নগদ টাকায় নয়ছয়

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কঠোরভাবে মনিটরিং করছে সবকিছু, অনিয়ম পেলেই ব্যবস্থা

করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে অনেক মানুষ। কম আয়ের এসব মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী ঈদ উপহার হিসেবে আড়াই হাজার টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছেন। এ টাকা বিতরণের তালিকা তৈরিতে বিভিন্ন জায়গায় নয়ছয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। হবিগঞ্জে চারটি মোবাইল নম্বরের বিপরীতে ৩০৬ জনের নাম রয়েছে। লালমনিরহাটে ৫৩ জনের নামের বিপরীতে এক ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। ৪০ জন সুবিধাভোগীর নামের পাশে বাগেরহাটে এক ইউপি সদস্যের নিজের মোবাইল নম্বর দেওয়ায় তাকে শোকজ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। দুস্থদের পরিবর্তে বিত্তশালীদের নামও এ তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। ফলে কর্মহীন দুস্থ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার থেকে বঞ্চিতের উপক্রম হয়েছে। তবে নগদ অর্থ নিয়ে নয়ছয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যারাই এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এদিকে তালিকায় একই মোবাইল নম্বর একাধিকবার দেওয়ায় ৮ লাখ নম্বর বাতিল করা হয়েছে বলে গত রাতে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ মো. কামাল। অন্যদিকে ১৫-১৬ শতাংশ তালিকা সংশোধন করে বাদ পড়াদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।

করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার মাধ্যমে সরাসরি নগদ অর্থ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিটি পরিবারকে এককালীন আড়াই হাজার করে ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা নগদ সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে। বিকাশ, রকেট, নগদ ও শিওর ক্যাশ-এর মতো মোবাইল সেবার মাধ্যমে এ টাকা বিতরণ করা হবে। প্রতি পরিবারে ধরা হয়েছে চারজন সদস্য, সে হিসাবে এ নগদ সহায়তায় উপকারভোগী হবে ২ কোটি মানুষ। প্রতিদিন ১০ লাখ মানুষ নগদ সহায়তা পাবে এবং পুরো তহবিল ১৪ থেকে ১৮ মের মধ্যে বিতরণ করা হবে। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য, শিক্ষক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত কমিটি এ সহায়তাপ্রাপ্তদের তালিকা তৈরি করেছেন। ভাতা পাওয়ার তালিকায় আছেন রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক, কৃষিশ্রমিক, দোকানের কর্মচারী, ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসায় কর্মরত শ্রমিক, পোলট্রি খামারের শ্রমিক, বাস-ট্রাকের পরিবহন শ্রমিক, হকারসহ নিম্ন আয়ের নানা পেশার মানুষ। কিন্তু এ তালিকা তৈরিতে বিভিন্ন স্থানে নয়ছয়ের অভিযোগ ওঠায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে গতকাল এক ভিডিওবার্তায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণসহায়তা কর্মসূচির তালিকা প্রণয়নে কোনো ধরনের অনিয়ম সরকার বরদাশত করবে না। ত্রাণ বিতরণে যে-ই অনিয়ম করবে, দলীয় পরিচয় হলেও সে রেহাই পাবে না।

এদিকে করোনাকালীন সংকটের কারণে সরকার-ঘোষিত হতদরিদ্র ৫০ লাখ পরিবারের জন্য আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা কার্যক্রমের উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়নে অমানবিক অনিয়মের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

আমাদের লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন আলালের পিএস হিসেবে পরিচিত ছমির উদ্দিনের মোবাইল নম্বরটি (০১৭৩৩১২৫১০২) ৫৩ জন দুস্থের নামের পাশে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই তালিকায় মৃত ব্যক্তির নামও রয়েছে। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন, উপজেলার আট ইউনিয়নের প্রতিটিতেই ১০০ থেকে ১৫০টি নাম গোঁজামিল দিয়ে করা হয়েছে। এসব অনিয়ম চিহ্নিত করে সংশোধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

আরো পড়তে পারেন:  বাক্স থেকেই ছাপা হচ্ছে ৫০০ টাকার নোট, দেখুন ভিডিও

আদিতমারী উপজেলার আট ইউনিয়নে ১০ হাজার ৫১৬টি পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওয়ার্ড কমিটির মাধ্যমে তালিকা চূড়ান্ত করে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদে জমা দেওয়া হয়। কমলাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ইউপি সদস্যরা তালিকা তৈরি করে জমা দিলেও চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আলাল তা পরিবর্তন করে নতুন তালিকা জমা দেন। বিষয়টি জানার পর এ ঘটনায় ইউপি সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ আনেন। মানবিক সহায়তার এ তালিকা নিয়ে উপজেলার পলাশী, সারপুকুর ইউনিয়ন ও জেলা সদরের হারাটি ইউনিয়নেও বিস্তর অভিযোগ রয়েছে বলে জেলা প্রশাসক আবু জাফর সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

কমলাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ইউপি সদস্যদের নামের তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। কিছু ভুল হয়েছিল তা সংশোধন করা হয়েছে। ৫৩ জনের নামের পাশে ছমির উদ্দিনের মোবাইল নম্বর কেন দেওয়া হয়েছে- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব সংশোধন করা হচ্ছে।

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, শরণখোলায় প্রধানমন্ত্রী-ঘোষিত মানবিক সহায়তার তালিকায় ৪০ জন উপকারভোগীর নামের পাশে নিজের মোবাইল নম্বর দেওয়ায় খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রাকিব হাসানকে শোকজ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এদিকে, চারটি ইউনিয়ন থেকে জমা দেওয়া ৪ হাজার সুবিধাভোগীর নাম সংশোধন করে সঠিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া ওই তালিকায় সরকারি অন্যান্য সুবিধা ভোগকারী, চৌকিদার, সচ্ছল ব্যক্তিদের নামসহ বিভিন্ন অনিয়ম থাকায় তা যাচাই-বাছাইয়ে ধরা পড়ার পর সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে পুনরায় তালিকা প্রণয়ন করেন শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাকিব হাসান মানবিক সহায়তার ওই তালিকায় ৪০ জন সুবিধাভোগীর নামের পাশে তার নিজের মোবাইল নম্বরটি জুড়ে দেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা প্রদানের ব্যবস্থা থাকায় তিনি এ অপকৌশলের আশ্রয় নেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রাকিব হাসান জানান, উপজেলা থেকে মানবিক সহায়তার তালিকা তৈরির নির্দেশনা পেয়ে তার ওয়ার্ডের আট সদস্যবিশিষ্ট তালিকা প্রস্তুত কমিটির সমন্বয়ে প্রত্যেক উপকারভোগীর নাম ও তাদের নিজ নিজ মোবাইল নম্বরসহ তালিকা ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেওয়া হয়। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কম্পিউটার প্রিন্টে ৪০ জন উপকারভোগীর মোবাইল নম্বরের স্থলে তার মোবাইল নম্বরটি ভুলে ছেপে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত তালিকায় সুবিধাভোগীদের নামের পাশে প্রত্যেকের মোবাইল নম্বর দেওয়ার কথা। কিন্তু পরিষদ থেকে যে তালিকা এসেছে তাতে বেশ কয়েকজন মেম্বারের মোবাইল নম্বর এভাবে একাধিক নামের পাশে সংযুক্ত করা হয়েছে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, হবিগঞ্জের এক ইউপি চেয়ারম্যানের চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে ১৬২ জনের নামের সঙ্গে। এ ছাড়া চেয়ারম্যানের এক স্বজনের নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে ৯৯ জনের নামের বিপরীতে। অনেক স্থানে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নাম দেওয়া হয়েছে তালিকায়। অনেক সম্পদশালীর নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চেয়ারম্যান-মেম্বারদের আত্মীয়স্বজন কারও নামই তালিকা থেকে তেমন বাদ পড়েনি। এ নিয়ে ক্ষোভের শেষ নেই খোদ উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যেও। লাখাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মুশফিউল আলম আজাদ জানান, এ উপজেলার ছয় ইউনিয়নেই এমন অনিয়ম রয়েছে। চেয়ারম্যানরা নিজেদের আত্মীয়স্বজনের নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়েছেন। অনেকেই আবার ভুয়া নাম দিয়ে নিজেদের আত্মীয়দের মোবাইল নম্বর দিয়েছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

আরো পড়তে পারেন:  খাবারের প্যাকেটে স্ট্যাপলার পিন মারলেই গুনতে হবে ৩ লাখ টাকা

মুড়িয়াউক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মলাই বলেন, ‘আমরা মাত্র ৭৩০টি নাম দিয়েছি। এখানে ওয়ার্ড মেম্বাররাও দিয়েছেন। তালিকা তৈরি করতে হয়েছে পিআইওতে গিয়ে। সেখানে কম্পিউটারে টিপলে এক নম্বর থেকে আরেক নম্বর উঠে যায়। এ কারণেই হয়তো একই নম্বর একাধিক ব্যক্তির নামের পাশে উঠেছে। এ ছাড়া তালিকা তৈরি করার জন্য সময়ও দেওয়া হয়নি। যাদের মোবাইল নম্বর ব্যবহার হয়েছে তারা কেউ আমার আত্মীয় নন। তারা সবাই উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের আত্মীয়। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ নম্বরগুলো তালিকায় তুলে দেওয়া হয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যানের আত্মীয়দের নম্বর তার তালিকায় কীভাবে উঠেছে- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তা তো বলতে পারছি না। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে কেউ তুলে দিয়েছেন।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুসিকান্ত হাজং জানান, এ তালিকাটি প্রাথমিক। এখানে চেয়ারম্যানরা ত্রুটিবিচ্যুতি করেছেন। এগুলো হতে পারে বলে আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন। যারা সহায়তা পাওয়ার যোগ্য কেবল তাদেরই এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আজই (শনিবার) তারা যাচাই-বাছাইকৃত তালিকা হস্তান্তর করবেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, এটি খসড়া তালিকা। এ তালিকা যাচাই-বাছাই চলছে। এরপর তা চূড়ান্ত করা হবে। তালিকায় অনিয়ম থাকলে কাউকে টাকা দেওয়া হবে না।

চেয়ারম্যানের দেওয়া তালিকায় পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, মুড়িয়াউক ইউনিয়নে নগদ টাকা পাওয়ার তালিকায় ১ হাজার ১৭৬ জনের নাম রয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মলাই মিয়ার নিকটাত্মীয় আনোয়ারের মোবাইল নম্বর ০১৯৪৪৬০৫১৯৩ নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে ৯৯ জনের নামের বিপরীতে। চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই আক্তার মিয়ার ০১৭৪৪১৪৯২৩৪ নম্বর ৯৭ জনের আর চাচা শাকিল হকের ০১৭৮৬৩৭৪৩৯১ নম্বর ৬৫ জনের নামের পাশে ব্যবহার করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের আরেক নিকটাত্মীয় নবী মিয়ার ০১৭৬৬৩৮০২৮৪ নম্বর দেওয়া হয়েছে ৪৫ জনের নামে। ১০-১২ জন করে নাম ব্যবহার করা হয়েছে অন্তত ৩০টি নম্বরে। ৩০-৩৫টি নম্বর একাধিক নামের সঙ্গে প্রদান করা হয়েছে। ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কোনো হিন্দু পরিবারের বসবাস না থাকলেও তালিকার ৯৫৮, ৯৬৫ ও ৯৭৩ সিরিয়ালের তিনটি নাম হিন্দু ব্যক্তির। আবার ওই ইউনিয়নের সম্পদশালী আক্কল আলীর ছেলে সাহাব উদ্দিনের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকার ১৬১ ও ১৬৩ নম্বরে স্বামী-স্ত্রী দুজনের নাম দেওয়া হয়েছে। তালিকার ৯৫১, ৮৫৫, ৮৫৩, ৮৫২, ৮৫১ ও ৭৮৪ নম্বরের ছয়জন একই পরিবারের সদস্য।

ভোটার আইডি-মোবাইল নম্বর ভেরিফাই করে টাকা ছাড় হচ্ছে : করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের জন্য নগদ সহায়তা ভোটার আইডি ও মোবাইল নম্বর ভেরিফাই (পরীক্ষা) করেই টাকা ছাড় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন। গতকাল এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ তথ্য জানান। নিজের ফেরিফায়েড ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘করোনাকালীন সংকটের জন্য তৃণমূলের কর্মহীন গরিব ৫০ লাখ পরিবারের জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ঈদ উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তালিকা তৈরি করেছেন স্থানীয় প্রশাসন, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, শিক্ষকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। হবিগঞ্জ, বাগেরহাটের দুটি ইউনিয়নসহ কয়েকটি জায়গায় কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে। শতাধিক নামের বিপরীতে ১/২টি ফোন নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা গেলে সবার টাকা ওই ১/২টি নম্বরের ব্যক্তিরা পেয়ে যাবেন। দেশে সাধারণ মেম্বার ৪১ হাজার ১৩৯ জন, সংরক্ষিত (নারী) মেম্বার ১৩ হাজার ৭১৩ জন, ইউপি চেয়ারম্যান ৪ হাজার ৫৭১ জন। এর মধ্যে চার-পাঁচ জন এ অপকর্মটি করেছেন।’

আরো পড়তে পারেন:  টাইগারদের টেস্ট বিশ্বকাপের সময়সূচি

আশরাফুল আলম খোকন আরও লিখেছেন, ‘এ অনিয়মটি স্থানীয় পর্যায়ে সরকারই ধরেছে। এমন নয় যে যাচাই-বাছাই শেষে ওরা টাকা পেয়ে গেছে। আর যদি যাচাই-বাছাই শেষে এ রকম তালিকা কেন্দ্রে আসেও তাও তাদের টাকা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ নামের সঙ্গে ভোটার আইডি ও মোবাইল নম্বর অটোমেটেড সিস্টেমে ভেরিফাই করে এরপর টাকা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ১৭ কোটি মানুষের দেশে চার-পাঁচ জন দুর্নীতিবাজ এ রকমটি ঘটবে না, তা ভাবার কোনো অবকাশ নেই। ঘটনার প্রতিকার হয়েছে কিনা তা দেখুন। এখন আর কোনো চাল চুরির খবর শোনেন? সব বন্ধ হয়ে গেছে। শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখুন। দেশ ভালো থাকবে, আপনারাও ভালো থাকবেন।’

 

সূত্র: বিডি প্রতিদিন

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *