‘ঘরে চাল নেই, সন্তানদের মুখে দু-মুঠো ভাত দিতে পারছি না’

মজুরি কমিশনসহ ১১ দফা দাবি আদায়ে তৃতীয় দিনের মতো চলছে নরসিংদীতে পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন। প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে শ্রমিকরা আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

শ্রমিকরা বলছেন, ঘরে চাল নেই। বাজার নেই। সন্তানদের মুখে দু-মুঠো ভাত ঠিকমতো তুলে দিতে পারছি না। তাই তো আন্দোলনে নেমেছি।

এদিকে ৩৬ ঘণ্টার আন্দোলনে হারুনুর রশিদ ও দুলাল মিয়া নামে দুই শ্রমিক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে শ্রমিক আন্দোলনের ফলে মিলের সব ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম।

মজুরি কমিশনসহ ১১ দফা দাবি আদায়ে রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বাংলাদেশ পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের ডাকে ইউএমসি জুট মিলের শ্রমিকরা মিল গেটের সামনে এ আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন।

অনশনে ইউনাইটেড-মেঘনা-চাঁদপুর (ইউএমসি) জুট মিলের স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক রয়েছে।

শ্রমিক নেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঘরে চাল নেই। বাজার নেই। সন্তানদের মুখে দু-মুঠো ভাত ঠিকমতো তুলে দিতে পারছি না।

তাই বাধ্য হয়ে জীবিকার তাগিদে আন্দোলনে নেমেছি। সরকার সব সরকারি চাকরিজীবীর বেতনভাতা বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু শ্রমিকদের বেতন বাড়ায়নি। আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমাদের প্রতি এমন বৈষম্য কেন?

ইউএমসি জুট মিলের সিবিএর সভাপতি শফিকুল ইসলাম মোল্লা বলেন, তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন চলছে। এখনও পর্যন্ত প্রশাসন বা সরকারের পক্ষ থেকে কেউ কোনো প্রকার খোঁজখবর নেয়নি। এরই মধ্যে আমাদের দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।

এর আগে ১০ ডিসেম্বর থেকে আমরণ আন্দোলন শুরু করেন। টানা পাঁচ দিন আন্দোলনের পর আলোচনার জন্য কর্মসূচি স্থগিত করে কাজে যোগ দেন শ্রমিকরা।

এ সময় ইউএমসি জুট মিলের সিবিএর সভাপতি শফিকুল ইসলাম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক কামাল মিয়া, কাউছার আহাম্মেদ, সুমন খন্দকার, জাকির হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, ননসিবিএ পরিষদের সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান, মোশারফ হোসেন, কাউযুম প্রধান, শামসুল আরেফিন, ইসা হাবিব রিপন সরকারসহ ঐক্য পরিষদের নেতাসহ সাধারণ শ্রমিকরা অনশনে উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়তে পারেন:  ২০ ডিসেম্বর: ইতিহাসে আজকের এই দিনে

 

সূত্র: যুগান্তর

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *