নবজাতকের জন্ডিস

সাধারণত জন্ডিস বলতে আমরা বুঝি চোখের ভিতরের সাদা অংশ হলুদ হওয়া এবং রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া। নবজাতকের ক্ষেত্রে হলুদ ভাবটা সহজেই বোঝা যায়। সাধারণত চোখ, মুখ, হাতের তালু, পায়ের এবং শরীরের চামড়ায় হলুদ ভাবটা ফুটে উঠে। চিকিৎসক বা সেবিকা ছাড়াও মা–বাবা এই হলুদ ভাবটা দেখে জন্ডিস বুঝতে পেরে নবজাতককে আমাদের কাছে নিয়ে আসেন।

নবজাতকের জন্ডিস হওয়ার কারণ

জন্মের ১ থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে

১. রক্তেরRh factor এর কারণে Rh incompatibility যেমন মায়ের (+ve) project হয় এবং বাচ্চার (+ve) যদি (+ve) project হয় সেক্ষেত্রে নবজাতকের জন্ডিস দেখা দেবে।

২. ABO incompatiblity বা রক্তের Q কারণে যেমন মায়ের যদি D হয় এবং বাচ্চার যদি ই কিংবা ঈ হয় সেক্ষেত্রেও নবজাতকের জন্ডিস দেখা দিতে পারে।

৩. এনজাইমের ঘাটতি যেমন– G6PD এর ঘাটতি (deficienoy) হয়।

৪. জন্মগত (spherocytosis).

জন্মের ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে

১. সাধারণ নবজাতকের জন্ডিস (psysiologiocal jaundice).

২. অপরিণত স্বল্প ওজনের জন্য জন্ডিস (jaundice of prematurity).

৩. নবজাতকের সংক্রমন বা sepsisর এর জন্য জন্ডিস।

সাধারণ নবজাতকের জন্ডিস প্রায় শতকরা ৬০ ভাগ এবং অপরিণত স্বল্প ওজনের শিশুর জন্ডিস প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই ধরা পড়ে। অনেক সময় একটু দেরি হলে বা বুঝতে অসুবিধা হলে শিশুর জন্ডিস মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং বিলিরুবিনের মাত্রা ২৪–২৮ মিলিগ্রামের বেশি হতে পারে।

সেক্ষেত্রে বিলিরুবিন মস্তিষ্কে চলে গিয়ে মস্তিষ্কের প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যাকে ঈধফধরলঠধভ ঋভডণযদটফমযর্টদহ বলে। পরবর্তীতে শিশু শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী হতে পারে। সুখের বিষয় এই যে, এখন উন্নত ফটোথেরাপির মাধ্যমে অনেক নবজাতককে সুস্থ করা সম্ভব হচ্ছে। খুব কম সংখ্যক শিশুর ক্ষেত্রে বিলিরুবিন মস্তিষ্কে পৌঁছে মস্তিষ্কের ক্ষতিসাধন করে। তবে যে সমস্ত কারণে জন্ডিস মস্তিষ্কে পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তা হল–

১. জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি জন্ডিস ধরা পড়ে।

২. বিলিরুবিনের মাত্রা যদি প্রতিদিন ৩–৪ মিলিগ্রামের বেশি বেড়ে যায় এবং ৪/৫ দিনের মধ্যে ১৬/১৭ মিলিগ্রাম বা তারও বেশি হয়।

আরো পড়তে পারেন:  ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টেও ফেরানো যাচ্ছে না তারেক-তাজউদ্দীনকে

৩. বাচ্চা যদি ৩৫ সপ্তাহের আগে জন্ম হয় এবং এর বিলিরুবিন যদি ১৬/১৭ মিলিগ্রাম বা তার বেশি হয়।

৪. নবজাতকের যদি মারাত্মক সংক্রমন বা sepsis হয়।

চিকিৎসা

জন্ডিস যদি আগের দিকে ধরা পড়ে তখন উন্নত লাইট যাকে ঈফলণ ীটবয বা নীল বাতি দিয়ে খুব সহজেই নবজাতকের জন্ডিস নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অনেক সময় বেশি বিলিরুবিন হলে ঊমলঠফণ ঈফলণ ীটবয দিয়ে চিকিৎসা করা হয় যাতে দ্রুত জন্ডিস বা ঈধফধরলঠধভ নিচে নেমে আসে।

নবজাতকের শরীরের বিভিন্ন অবস্থা চোখে দেখে সহজেই বিলিরুবিনের মাত্রা অনুমান করা যায়। নিচের চিত্রে তা দেখানো হলো–

৫–১০ মি. গ্রাম—মাথার উপর থেকে গলার নিচ পর্যন্ত

১০–১২ মি. গ্রাম—গলার নিচ থেকে নাভির উপর পর্যন্ত

১৩–১৮ মি. গ্রাম—নাভির উপর থেকে হাঁটু পর্যন্ত

২০ মি. গ্রাম এর উপরে—হাঁটু থেকে পায়ের তালু পর্যন্ত

অনেকেই জন্ডিসে আক্রান্ত শিশুকে সূর্যের আলোতে রাখার পরামর্শ দেন বা উৎসাহিত করেন। এতে বাচ্চার কোন লাভ নেই বরং ক্ষতি হতে পারে। কেউ কেউ নবজাতককে বাসায় সাদা টিউব বা বালবের আলোতে রাখার আগ্রহ দেখান। তাতে শিশুর চোখের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

এমনকি চিরদিনের জন্য নবজাতকের চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। শিশু সন্তানের টেস্টিসের (কর্ণ্রধ্র) ক্ষতি হতে পারে। ঈফলণ ীটবয এ যখন বাচ্চাকে দেওয়া হয় তখন চোখ ও যৌনাঙ্গ ঢেকে দেওয়া হয়। তাছাড়া আলোর তীব্রতার কারণে নবজাতকের পানিশূন্যতা হতে পারে। যা আইভী স্যালাইন এর মাধ্যমে পূরণ করা যায়।

তাই জন্ডিসের চিকিৎসা অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে করা উচিত। যাতে শিশু সহজেই সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। তবে সূর্যের আলোতে জন্ডিস না কমলেও নবজাতককে ভিটামিন ডি পেতে সাহায্য করে।

লেখক : কনসালটেন্ট, চাইল্ড কেয়ার হসপিটাল, চট্টগ্রাম।

সূত্র: দৈনিক আজাদী

স্বাস্থ্য সম্পর্কিত প্রতি মূর্হর্তের খবর জানুন এখানে

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

আরো পড়তে পারেন:  বিলুপ্ত হচ্ছে ছাত্রলীগের কমিটি, দুই জনকে ভারপ্রাপ্ত করা হচ্ছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *