকে। এসিডের মাত্রা অথবা সুরক্ষার ক্ষমতা বেড়ে গেলে ব্যাকটেরিয়া চলে আসে। তখন এই আলসার অথবা ঘাকে আস্তে আস্তে বাড়িয়ে দিতে পারে। অনেক দিনের গবেষণার পর এটি জানা গেছে। বর্তমানে এই সমস্যা হলে আগের ওষুধের পাশাপাশি আমরা অ্যান্টিবায়োটিকও ব্যবহার করে থাকি। তাই সমস্যার শুরুতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন, আর ভালো থাকুন।

 

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

Loading...
আরো পড়তে পারেন:  যেভাবে জানা যাবে পিইসি ও জেএসসির ফল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *