তাদের এখন কী হবে

যুগে যুগে নিপীড়িত-নিঃস্ব আর ভাসমান মানুষেরা শুধু পেটের ক্ষুধা মেটাতেই সংগ্রাম করেন। করোনাকালে সেই যুদ্ধ যেন আরো বেড়েছে। যখন সংক্রমণ ঠেকাতে ঘরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত; সেখানে ঘরহীন মানুষেরা আছেন কেমন?

আগের রাতে চুরি হয়ে গেছে চাল। সেই ক্ষোভে আর দুঃখে নিয়তিকেই গালাগাল করছিলেন রমনা এলাকার ফুটপাতের বাসিন্দা মিনারা বেগম। তার চেয়েও যে কেউ; গরিব থাকতে পারে; সেই দুঃস্বপ্নই যেন বাস্তব হলো করোনাকালে।

ওদিকে ইতিউতি ঘুরে কিছু না পেয়ে কারওয়ান বাজার থেকে একটা পচা কাঁঠাল কুড়িয়ে এনে; নীলক্ষেতের রাস্তায় বসেই খাচ্ছিলো বাপ মা হারা শরিয়তপুরের সুজন।

সন্তানকে ফুটপাতে শুইয়ে পাখি বেগম সকাল থেকে অপেক্ষায় আছেন কখন ফিরবেন স্বামী।

যৌবনকালে সন্তানকে নিশ্চয়ই ওলাবিবির গল্প শোনাতেন মা। সেই ওলাবিবি এখন ফিরেছে ভিন্ন নামে। কিন্তু মা এত দিনে নিজের নামতো বটেই, ভুলে গেছেন সন্তানের নামও। তাই বোধহীন হয়ে পলাশীর মোড়ের একই স্থানে বসে থাকেন দিনের পর দিন।

এক সময়ের ব্যস্ত কমলাপুরে এখন চড়ুই পাখির আনাগোনা। যাত্রী কম, খাবার নেই, তাই দু’চোখে রাজ্যের ক্ষুধা নিয়ে বসে থাকে গাজীপুরের সোহেল। ক’দিন আগেও রিকশার প্যাডেলে পা চালানো তেজী জীবন- আজ থমকে গেছে। করোনাকালে গত কয়েক মাসে শহর ছেড়েছেন অনেক ভাসমান মানুষ।

প্রান্তিক এই মানুষদের করোনা সতর্কতার চেয়ে পেটের ক্ষুধার দুশ্চিন্তা বেশি। তারা সংখ্যায় যেমন অনেক তেমনি এই শহরে সচ্ছল মানুষওতো কম নয়। যদিও বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে অনেকেই এসব মানুষের ক্ষুধা নিবারণে এগিয়ে এলেও এখন সেই তৎপরতা নগণ্য।

সামাজিক দূরত্ব, ঘন ঘন হাত ধোয়া, মাস্ক পরা কিংবা ঘরে থাকার নির্দেশ এই মানুষদের কাছে উপহাসের মতো শোনায়।

কমলাপুর সড়কে পরিত্যক্ত যাত্রী ছাউনিকে ঘর বানিয়ে সেখানেই বাসা বেঁধেছেন কয়েকজন ভাগ্যতাড়িত মানুষ। কারো জন্য সুরক্ষা, কারো জন্য উদোম জীবন। এমন বৈষম্যে টিকতে না পেরেই হয়তো বোধ বিবেচনার বাইরে চলে গেছেন অনেকে।

আরো পড়তে পারেন:  সাহাবিদের রাতের ইবাদত

 

সূত্র: সময় নিউজ

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

DSA should be abolished
/ জাতীয়, সব খবর
Loading...
আরো পড়তে পারেন:  চলন্ত ট্রেনে ঝুলে টিকটক, মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরল কিশোর! (ভিডিও)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *