খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানী আজ, মুক্তি না পেলে সরকার পতনের একদফা আন্দোলন, হুশিয়ারী বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের

 

খালেদা জিয়ার জামিন ও মুক্তি নিয়ে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা নানা পরিকল্পনা করছেন। বলছেন, আইনী পথে তাকে মুক্ত করা না গেলে শুরু হবে সরকার পতনের আন্দোলন।

খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানিকে সামনে রেখে গতকাল জরুরী বৈঠক করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। মতিঝিলে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ঐক্যফ্রন্ট নেতারা মনে করেন, বেগম খালেদা জিয়া জামিন পাওয়ার অধিকার রাখেন। অন্তত ওনার শারীরিক অসুস্থতা ও বয়স কথা বিবেচনা করে হলেও তাকে মুক্তি দেয়া উচিত।

জানা গেছে, আজ আদালত এলাকায় লোক সমাগমের দলীয় কোনো নিদের্শনা নেই। নেতাকর্মীরা জানায় তারা বিছিন্নভাবে আদালতে এলাকায় যাবেন। ইতিমধ্যে ১০ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে যে শোভাযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে সকল নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
দলের সিনিয়র এক নেতা জানান, প্রথম দিকে হালকা ধরনের কর্মসূচি থাকলে ধাপে ধাপে তা কঠোর থেকে কঠোরতম করা হবে। বিএনপির এই নেতা বলেন, আমাদের ৪৫ লাখ নেতাকর্মীর নামে মামলা রয়েছে। বসে বসে মার খাওয়ার চেয়ে এই কর্মীরা মাঠে নামতে প্রস্তুত।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া জামিন না পেলে বুঝতে হবে শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপে তিনি জামিন পাননি। সেদিন জামিন না পেলে সরকার পতনের একদফার আন্দোলন শুরু হবে।

খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি জনগণ মেনে নেবে না বলে হুশিয়ারী দিয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ, তার সঙ্গে এখন আর দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না।
স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায় বলেন, আদালতের ওপর সরকারি হস্তক্ষেপ স্পষ্ট। এ কারণে চেয়ারপারসন কোনো অপরাধ না করেও মাসের পর মাস কারান্তরীণ। আমরা আদালতের প্রতি সম্মান রেখে চলেছি। তাতে কাজ না হলে ফয়সালা হবে রাজপথে।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি অনিবার্য বলে মনে করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে আদালতের দোহাই দিয়ে খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

আরো পড়তে পারেন:  শেখ মুজিব হত্যার পর জেনারেল জিয়া বলেছিলেন, ‘ সো হোয়াট’

এদিকে, খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা কোন পর্যায়ে আছে এ বিষয়ে গত ২০দিনে কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। প্রতিমাসে দুবার পরিবারের সদস্যরা দেখা করার সুযোগ পান। কিন্তু এবার এখনো কোনো অনুমতি মিলেনি।
সম্পাদনা : মাসুদ কামাল।

 

সূত্র: আমাদের নুতন সময়

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *