দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর নারকীয় হামলার নিন্দার ঝড়

 

 

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর নারকীয় হামলার নিন্দার ঝড় বইছে দেশব্যাপী। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হামলার ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর হামলাকারীদের বিচার দাবি করেছেন সবাই।

বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে সরকারি বাসভবনে ঢুকে নিরাপত্তাপ্রহরীকে আটকে রেখে এ হামলা চালানো হয়। প্রচণ্ড আঘাতে ওয়াহিদার মাথার খুলির হাড় ভেঙে ভেতরে ঢুকে যায়।এই হামলায় ইউএনওর বাবা ওমর আলীও গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি হাসপাতালের বেড়ে শুয়ে হামলার বিস্তারিত জানিয়েছেন।

ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার ভোরে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ একটি দল তাদের আটক করে।

আটককৃতরা হলেন- আসাদুল হক ও জাহাঙ্গীর হোসেন। তারা দুজনই যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, ইউএনও’র ওপর হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়েছে। হাকিমপুর উপজেলা থেকে আসাদ ও ঘোড়াঘাট থেকে জাহাঙ্গীর নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।

ওসি বলেন, আটক দুজনকে রংপুর র‌্যাব কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। সেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বেলা ১১ টার দিকে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

বুধবার দিনগত রাত ৩টার দিকে উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসে অবস্থিত ইউএনওর বাসভবনের টয়লেটের ভেল্টিলেটর ভেঙে দুর্বৃত্তরা প্রবেশ করে।

ইউএনও টের পেলে দুর্বৃত্তরা তাকে সরাসরি ধারাল অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এ সময় তার বাবা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তাকেও আঘাত করে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউএনওর সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর কেটে দুর্বৃত্তরা তার শয়নকক্ষে ঢুকে পড়ে। এর আগে দুর্বৃত্তরা ওই বাসভবনের নিরাপত্তাপ্রহরী নাহিদ পলাশকে বেঁধে প্রহরীকক্ষে তালা দিয়ে আটকে রাখে।

এরপর মই দিয়ে উঠে ভবনের ২য় তলায় থাকা ভেন্টিলেটর খুলে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। বাড়িতে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমকে প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় জখম করে দুর্বৃত্তরা।

আরো পড়তে পারেন:  সিনেমার চেয়েও ভয়ঙ্কর ঘটনা! (ভিডিও)

তার চিৎকারে তাকে বাঁচাতে বৃদ্ধ বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখ এগিয়ে এলে তাকেও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। এ সময় তারা অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাদের অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

সরকারি ওই বাড়িতে ইউএনও ওয়াহিদা খানম, তার ৩ বছরের পুত্রসন্তান আদিয়াত ও ইউএনওর বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখ থাকতেন। ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিল ৩ বছরের শিশুপুত্র আদিয়াত।

ইউএনওর বাবা ওমর আলী প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বের হন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে তিনি হাঁটতে বের না হওয়ায় সঙ্গীরা তার খোঁজ নেয়ার জন্য বাসভবনে যান।

অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে ইউএনও, তার বাবা ও প্রহরীকে উদ্ধার করে। ইউএনওর বাসভবনের পেছন থেকে একটি মই উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রথমে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাদের। সেখান থেকে ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়।

সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। মেয়ের ওপর হামলার খবর শুনে ছুটে আসেন ইউএনওর মা। তিনি এখন আহত স্বামীর পাশে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছেন।

যুগান্তরের রংপুর ব্যুরো অফিস জানিয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে- ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বাবা ওমর আলী শেখ শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. রস্তম আলী জানিয়েছেন, তাকে গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে।

ইউএনওর বাবা ওমর আলী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৯ নম্বর নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। তার মাথা ও শরীরে ধাতব বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।

তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের বলেন, আমি ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নামাজ আদায় করতে উঠে পাশের ঘর থেকে মেয়ের চিৎকার শুনতে পাই।

আরো পড়তে পারেন:  ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখলে থেমে নেই ইসরাইল

সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করলে একজন মুখে কাপড় বাঁধা অবস্থায় এসে আমাকে ভয় দেখিয়ে আলমারির চাবি চায়। বলে, না দিলে মেরে ফেলা হবে। এরপর হাতুড়ি দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করলে আমি লুটিয়ে পড়ি।

এরপর আর কিছু বলতে পারি না।

ইউএনওর বাবা আরও বলেন, ঘোড়াঘাটে মেয়ে একা থাকে। জামাতা রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ইউএনও। মেয়ের সঙ্গে তিন বছর বয়সী নাতি থাকে। এই উপজেলায় আড়াই বছর ধরে মেয়ের সঙ্গে থাকছি। মাঝেমধ্যে মহাদেবপুরের বাড়িতে যাই। আমি মেয়ের সঙ্গে থাকা অবস্থায় তাকে কেউ কোনো হুমকি দিয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই।

 

সূত্র: যুগান্তর

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

Loading...
আরো পড়তে পারেন:  ধর্ষণ বন্ধ করতে ইসলামী আইন প্রণয়ন করতে হবে বিক্ষোভ সমাবেশে ইসলামী দল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *