ডাক্তারের পরিবর্তে হাসপাতালে ঘুরে বেড়ায় পশু-পাখি

দিনের বেলা ঘুরে বেড়ায় পশু-পাখি, রাতের বেলায় পাহাড়াদার। সেন্টমার্টিন ১০ শয্যার হাসপাতালে নেই কোনো ডাক্তার, নার্স, এমনকি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীও নেই। আছে শুধু দরজায় লাগানো বড় বড় তালা, সেই তালাতেও পড়েছে মরিচা।

 

স্থানীয়রা জানান, ২০০৮ সালে উদ্বোধনের পর থেকে তালাবদ্ধ হয়ে পড়ে আছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন হাসপাতাল। পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার কারণে হাসপাতালের অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে।

‘এই দ্বীপে কিসের চিকিৎসা? আল্লাহ ছাড়া আমাদের কেউ নেই’। হাসপাতালের ব্যাপারে জানতে চাইলে এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন দ্বীপের বাসিন্দা শাহানা বেগম। তিনি বলেন, এখানে একটা হাসপাতাল আছে। কিন্তু কোনদিন তা খুলতেও দেখিনি, ডাক্তারও দেখিনি।

সেন্টমার্টিন দ্বীপে ৪০ বছর ধরে বসবাস করছেন বলে দাবি করে ৭০ বছর বয়সী আবুল ফজল জানান, দ্বীপের ১৩ হাজার মানুষের কথা চিন্তা করে সরকার ২০০২ সালে দশ শয্যার এ হাসপাতালটির কাজ শুরু করে। কিন্তু ২০০৮ সালে উদ্বোধনের কয়েকদিন পরই ডাক্তার, নার্সসহ সবাই চলে গেছেন। তারপর থেকেই পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে হাসপাতালটি। ভবনটি পাহাড়া দেয়ার জন্য শুধু একজন নৈশ প্রহরী আছেন এখানে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন এ দ্বীপের মানুষ। ট্রলার নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে না গেলে চিকিৎসা পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। সাগর উত্তাল থাকলে ট্রলারই ভাসানো যায় না, মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা তখন চিন্তা করাও অসম্ভব। তাছাড়া কক্সবাজারে যাওয়া-আসাও ব্যয়বহুল।

এ ব্যাপারে সেন্টমার্টিনের ইউপি চেয়ারম্যান নূর আহমদ বলেন, এটি শুধু নামেই হাসপাতাল। কোনদিন এখানে কোনও ডাক্তার দেখিনি। অথচ প্রাথমিক চিকিৎসার অভাবে প্রতিবছর ১০-১৫জন মারা যাচ্ছেন এই দ্বীপে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ে আবেদন করেও কোন সমাধান হয়নি।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া বলেন, ১১ বছর ধরে নামমাত্র ১০ শয্যার একটি হাসপাতাল থাকলেও লোকবল, যন্ত্রপাতি ও ওষুধের কোনো বরাদ্দ নেই। হাসপাতালের ভবনটিতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবা দেয়া হচ্ছে। লোকবল নিয়োগ দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে কয়েকবার চিঠি পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল মতিন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাতায়াত সমস্যা হলেও হাসপাতালটিতে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল হওয়ায় এখানে ডাক্তার-নার্সের সংখ্যা কম।

সূত্র: আমাদের সময়

দেশের আরো প্রতি মূর্হর্তের খবর জানুন এখানে

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *