‘জেকেজি’র সাবরিনা নাগালের বাইরে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টতা খুঁজছে পুলিশ

 

টেস্ট না করেই করোনার রেজাল্ট নিয়ে প্রতারণার দায়ে জেকেজি হেলথকেয়ারের অপকর্ম প্রকাশ্যে আসার বেশ কয়েকদিন পার হয়ে গেলেও এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে আছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পুলিশ বলছে, জেকেজির এই অপকর্মের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কারা জড়িত আছেন, তা তদন্ত করা হচ্ছে। 

জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে রেজিস্টার চিকিৎসক হিসেবে চাকরিরত অবস্থাতেই জেকেজি হেলথ-কেয়ারের চেয়ারম্যানের পদে ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী। করোনা টেস্টের নামে দিনের পর দিন মানুষকে ঠকিয়ে আসছিল তার প্রতিষ্ঠান। এর দায়ে স্বামী আরিফ চৌধুরীসহ গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন ৬ জন। কিন্তু এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে ডা. সাবরিনা।

শুধু তাই নয়, প্রায় ৩ মাস ধরে তিতুমীর কলেজ ক্যাম্পাসে উশৃঙ্খল আচরণ ছিল জেকেজির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

সরকারি তিতুমীর কলেজের নিরাপত্তা প্রহরী মো. সানাউল্লাহ বলেন, এখানে মেয়েদের নিয়ে নাচ-গান করতো। ওনারা মেয়েদের রুমে নিয়ে যেতো।

তিতুমীর কলেজের পরিবহনকর্মী মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, কলেজের সব স্টাফদের মারধর করেছে ওরা। মাঝে মাঝে বিভিন্ন অসামাজিক কাজ করতো এখানে।

জেকেজি হেলথকেয়ারের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত কাজ গুছিয়ে এনেছে পুলিশ। পুলিশের সন্দেহ, এর পেছনে জড়িত রয়েছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও। ডা. সাবরিনার কর্মকাণ্ডও অনুসন্ধান করছে পুলিশ।

তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মো.হারুন অর রশিদ বলেন, তাদের সঙ্গে সমাজের অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সম্পর্ক থাকতে পারে। তাই আমরা তদন্ত করে দেখছি এর সঙ্গে অন্য দফতরের কোন কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন কি না। এবং তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কি না সেটাও আমরা তদন্ত করে দেখছি।

জেকেজির অপকর্ম যখন প্রকাশ্যে, তখনো তাদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে দায়সারা উত্তর দিলেন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ওরা তো নমুনা সংগ্রহ করার জন্য আমাদের সাথে একটা চুক্তি করেছিল। সেটাতো আমরা সেদিনই বাতিল করে দিয়েছি। সেটা তো ওভাল গ্রুপের ( জেকেজি হেলথ কেয়ার) তাদের সাথে তো আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের তো ছিল, তারা নমুনা সংগ্রহ করতে সাহায্য করবে। আমরা সেদিনই বাতিল করেছি। জ্বী ধন্যবাদ…

আরো পড়তে পারেন:  আগামী ১০ বছরের মধ্যেই মানুষের মাথা প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে

তবে পুলিশ বলছে, জেকেজির প্রতারণার সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কারা জড়িত, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মো.হারুন অর রশিদ বলেন, তারা যে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিয়েছে, সেটা কিন্তু আমরা এখনো দেখিনি। এ ধরনের জালিয়াতির সঙ্গে যারাই জড়িত থাকবে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দ্রুতই জড়িতদের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

সূত্র: যুগান্তর

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

Loading...
আরো পড়তে পারেন:  কাছে এলেই ভাইরাস ধ্বংস করবে জাপানের তৈরি কাপড়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *