জিয়ার সঙ্গে মোরারজি দেশাইয়ের সমঝোতায় বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলন সফলতা পায়নি, বললেন শামসুল হক

 

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর চট্টগ্রামের একদল তরুণ ওই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেন। এদের নেতৃত্বে ছিলেন মৌলভি সৈয়দ। তারা সংগঠিত হয়ে ভারতে যান। কিন্তু বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইয়ের মধ্যে এক সমঝোতায় এ আন্দোলন ভেস্তে যায়। বিবিসি

এ প্রসঙ্গে স্মৃতিচারণ করে ইতিহাসের খসড়া নামের একটি সাময়িকীর সম্পাদক ও লেখক-গবেষক শামসুল হক বিবিসি বাংলাকে বলেন, চট্টগ্রাম ষড়যন্ত্র মামলার আওতায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছিলো তাদের আট থেকে নয়জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। মামলাটির নাম চট্টগ্রাম ষড়যন্ত্র মামলা হলেও তাদের মূলত জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো তারা অস্ত্র কোথায় লুকিয়ে রেখেছিলো এবং মুজিব হত্যার প্রতিবাদে কী কী নাশকতা করার পরিকল্পনা ছিলো তাদের? আরেকটি বিষয় জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্ব পায়, সেটি হলো তারা ভারতের সহায়তায় কী করার পরিকল্পনা করছিলেন।

তিনি বলেন, অগাস্ট মাসেই চট্টগ্রামে সিটি কলেজের কিছু শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করে মিছিল করার চেষ্টা করে। সিটি কলেজ থেকে ছাত্ররা একটি মিছিল বের করে, যা পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে শিল্পী সদরুল পাশার বাড়িতে একটি বৈঠক হয়, যেখানে সে সময়কার আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকজন চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র আক্রমণ করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে ঐ আক্রমণ সফলতা নিয়ে সন্দেহ থাকায় সে সময় তাদের প্রতিহত করেছিলেন বয়োজেষ্ঠ্যরা।

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মৌলভি সৈয়দ, তৎকালীন ছাত্রনেতা মহিউদ্দিন আহমেদ এবং পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা হওয়া এস.এম. ইউসুফ তাদের অনুসারীদের নিয়ে প্রতিরোধ প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। প্রতিরোধ প্রক্রিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের দুই ধরণের চিন্তা ছিলো। সারাদেশের সাংসদদের একটি বড় অংশ সংগঠিত করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরকার বিরোধী কর্মকান্ড পরিচালনা করে সরকারের কার্যক্রমে বড় বাধা তৈরি করার পরিকল্পনা ছিলো তাদের। আর দ্বিতীয়ত, ভারতে গিয়ে সেখানকার সরকারের সহযোগিতায় বাংলাদেশের সাংসদদের নিয়ে বিকল্প সরকার তৈরি করার বিষয়েও চিন্তা করেছিলেন তারা।

সামসুল হক বলেন, মৌলভি সৈয়দ যখন ভারতে ছিলেন তখন তার সঙ্গে কাদের সিদ্দিকী এবং মহিউদ্দিন আহমেদের যোগাযোগ হয়। কিন্তু ইন্দিরা গান্ধী সরকারের যখন পতন হয় তখন ভারতে এক ধরণের থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিলো। এরপর মোরারজি দেসাইয়ের নেতৃত্বে ভারতে সরকার গঠন হওয়ার পর জিয়াউর রহমান সরকারের সঙ্গে তাদের এক ধরণের সমঝোতা হয়। ঐ সমঝোতার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম ষড়যন্ত্র মামলার শীর্ষ আসামীদের আশ্রয় দিতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। তাদের বলা হয়, ১৯৭৫ পূর্ববর্তী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আর ঐ সময়ের আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কে পার্থক্য রয়েছে। ঐ কারণে ভারতে আশ্রয় নেয়া বিদ্রোহকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চায় ভারত।

তিনি জানান, মৌলভি সৈয়দকে তার আরো কয়েকজন সহকারীসহ ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ ব্যাক করানো হয়। পরবর্তীতে মৌলভি সৈয়দকে সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তর করা হয় এবং তাকে সেনাবাহিনীর ইন্টারোগেশন সেল- এ নিয়ে প্রচন্ড নির্যাতন করা হয়। এরপর চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে মৌলভি সৈয়দের বাবাকে নিয়ে এসে তাকে সনাক্ত করে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখেই মৌলভি সৈয়দের মৃত্যু হয়। এসব কারণেই শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সফলতা লাভ করেনি।

সূত্র: বিবিসি

দেশের আরো প্রতি মূর্হর্তের খবর জানুন এখানে

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *