কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিল ভারত

 

নতুন করে কাশ্মীরের ইতিহাস রচনার পথে ভারতের মোদি সরকার। ভারতের একটি প্রদেশ হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ এখন থেকে সরাসরি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে চলে আসলো। সেই সঙ্গে রাজ্যের মর্যাদাও হারাল কাশ্মীর।

সোমবার রাজ্যসভায় এই সংক্রান্ত নতুন বিলের প্রস্তাব করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিল অনুযায়ী, কাশ্মীরে আর লাগু হবে না সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫-এ ধারা। কেন্দ্রের এই প্রস্তাবে উত্তাল ভারতের সংসদ।

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সহ রাজ্যের একাধিক শীর্ষনেতা গৃহবন্দি। গ্রেপ্তারও হয়েছেন কেউ কেউ। উপত্যকার বেশ কিছু এলাকায় ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। এর জেরে, উপত্যকায় কী হতে চলেছে তা নিয়ে কয়েকদিন ধরেই গুঞ্জন চলছিল। সেই জল্পনার অবসান ঘটল আজ।

সোমবার সংসদে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধীদের তুমুল বাধা ও বাগ-বিতণ্ডার মধ্যে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। সোমবার, সংসদ শুরু হতেই রাজ্যসভায় সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন অমিত। সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধীরা তুমুল হই হট্টগোল জুড়ে দেন। কয়েক মিনিটের জন্য মুলতুবি হয়ে যায় অধিবেশন। পরে ফের অধিবেশন শুরু হলে, বিরোধীদের হই হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির নির্দেশনামা পড়ে শোনান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এই মর্মে সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে, যাতে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ স্বাক্ষরও করেছেন।

এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার এক বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মন্ত্রীসভার ঐ বৈঠক শুরু হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে একান্ত বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

এই ৩৭০ ধারার সুবাদে কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দারাই শুধুমাত্র সেখানে বৈধভাবে জমি কিনতে পারতেন, সরকারি চাকরি করার সুযোগ পেতেন এবং সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।

ঐ ধারা বিলোপ করার বিষয়টি বিজেপি’র পুরনো রাজনৈতিক এজেন্ডাগুলোর একটি।

জম্মু ও কাশ্মীরে চালু সংবিধানের ৩৫-এ ধারা কী?
১) ১৯৫৪ সালে রাষ্ট্রপতির নির্দেশে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এই ধারাটি। 

আরো পড়তে পারেন:  রংপুরের পল্লী নিবাসেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এরশাদের দাফন সম্পন্ন (ভিডিও)

২) এই ধারায় জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দারা বিশেষ অধিকার দেওয়া হয়েছে। 

৩) এই ধারা অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভা স্থির করতে পারে রাজ্যের ‘স্থায়ী বাসিন্দা’ কারা এবং তাঁদের বিশেষ অধিকার কী হবে? 

৪) কেবল স্থায়ী বাসিন্দারাই ওই রাজ্যে সম্পত্তির মালিকানা, সরকারি চাকরি বা স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার পান। 

৫) রাজ্যের বাসিন্দা কোনও মহিলা রাজ্যের বাইরের কাউকে বিয়ে করলে সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। তাঁর উত্তরাধিকারীদেরও সম্পত্তির উপরে অধিকার থাকে না। 

জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৫-এ ধারার গুরুত্ব কোথায়? 
১৯২৭ ও ১৯৩২-এ করদ রাজ্য (প্রিন্সলি স্টেট) জম্মু ও কাশ্মীরে স্থায়ী বাসিন্দা আইন চালু হয়েছিল। চালু করেছিলেন তৎকালীন শাসক মহারাজা হরি সিং। ১৯৪৭-এর অক্টোবরে জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অংশ হিসেবে মেনে নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন হরি সিং। 

ডোগরার রাজাদের শাসনকালের মেয়াদ শেষে কাশ্মীরের আধিপত্য দখল করেন শেখ আবদুল্লা। ১৯৪৯-এ নয়াদিল্লির সঙ্গে আবদুল্লার আলোচনার মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা (সংবিধানের ৩৭০) দেওয়া হয়। 

বিশেষ মর্যাদার জেরে প্রতিরক্ষা, বিদেশ এবং যোগাযোগ – এই তিন ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় আইন প্রযোজ্য ছিল না উপত্যকায়। 

তবে ১৯৫২-তে প্রধানমন্ত্রী নেহরু ও আবদুল্লার মধ্যে চুক্তির ভিত্তিতে ভারতীয় সংবিধানের বহু আইনই সেখানে প্রযোজ্য হয়। এবং ৩৫-এ ধারাও সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়। 

২০০২ সালে জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে বাতিল হয় ৩৫-এ ধারায় মহিলাদের সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করার আইন। ওই ধারা অনুযায়ী, রাজ্যের বাসিন্দা কোনও মহিলা রাজ্যের বাইরের কাউকে বিয়ে করলে সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। তাঁর উত্তরাধিকারীদেরও সম্পত্তির উপরে অধিকার থাকে না। তবে হাইকোর্টের নির্দেশে বিয়ের পরও অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না মহিলারা। তবে তাঁদের উত্তরাধিকারীদের সম্পত্তির উপর অধিকার থাকবে না। 

৩৫-এ ধারার বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন-সহ বেশ কয়েক জন আবেদনকারী।

সূত্র: এই সময়, আনন্দ বাজার, বিবিসি, এনডিটিভি

আন্তর্জাতিক আরো প্রতি মূর্হর্তের খবর জানুন এখানে

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

আরো পড়তে পারেন:  শেষবারের মতো হাত-পা নাড়াচ্ছে ইসরাইল: জেনারেল সোলায়মানি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *