ড. কামালের বক্তব্য নিয়ে নানা জল্পনা!

 

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই আন্দোলনের ফল আনতে হবে বলে ড. কামাল হোসেন যে বক্তব্য দিয়েছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকেই তাঁর ওই বক্তব্যের তাৎপর্য খোঁজার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ বলছেন, তাঁর ওই বক্তব্যের নেপথ্যে আসলেই কোনো কারণ থাকতে পারে। আবার অনেকের মতে, এটি স্রেফ মাঠ গরম করার বক্তব্য।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে ফ্রন্টে কোনো আলোচনা হয়নি। গত মে মাসে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক ডেকেও পরে তা স্থগিত করা হয়েছে। ফ্রন্টের শরিকদল বিএনপির কোনো কোনো নেতা মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি তুললেও আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আন্দোলন সফল করার মতো কোনো কথা বলেননি।

যদিও আগামী ১০ জুন জেএসডি সভাপতি আ স ম রবের বাসায় ফ্রন্টের বৈঠক ডাকা হয়েছে। তবে ওই বৈঠকটিও ‘ঘরোয়া’ বলে খবর নিয়ে জানা যায়। আরো জানা গেছে, যথারীতি ওই বৈঠকেও যোগ দিচ্ছেন না বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ দুই সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। দীর্ঘদিন ধরে বৈঠকে ওই দুই নেতার অনুপস্থিতির কারণে ঐক্যফ্রন্ট প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেক নেতা। বিএনপির বড় অংশই মনে করে, ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে বিএনপির লাভ হয়নি। বরং গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ায় বিএনপির ক্ষতি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে গত ৬ জুন বৃহস্পতিবার ড. কামাল হোসেনের দেওয়া বক্তব্যে নতুন করে কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে। গণফোরামের ঘরোয়া এক অনুষ্ঠানে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. কামাল বলেন, ‘এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ফল আনতে হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কী ধরনের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ফল আসবে তা নির্ধারণ করা হবে সরকারের আচরণের ওপর।’

সাম্প্রতিককালে কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও ড. কামাল কামাল হোসেন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি তুলে বলেছেন, বর্তমান সরকারের পতন তিনি তাঁর জীবদ্দশায়ই দেখে যেতে পারবেন।

নতুন বক্তব্য সম্পর্কে জানার জন্য অনেকবার চেষ্টা করেও ড. কামাল হোসেনকে পাওয়া যায়নি। তবে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আন্দোলনের কথা তাঁর দলের সভাপতি এমনি বলেননি। এটি নিয়ে ফ্রন্টের মধ্যে আলোচনা আছে।’ তিনি বলেন, ‘স্যারের (ড. কামাল হোসেন) এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার কারণ আছে। আমরা সবাই সংগঠিত হচ্ছি। সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আগামী দিনে থাকবে। অলস সময় কাটানোর সুযোগ আর নেই। মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি আদায় করতেই হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন ভালো বক্তব্য দিয়েছেন। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকার পতনের প্রত্যাশা তো মানুষের মধ্যে রয়েছেই।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ অবশ্য বলেন, ‘রাজনীতিতে অনেক কথা বলতে হয়। সে জন্যেই ড. কামাল হোসেন বক্তব্য দিয়েছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘তার (ড. কামালের) কথার নেপথ্যে কী আছে বলা মুশকিল। তবে আন্দোলন নিয়ে কোনো কর্মকৌশলের কথা আমি শুনিনি। ওই বক্তব্যের কোনো তাৎপর্য আছে বলেও মনে করি না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক কবে জানি না। ওই বৈঠকে আমার অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও কম।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের পরে পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নীরব আছে। এক ড. কামাল হোসেন সাহেব সরব হলে তাতে কী হবে?’ মান্না আরো বলেন, ‘তাঁর (ড. কামালের) মনে কী আছে এটি একমাত্র তিনিই বলতে পারবেন। তবে ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে সরকার পতনের কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’

ফ্রন্টের আরেকটি দলের শীর্ষপর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যের দুই রকম অর্থ হতে পারে। এক. হঠাৎ করে কোনো এক দৈত্য এসে শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে পারে। দুই. শুধু স্ট্যান্টবাজি করার জন্য তিনি ওই বক্তব্য দিয়েছেন। যার কোনো অর্থ নেই।’

গতকাল কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে আলাপকালে ফ্রন্টভুক্ত দলের কয়েক নেতা ড. কামাল হোসেনের সাম্প্রতিককালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁরা বলেন, ড. কামাল স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি পালনের কথা বলেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে এটি ধরে নিয়েই। আবার তিনিই আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আন্দোলন সফল করার কথা বলেন। এটি ‘দ্বৈত ভূমিকা’ ছাড়া আর কিছুই নয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘স্বাধীনতা দিবসের ৫০ বছর পূর্তি কেন আওয়ামী লীগকে ছেড়ে দিতে হবে! আমরা আমাদের মতো পূর্তির অনুষ্ঠান পালন করব। সব কিছু সরকারের সঙ্গে করতে হবে—এমন নিয়ম নেই। তা ছাড়া সরকার তো জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।’  

গত ২৬ মে গণফোরামের ইফতার অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খানের অংশগ্রহণ নিয়েও বিএনপিসহ মিত্র দলগুলোর মধ্যে সমালোচনা হয়। ওই অনুষ্ঠানে ফারুক খানকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হলেও ঐক্যফ্রন্টভুক্ত দলগুলোর নেতাদের দেওয়া হয়নি।

সূত্র: কালেরকণ্ঠ

দেশের আরো প্রতি মূর্হর্তের খবর জানুন এখানে

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *