জাপানে কর্মসংস্থান এবং প্রসঙ্গকথা

 

বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি এবং নিরাপদ বর্ণবাদমুক্ত দেশ জাপানে যেতে ইচ্ছুক অনেকেই; আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল সব দেশের অধিবাসীই। কিন্তু সবাই জানে যে জাপানে বৃত্তি নিয়ে পড়তে যাওয়া যায়। কিন্তু সেই সমাজ ও সরকারের রক্ষণশীল নীতির কারণে মেধাবী শিক্ষার্থী ও দক্ষ শ্রমিকেরাও সেই দেশটিতে কাজের সুযোগ পান খুব কম। তবে, ইতিমধ্যে অনেকেই অবগত, সেই নীতি শিথিল করছে জাপান সরকার। সূর্যোদয়ের দেশটিতে জনসংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দক্ষ শ্রমিকের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেওয়ায় নড়ে-চড়ে বসতে হচ্ছে দেশটির কর্তাব্যক্তিদের।

অগত্যা প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সরকার জাপান পার্লামেন্টের ২০১৮ এর অধিবেশনে নতুন বিল পাস করিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে দেশটির বর্তমান অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন আনার পথ পরিষ্কার করলেন এবং “নীল কলার” তথা সাধারণ শ্রমিকদের জন্যে দরজা খুলে দেওয়ার এই নতুন কার্যক্রম এ বছর এপ্রিল থেকেই শুরু হওয়ার ঘোষণা দিলেন (দ্য জাপান টাইমস সূত্র)।

বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণার্থীরা শিক্ষানবিশ কর্মী হিসেবেও জাপানে নির্মাণশিল্প, প্রযুক্তি, নার্সিং, কৃষি, হোটেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম সেক্টরে কাজের সুযোগ পাবেন পাঁচ বছর, এরপর দেশে ফিরলে কর্মসংস্থানের জন্য প্রত্যেককে এককালীন চার লাখ টাকা দেওয়া হবে। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ২০১৮ এর এপ্রিল পর্যন্ত ৩১ জন টেকনিক্যাল ইন্টার্ন জাপানে কাজের সুযোগ পেয়েছেন।

সম্প্রতি দ্য জাপান টাইমস পত্রিকার আরেক খবরে বলা হয়, নতুন পদ্ধতির আওতায় ২০২৫ সালের ভেতর পাঁচ লাখ বিদেশি কর্মী কাজ করার সুযোগ পাবেন।

আলোচনা করবো টেকনিকাল ভিসা আর কর্ম ভিসায় আসা দুই ক্ষেত্র নিয়ে।
১। অদক্ষ শ্রমিক ভিসা , টেকনিকাল ট্রেইনি ভিসাঃ প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেছেন, জাপান শুধু ‘যারা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষ এবং যারা শ্রমঘাটতি মেটাতে এখনই কাজ করতে পারবে, তাদেরই আনবে।’ জাপানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের গত ছয় বছরে জাপানে বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। জাপানে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ পাচ্ছেন, তাদেরকেও এই হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে।

নতুন আইনে নতুন দুই ধরনের ভিসা রাখা হয়েছে। প্রথম ক্যাটাগরিতে শ্রমিকেরা পাঁচ বছরের জন্য কাজ করার সুযোগ পাবেন। তবে এর জন্য তাদের একটি নির্দিষ্ট ধাপ পর্যন্ত কাজের দক্ষতা ও জাপানি ভাষায় কিছুটা দক্ষতা প্রয়োজন হবে।

যারা উচ্চমাত্রায় দক্ষ বা পেশাদার, তারা দ্বিতীয় ক্যাটাগরির ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। শেষে তারা নাগরিকত্ব চেয়ে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়াও, যিনি যে মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করতে চান তাকে সেই মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষায় পাস করতে হবে।

আরো পড়তে পারেন:  ২ ফেব্রুয়ারি : টিভিতে আজকের খেলা সূচি

আগামী পাঁচ বছরে নির্মাণ, কৃষি ও নার্সিং এইডসহ পাঁচটি ক্ষেত্রর জন্য নতুন ধরনের ওয়ার্ক পারমিট তৈরি করার পরিকল্পনা করছে সরকার, যার মাধ্যমে জাপান আকৃষ্ট করতে চায় অদক্ষ শ্রমিকদেরও যারা সাধারণত ওয়ার্ক পারমিট পায় না।

নিম্নে উল্লেখিত ১৪টি শাখায় পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের আওতায় কর্মী নেয়া হবে-
স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়-
১. নার্সিং কেয়ার/ এইড ( কেয়ার গিভার; নার্স নন ), ২. ভবন পরিষ্কার
কৃষি, বন ও মৎস্য মৎস্য সম্পদ মন্ত্রণালয়-
৩. কৃষি, ৪. মাছধরা শিল্প, ৫. খাদ্য ও পানীয় উৎপাদন ( সীফুড প্রক্রিয়াজাতকরণসহ) ৬. রেস্তোরাঁ (খাদ্য ও পানীয় সেবা) অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়-
৭. উপকরণ শিল্প, ৮. শিল্প যন্ত্রপাতি শিল্প, ৯. ইলেকট্রনিক্স এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম

শিল্প, ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-
১০. নির্মাণ, ১১. জাহাজ নির্মাণ / সামুদ্রিক শিল্প, ১২. গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, ১৩. বিমানচালনা (বিমানবন্দর স্থল হ্যান্ডলিং, বিমান রক্ষণাবেক্ষণ), ১৪. লোডিং / আতিথেয়তা
(**উৎস: মাইনিচি শিনবুন, ডিজিটাল সংস্করণ, ২৯ শে অক্টোবর,২০১৮)

ইতিমধ্যে শুশ্রূষাকারী বা নার্স এইড ( নার্স নয়; কেয়ার গিভার) হিসেবে জাপানে কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে এ পেশায় যেতে চান- এমন নারী প্রার্থীদের জন্য কোর্স চালু করেছেন বাংলাদেশ সরকার। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অধীন কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি, keranigonjttc@yahoo.com ) থেকে চার মাস মেয়াদি এই কোর্স পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতি চার মাস পর এটি অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচিত প্রার্থী প্রথমে দুই বছরের জন্য জাপানে যাবেন। এছাড়া, টেকনিক্যাল ইন্টার্নদের (কারিগরি প্রশিক্ষণার্থী) ক্ষেত্রে শুধু জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতি ভালোভাবে আত্মস্থ করতে হবে। জাপানে সে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোই বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। জাপানে তারা কারিগরি ইন্টারন্যাশনাল প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন করতে পারে যা পাঁচ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এরপর অংশগ্রহণকারীদের দেশে ফিরে যেতে হবে।

জাপানে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন পাঠানোর লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ১২ মার্চ ইন্টারন্যাশনাল ম্যানপাওয়ার ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন বা আইএম জাপানের সঙ্গে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় দেশটি বিনা খরচায় তিন বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক হাজার টেকনিক্যাল ইন্টার্ন নিচ্ছে।

আরো পড়তে পারেন:  শ্রীদেবী কন্যার বেলি ডান্সের ভিডিও ভাইরাল

জনশক্তি প্রশিক্ষণ ব্যুরো সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণার্থীরা শিক্ষানবিশ কর্মী হিসেবেও জাপানে নির্মাণশিল্প, প্রযুক্তি, নার্সিং, কৃষি, হোটেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম সেক্টরে কাজের সুযোগ পাবেন পাঁচ বছর, এরপর দেশে ফিরলে কর্মসংস্থানের জন্য প্রত্যেককে এককালীন চার লাখ টাকা দেওয়া হবে। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ২০১৮ এর এপ্রিল পর্যন্ত ৩১ জন টেকনিক্যাল ইন্টার্ন জাপানে কাজের সুযোগ পেয়েছেন।

জনশক্তি রপ্তানি ব্যুরো জাপানে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন পাঠানোর জন্য সে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদার ভিত্তিতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে থাকে। প্রার্থীদের আবেদনপত্র ডাউনলোডের পর পূরণ করে ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ হয়। বাংলাদেশের ছাত্র বা অভিবাসী কর্মীদের জন্য জাপান যে একটা সম্ভাব্য গন্তব্য হতে পারে এ কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই দেশের ২৫টি কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জাপানী ভাষা শেখার কোর্স চালু হয়েছে।

ঢাকায় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছাড়াও দারুস সালামের বাংলাদেশ কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ইস্কাটনের প্রবাসীকল্যাণ ভবনে জাপানি ভাষা শেখার সুযোগ পাচ্ছেন আগ্রহীরা। এর বাইরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, পাবনা, নোয়াখালী ও রাঙামাটির সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জাপানি ভাষা শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। চার মাসের এ ভাষা শিক্ষার কোর্স জনশক্তি,কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো সার্বিক আয়োজনটা করেছে।

বিদেশী অধিবাসীদের জন্য ভাল কাজ, শর্ত নিশ্চিত করা পাশাপাশি একটি চ্যালেঞ্জ রয়ে যায়। অনেকেই অন্যায় আচরণের মুখোমুখি হন, যেমন নিয়োগকর্তারা সামাজিক বীমা সরবরাহ করতে অস্বীকার করে। নতুন ফ্রেমওয়ার্কের জন্য বিদেশী শ্রমিকদের তাদের জাপানী সহকর্মীদের মতোই অর্থ প্রদান করা প্রয়োজন।

সরকার জাপানের “মাই নম্বর” ট্যাক্স এবং সামাজিক নিরাপত্তা আইডি সিস্টেমে চলতি বছরের আইন সংশোধন করার পরিকল্পনা করেছে, তাই এই সংখ্যাগুলি বিদেশে বসবাসকারীদের বিদেশী কর্মীদের অবস্থা নির্ধারণের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

২। কর্মী ভিসাঃ গত ৯ই নভেম্বর প্রকাশিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন পেশার লোকজন নেবে জাপান। এ বিষয়ে জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আগামী বছরের এপ্রিল মাস থেকে জাপান লোক নেওয়া শুরু করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

জাপান সরকারের কারিকুলাম অনুযায়ী নিজেকে যোগ্য হিসেবে তৈরি করে জাপানে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে নানা কৌশলে যাওয়া গেলেও জাপান ও কোরিয়ায় অবৈধভাবে যাওয়া যাবে না ।তাই কোনো দুষ্টচক্র বা দালাল চক্রের ফাঁদে পা না দিয়ে জাপানি ভাষা শিখে জাপান যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি যথার্থ বলেছেন।

আরো পড়তে পারেন:  ইরানের ওপর শত শত ক্ষেপণাস্ত্র মারার হুমকি ইসরায়েলের

জাইকা ( জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি) বাংলাদেশে অন্যান্য ট্রেনিং প্রোগ্রামের পাশাপাশি দুবছর যাবত বিনামূল্যে চার মাস মেয়াদী প্রোগ্রামার ট্রেইনিং চালু করেছে, যারা সরাসরি জাপানী কোম্পানীতে ইন্টারভিউ দিয়ে চাকরি করতে অথবা উচ্চশিক্ষার্থে জাপান যেতে পারবেন। এছাড়াও জাপানের মার্কেট লিডারদের জন্য ইঞ্জিনিয়ার, বিশেষত আইটি দক্ষদের ওপেন ইন্টারভিউ নেয়াও শুরু হয়েছে এ বছর জুলাই মাস হতে।

দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ও পরিসমাপ্তিঃ
অভিবাসনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান আমাদের পাঁচ কোটি বেকারের খুব সামান্য অংশই পুরণ করবে। তাই লক্ষ্যণীয় যে ব্যয়বহুল দেশ জাপানে তথ্য প্রযুক্তি সংক্তান্ত কাজে প্রায়শই খণ্ডকালীন/ প্রকল্পভিত্তিক / দীর্ঘমেয়াদী আউটসোর্সিং কর্মীর প্রয়োজন পড়ে, যা বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকেই করা সম্ভব। এবং এতে শিক্ষাগত যোগ্যতা বা ডিগ্রি নয়- প্রয়োজন সম্যক দক্ষতা ( কাজ এবং কমিউনিকেশন- দুটোরই), পেশাদারিত্ব, দায়িত্বজ্ঞান, নিষ্ঠা। এই চাহিদা মেটাতে পারলে এবং সেই লক্ষ্যে নিজেদের তৈরি করতে পারলে সত্যিকার অর্থে কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক বড় পরিসরে হতে পারতো।
এবং এই লক্ষ্যে গড়ে ওঠা অত্যাবশ্যক কিছু চাহিদা ভিত্তিক আইসিটি বা ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যা অতি জরুরি। এতে করে অগণিত মানহীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পড়ে ৪/ ৫ বছরের স্নাতককালীন শিক্ষার্থীর সময় ও টিউশন অপব্যয় হয় না। দেশীয় ইন্ডাস্ট্রি এবং কর্মী প্রত্যাশী দেশ তাদের মানদণ্ড অনুযায়ী কর্মী প্রশিক্ষণে সরাসরি সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে।

বিদেশগমন একটা ট্রানজিট বা ক্ষণস্থায়ী অপশন, জীবনের লক্ষ্য নয়- এই লক্ষ্যেই কর্তাব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দেশের সর্বোচ্চ আয় –“রেমিটেন্স” এ তৃপ্ত হবার চেয়ে এমন এক দেশ রচনা করুন যে দেশের ১০ শতাংশ মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য হয় না ।
সূত্র- asia.nikkei.com/Economy/Abe-vows-to-bring-in-more-foreign-workers

লেখক : কলামিস্ট; প্রাক্তন রিসার্চ ফেলো, কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়; বিভাগীয় প্রধান, বিজনেস প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্ট, স্মার্ট সার্ভিস টেকনোলজিস কো. লিমিটেড, ফুকুওকা, জাপান।
neeta2806@yahoo.com

সূত্র: জাগোনিউজ২৪

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *