খেলনা পিস্তল দিয়েই দাপট সাইদ মিয়ার

 

ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বের হচ্ছেন। হঠাৎ আপনার সামনে পিস্তল আর হাতকড়া নিয়ে হাজির হতে পারেন কেউ। আপনাকে লক্ষ্য করে বলতে পারে— ‘আমরা ডিবির লোক। আপনার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। এসি স্যার গাড়িতে আপনাকে ডাকছে।’ এমন কথা শোনার পর গাড়ির দিকে গেলেই ঘটতে পারে বিপদ। গাড়িতে তোলার পরপরই এই চক্রের সদস্যরা বলতে থাকে, ‘বড় মামলায় আপনাকে আসামি করা হবে। বাঁচার একমাত্র উপায় সঙ্গে যা আছে সব দিয়ে দিন।’

অনেকে ভয়ে দ্রুত নিজের সঙ্গে থাকা টাকা এই চক্রের হাতে তুলে দেয়। কেউ গড়িমসি করলে পিস্তল দিয়ে গুলি করে হত্যার ভয় দেখানো হয়। পরে ভুক্তভোগী নিশ্চিত হন এই চক্রের সদস্যরা আসল পুলিশ নয়; তারা আসলে একদল প্রতারক।

রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, বেড়িবাঁধ ও ৩০০ ফিট এলাকায় নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে চার সদস্যের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরেই প্রতারণা করে আসছিল। গত মঙ্গলবার শেওড়াপাড়া থেকে এই চক্রের দলনেতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পশ্চিম বিভাগ। হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার তাদের রিমান্ড আবেদন করা হয়।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার চারজন হলো— সাইদ মিয়া, আবুল কালাম, মো. রানা ও মো. ফারুক মিয়া। সাইদ দলনেতা। সে নিজেকে ডিবির এসি (সহকারী কমিশনার) বলে পরিচয় দিত। এই চক্রের কাছে ডিবির ভুয়া জ্যাকেট, ওয়াকিটকি, হাতকড়া ও খেলনা পিস্তল পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার সাইদ জানায়, নোয়া মাইক্রোবাসে করে তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নিজেদের ডিবির সদস্য হিসেবে পরিচয় দিত। তিন কৌশলে কাজ করে এই চক্রের সদস্যরা। একটি কৌশল হলো— ব্যাংক বা কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সামনে ওত পেতে থেকে ডিবি পরিচয়ে গাড়িতে তুলে সবকিছু হাতিয়ে নেওয়া। টার্গেট করা ব্যক্তির কাছে নগদ অর্থ না পেলে ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড পাওয়া গেলে তার পিন নম্বর জেনে টাকা তুলে নেওয়া। দ্বিতীয় কৌশল হলো— যাত্রীবেশে নগরীর কোনো জনাকীর্ণ পয়েন্টে অবস্থান করে গাড়িতে তুলে নিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা। তৃতীয় কৌশল হলো— টার্গেট করে কোনো ব্যক্তিকে গাড়িতে টান মেরে তুলে নেওয়া।

ডিবির পশ্চিম বিভাগের ডিসি গোলাম মোস্তফা রাসেল সমকালকে বলেন, গোপন তথ্য ছিল— একটি সংঘবদ্ধ চক্র মিরপুর ও আশপাশ এলাকায় ডিবির পরিচয়ে প্রতারণার ফাঁদ পাতছিল। শেষ পর্যন্ত চক্রটিকে ধরা গেছে।

ডিবির এডিসি রাহুল পাটোয়ারী বলেন, আরও কেউ এই চক্রে রয়েছে কি-না তা জানার চেষ্টা চলছে। প্রতারক চক্রের সদস্যরা খেলনা পিস্তল ব্যবহার করেই ভয়-ভীতি দেখাত।

সূত্র: সমকাল

দেশের আরো প্রতি মূর্হর্তের খবর জানুন এখানে

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *