নেতারা ‘বিভেদ ভুললেও’সম্মেলনে যাননি রওশন

 

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের মহাসচিব রাঙ্গা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ

বছরজুড়ে নানা দ্বন্দ্বে খবরের শিরোনাম হওয়া জাতীয় পার্টি (জাপা) শান্তিপূর্ণভাবেই সম্মেলন করেছে। বিভেদ ভুলে জ্যেষ্ঠ নেতারা মঞ্চে পাশাপাশি বসেছেন। শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনসহ দলীয় বেশকিছু সিদ্ধান্তও কাউন্সিলরদের কাছ থেকে নির্বিঘেœ পাস করিয়ে নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে নবম জাতীয় সম্মেলন করে জাপা। এতে দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জিএম কাদের। মহাসচিব হয়েছেন মসিউর রহমান রাঙ্গা। রওশন এরশাদকে পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক করা হয়েছে। তারা আগামী তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন।

কাউন্সিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিরাজুল ইসলাম পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রওশন এরশাদ ও চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদেরের নাম উপস্থাপন করলে কাউন্সিলর ও ডেলিগেটরা সম্মতি দেন। জাপার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কাউন্সিলররা চেয়ারম্যান ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক নির্বাচিত করবেন। পরে চেয়ারম্যান একক ক্ষমতাবলে অন্য পদে নাম ঘোষণা করবেন। সে হিসাবে জিএম কাদের মহাসচিব হিসেবে রাঙ্গার নাম ঘোষণা করেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটি পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানান জিএম কাদের। জাপার প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী রওশন সম্মেলনে ছিলেন না।

জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সম্মেলন। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল শুরু থেকেই। সম্মেলনের শেষ পর্যন্ত উৎসবের রেশ ছিল। সম্মেলনের শুরুতে বক্তব্যে জিএম কাদের বলেন, আজ আমরা দুঃখ ও ভারাক্রান্ত মন নিয়েই এই সম্মেলনে সমবেত হয়েছি। জাতীয় পার্টির জন্মের পর এই প্রথমবার আমাদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রাণপ্রিয় নেতা, ৯ বছরের সফল রাষ্ট্রনায়ক পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ব্যতীত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই শূন্যতা শুধু এই সম্মেলনেই বিরাজ করছে না; গোটা দেশ ও জাতি তার অভাব অনুভব করছে। এ সময় তিনি গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা একে ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম স্মরণ করেন।

আরো পড়তে পারেন:  নবজাতককে ফেলে দেয়ার আগে চুমু খেলেন বাবা

জিএম কাদের বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণ করে ১৮ দফা কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। ৯ বছর ক্ষমতায় থেকে সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নয়ন-সমৃদ্ধির এক নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে নতুন প্রজন্মের জন্য যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা ১৮ দফা কর্মসূচি নতুনভাবে প্রণয়ন করেছি। এ সময় তিনি প্রাদেশিক ব্যবস্থা প্রবর্তন, নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কারসহ ১৮ দফার ঘোষণা দেন।

জাতীয় পার্টিতে কোনো বিভেদ নেই দাবি করে পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই, আমরা এখন ঐক্যবদ্ধ। তিনি বলেন, নব্বই সালে আমাদের নেতার দুর্নীতি বের করার চেষ্টা করা হয়েছে। খালেদা জিয়া ১০ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশ থেকে টিম এনেছিলেন। এক পয়সার দুর্নীতি খুঁজে বের করতে পারেননি। খালেদা জিয়াকে ওই টাকা ফেরত দিতে হবে। আমরা যদি কোনো দিন ক্ষমতায় যাই, ওই টাকা আদায় করে ছাড়ব। তিনি আরও বলেন, এরশাদকে অন্যায়ভাবে জেলে নিয়ে দুটি কম্বল আর একটি বালিশ দেওয়া হয়েছিল। তাকে তিলে তিলে শেষ করার চেষ্টা হয়েছিল। দুনিয়ার ধার দুনিয়ায় শোধ করতে হয়। তবে আমরা চাই না কেউ জেলে থাকুক। কিন্তু যে অপরাধ করছে তার শাস্তি তাকে পেতেই হবে।

সম্মেলনে প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, গোলাম কিবরিয়া টিপু, শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, ফখরুল ইমাম, কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, আবুল কাশেম, দেলোয়ার হোসেন খান, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সাহিদুর রহমান, মুজিবুল হক চুন্নু, সালমা ইসলাম, সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, মীর আবদুস সবুর আসুদ, সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন প্রমুখ।

জাতীয় পার্টির কাছে কৃতজ্ঞ : ওবায়দুল কাদের

মহাজোটের শরিক জাপার সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সেখানে বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের মিত্রতা শুরু। জেলে বসেও ওই সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান (প্রয়াত এরশাদ) আমাদের সমর্থন দিয়েছিলেন। আমরা সরকার গঠন করতে পেরেছিলাম। ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির অবদানের কথা আমরা ভুলিনি। আমি জাতীয় পার্টির কাছে কৃতজ্ঞ।

আরো পড়তে পারেন:  বাংলাদেশে আসতে প্রস্তুত জ্যাক মা’র সাহায্য

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জাতীয় পার্টি বিরোধী দলে আসার পর সংসদের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা এসেছে। তারা সংসদের ভেতরে ও বাইরে কখনো সহিংসতার রাজনীতি করেনি। সংসদে জাতীয় পার্টি দায়িত্বশীল, গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রে সরকারি দল একা শক্তিশালী হলে হবে না। গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে হলে শক্তিশালী বিরোধী দল প্রয়োজন। জাতীয় পার্টি এ ভূমিকা যথাযথভাবে এ পর্যন্ত পালন করে আসছে।

 

সূত্র: আমাদের সময়

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

Loading...
আরো পড়তে পারেন:  রাস্তায় ছোলা বিক্রি করে কোটিপতি নারীর গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *