খালেদার মুক্তি আন্দোলন মুখে মুখে, মাঠে নেই কেউ

BNP Chairperson Khaleda Zia
                                  বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন কেবল মুখে মুখে। কর্মসূচি নিয়ে কেউ মাঠে নামতে রাজি নন। দলের মহাসচিব থেকে শুরু করে বেশির ভাগ কেন্দ্রীয় নেতা প্রতিদিনই আন্দোলনের কথা বলে যাচ্ছেন। কিন্তু রাজপথের কার্যকর কর্মসূচিতে আগ্রহ নেই কারও। বেশির ভাগ সিনিয়র নেতাই চান গত কয়েক বছর ধরে যেভাবে দল চলছে, সেভাবেই চলুক। পুলিশ ও প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে যেটুকু করা যায়, সেটুকুই থাক। কোনো রকমের ঝামেলায় যেতে চান না তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

আবার মুষ্ঠিমেয় সিনিয়র নেতা বলছেন অন্য কথা। তারা চান দুর্বার আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমে দলীয় চেয়ারপারসনকে কারামুক্ত করতে। খালেদার কারামুক্তি আন্দোলনের ব্যর্থতায় সম্প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ব্যর্থ নেতাদের পদ ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন। বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের কাছে দলের সব আবেগ-অনুভূতি ও জনপ্রিয়তার উৎস হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। তাই নেতা-কর্মীরা মনে করেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া বিএনপির সামনে আরও কঠিন সময় আসবে। দল মুখ থুবড়ে পড়বে। যদিও নেতারা আন্দোলনের কথা মুখে বললেও সরকারের সঙ্গেও এ নিয়ে আলোচনা করছেন বলে খবর চাউর হচ্ছে। কিন্তু আন্দোলনের যেমন আলামত দেখা যাচ্ছে না তেমনি সমঝোতায় মুক্তির আশাও কেউ করছেন না। এমনকি কূটনীতিকদের কাছে গেলে তারাও সংসদে যেতে বলছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তিতে কোনো ভূমিকা রাখছেন না।  

এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে শিগগিরই মুক্ত করে আনার আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, আন্দোলন ছাড়া শুধু আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তাকে কারামুক্ত করা সম্ভব নয়। একই কথা বলেছেন, দলের স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যা মামলা। সরকারের ইচ্ছায় কারাগারে বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। কাজেই শুধু আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করা যাবে না। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করে আনতে হবে। এ জন্য দরকার দুর্বার আন্দোলন। কিন্তু দলের এই শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আহ্বানে বেশির ভাগ কেন্দ্রীয় নেতার কাছ থেকেই ইতিবাচক কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আশ্বস্ত হতে পারছেন না আন্দোলনমুখী নেতারা। ক্ষুব্ধ হচ্ছে তৃণমূল। 

দলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নেতৃত্ব ছেড়ে দলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তরুণ নেতাদের দায়িত্ব প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন। বড় পদে আসীন নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভালো ভালো বক্তব্য দিয়ে লাভ হবে না। আন্দোলন না করতে পারলে সরে দাঁড়ান। দেশের তরুণ সমাজের হাতে নেতৃত্ব ছেড়ে দেন। যারা রাজপথ উত্তপ্ত করতে পারবে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারবে। একই কথা বলেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনিও দলের ব্যর্থ নেতাদের সরাসরি দায়িত্ব ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন। যারা রাজপথে আন্দোলনে নামতে ভয় পান, তাদের আর বিএনপির নেতৃত্বে থাকার প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করেন দলের এই নীতিনির্ধারক। দলের হাইকমান্ড মিথ্যা মামলায় বছর ধরে কারাগারের অন্ধকারে বিনা চিকিৎসায়। আর আমরা মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে সময় কাটাচ্ছি। এটা হতে পারে না।

তৃণমূল নেতারা চান কেন্দ্রীয় কমিটিতে শুদ্ধি অভিযান। ব্যর্থ এবং বিতর্কিত নেতাদের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তাদের। এরই পরিপ্রেক্ষিতে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর ১৭ জানুয়ারি স্কাইপের মাধ্যমে দলের তরুণ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। টানা পাঁচ ঘণ্টার ওই বৈঠকে গত জাতীয় নির্বাচনে দলের কোন কোন নেতার কী ভূমিকা ছিল, কারা কীভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, কারা সরকারের পক্ষাবলম্বন করেছেন তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহপ্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম থেকে শুরু করে এ পর্যায়ের প্রায় ২০ জন নেতা স্কাইপিতে বৈঠকে অংশ নেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত দুই মাসে তাদেরসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে কয়েকবার কথা বলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এসব বৈঠকে ঘুরেফিরে বার বার চট্টগ্রাম বিভাগের দুজন নেতার নাম চলে আসে। এদের একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য, অন্যজন দলের ভাইস চেয়ারম্যান। এদের বিরুদ্ধে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য থেকে শুরু করে দলীয় ফান্ডের অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলেন তারা। এসব অভিযোগ তারেক রহমান শোনেন এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন বলেও বৈঠক সূত্রে জানা যায়।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

দেশের আরো প্রতি মূর্হর্তের খবর জানুন এখানে

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *