নকল হচ্ছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্য

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল খাদ্যপণ্য বিক্রি হচ্ছে বাজারে। যারা এসব পণ্য তৈরি করছেন, তারা দাম কমিয়ে দোকানিদের প্রলোভনে ফেলছেন। দোকানিরা কেউ বুঝে, কেউ না বুঝে এ ফাঁদে পা দিচ্ছেন, যার পরিণতিতে ঠকছেন ক্রেতারা। নিম্নমানের এসব খাদ্যপণ্য মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
শুধু খাদ্যপণ্য নয়, বাজারে ছাড়া হচ্ছে নকল ও অবৈধ ওষুধ, সিগারেট, মোবাইল ফোনসেট ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস, বৈদ্যুতিক তার, রেভিনিউ স্ট্যাম্পসহ নানা পণ্য। এর ফলে সরকার প্রতিবছর বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নকল পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত ঠেকানো না গেলে তা একদিকে অর্থনীতিকে যেমন ক্ষতির মুখে ফেলবে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়বে। এ জন্য নকল পণ্য উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। অপরাধীদের শাস্তি বাড়াতে হবে। জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের\হখাদ্যপণ্য বেশি নকল হচ্ছে বলে জানান রাজধানীর মিরপুরের আহম্মদনগরের এক দোকানি। তিনি জানান, সম্প্রতি তার কাছে নেসলের ম্যাগি নুডলস ও প্রাণের মিস্টার নুডলস নিয়ে আসেন এক বিক্রয়কর্মী। একসঙ্গে দুই কোম্পানির পণ্য নিয়ে আসায় তার মনে প্রশ্ন জাগে। ওই বিক্রয়কর্মী জানান, দুই কোম্পানির কাছ থেকে একসঙ্গে অনেক পণ্য কম দামে কিনেছেন। এ কারণে ৪০ শতাংশ দাম কমিয়ে বিক্রি করছেন। কম দাম পেয়ে দোকানি দুই ব্র্যান্ডেরই নুডলস কিনে রাখেন। পরে নিম্নমানের বলে তার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসেন স্থানীয় ক্রেতারা। দোকানে থাকা সব নুডলস শেষ পর্যন্ত ফেলে দিতে হয়েছে।
শুধু নুডলস নয়, অন্যান্য খাদ্যপণ্যও নকল হচ্ছে। ইতালিভিত্তিক বেসরকারি মালিকানার বহুজাতিক কনফেকশনারি ও গাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পারফেট্টি ভ্যান মেলে গ্রুপের ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম চলছে। এই কোম্পানির সেন্টার ফ্রুট, সেন্টার ফ্রেশ, অ্যালপেনলিবে ও মেনটস বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। এসব পণ্য নকল হচ্ছে। কোম্পানির নাম ও ব্র্যান্ড সবকিছু ঠিক রেখে বাজারে ছাড়া হচ্ছে নকল পণ্য। দেখে বোঝার উপায় নেই, তবে মুখে দিলে ভিন্ন স্বাদ পাওয়া যায়। রাজধানীর চকবাজারে কম দামে এগুলো প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। শুধু চকবাজার নয়, এখন প্রতারক চক্রের এজেন্টরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার দোকানে পৌঁছে দিচ্ছে।
জানা গেছে, দেশি কোম্পানির সরিষার তেল, বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘি, ভারতের নামিদামি ডাবর ব্র্যান্ডের মধু, মামা ব্র্যান্ডের ওয়েফার, বিস্কুট, বেভারেজ, সফট ড্রিংকস পাউডার, ডেইরি মিল্ক্কসহ নানা ব্র্যান্ডের চকলেট, আচার, চিপস, চাটনি, আইসক্রিমসহ জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্য নকল বিক্রি হচ্ছে। এ ধরনের পণ্যে শিশুদের আকর্ষণ বেশি। নিম্নমানের এ পণ্য কিনে খাওয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
পুরান ঢাকার বংশাল, লালবাগ, ইসলামপুর, চকবাজার, কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ ও বছিলা এলাকায় নকল খাদ্যপণ্য তৈরির কারখানা বেশি। বিভিন্ন সংস্থার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানেও তার প্রমাণ মিলেছে। মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকার দোকানি মো. আবু জাফর বলেন, এ এলাকায় নকল পণ্যের কারখানা রয়েছে। মাঝেমধ্যে অভিযানে ধরাও পড়ছে। জরিমানা দিয়েও চালিয়ে যাচ্ছে অনেকে। আবার লাভ বেশি হওয়ায় বিক্রি করছেন দোকানিরা।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ সমকালকে বলেন, নকল ও ভেজাল খাদ্য বন্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে প্রতিরোধে ভোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। ভোক্তারা অভিযোগ করলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আরও সুযোগ তৈরি হবে। জনগণ সচেতন না হলে নকল পণ্য বন্ধ করা কঠিন হবে। সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠলে এ কাজ ত্বরান্বিত হবে। নকল পণ্য জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে। এই উপলব্ধি থেকে জনগণের মানসিকতার পরিবর্তন হলে নকল পণ্য প্রতিরোধ করা যাবে।

আরো পড়তে পারেন:  এক মায়ের কান্না, অতঃপর...

বিএসটিআইর উপপরিচালক রিয়াজুল হক সমকালকে বলেন, মান সংস্থার অনুমতি ছাড়া অনেকেই নিম্নমানের ও নকল খাদ্যপণ্য তৈরি করছে। নিয়মিত অভিযানে তা ধরা পড়ছে। খাদ্যপণ্যে নকল ও ভেজাল রোধে বিভিন্ন সমিতির সঙ্গে বৈঠক করে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, অবৈধ এসব ব্যবসা বন্ধে বিএসটিআইর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে। পাশাপাশি নিয়মিত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও মামলা হচ্ছে।
বিএসটিআই গত বছরের জুলাইতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় প্রাইম ন্যাচারাল ফুড প্রডাক্টসে বিভিন্ন পরিচিত ব্র্যান্ডের নকল আইস ললি ও ফ্রুট ড্রিংকস তৈরির খবর পায়। এরপর বিএসটিআই ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে অবৈধভাবে এসব পণ্য উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া যায়। এই অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে মুন চকলেট অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস নামের কোম্পানিতে নকল চকলেট ও ক্যান্ডি তৈরির প্রমাণ পায় বিএসটিআই। গত সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকার আশুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ বেভারেজ উৎপাদনের প্রমাণ পায় বিএসটিআই। অনুমোদনহীন এ পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে সিলগালা ও জরিমানা করা হয়। মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ৮০ হাজার বোতল বেভারেজ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। গত অক্টোবরে মোহাম্মদপুর চাঁদ উদ্যানে খাস ফুড প্রডাক্টস নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে রাইস ব্রান তেল, মধু, সরিষার তেল, হলুদ, মরিচ, ধনিয়া গুঁড়া, চাটনি, দই, আটা, ঘি, আচারসহ বিভিন্ন নকল ও মানহীন পণ্য উৎপাদনের প্রমাণ পায় বিএসটিআই। পাশাপশি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানেও নকল খাদ্যপণ্য ধরা পড়ছে।  সূত্র: সমকাল

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

Loading...
আরো পড়তে পারেন:  ইরান সীমান্তবর্তী সেই ইরাকি ঘাঁটি ছাড়ল মার্কিন সেনারা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *