একজন মানুষকে অসুস্থ করতে প্রয়োজন সাত হাজার কোটি ভাইরাস!

করোনাভাইরাস অন্যান্য ভাইরাসজাতীয় জীবাণুর মতো একটি জীবাণু। যুগ যুগ ধরে এ ভাইরাস পৃথিবীতে বিদ্যমান। এর অনেক প্রজাতি আছে, যা প্রাণীদেহে অবস্থান করে। এখন পর্যন্ত এদের মধ্যে মাত্র সাতটি প্রজাতি প্রাণী থেকে মানুষে এবং মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। আমরা যুগ যুগ ধরেই করোনাভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে আসছি।

আমাদের প্রতি বছর যে সাধারণ জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা হয়, সেটির জন্য দায়ী কিছু ভাইরাসের মধ্যে করোনাভাইরাস একটি। করোনাভাইরাসের সাতটি প্রজাতির মধ্যে চারটি প্রজাতি এসবের জন্য দায়ী। করোনাভাইরাসের ওজন ০.৮৫ এট্টোগ্রাম। ১ এট্টোগ্রাম = ০.৮৫ x ১০ টু দ্য পাওয়ার ১৮ গ্রাম (মাইনাস ১৮)।

সহজ করে বললে, একটি ভাইরাসের ওজন হল ১ গ্রামের এক ট্রিলিয়ন ভাগের এক ভাগের দশ লাখ ভাগের এক ভাগ। একজন মানুষকে অসুস্থ করতে ৭০ বিলিয়ন বা ৭ হাজার কোটি ভাইরাসের প্রয়োজন। ৭০ বিলিয়ন ভাইরাসের ওজন ০.০০০০০০৫ গ্রাম।

অনেক ভাইরাস তার বংশগতির উপাদানে পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন এক ভাইরাসে পরিবর্তিত হতে পারে। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সে ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি হলেও করোনাভাইরাসেরও খানিকটা সেই ক্ষমতা আছে। ভাইরাস প্রাণীদেহের বাইরে জড় হলেও প্রাণীদেহের ভেতরে সে জীবের মতো আচরণ করে।

সেখানে সে তার বংশগতির উপাদান পরিবর্তন করে নতুন ভাইরাস সৃষ্টি করে, যা মানবদেহে বিভিন্ন অঙ্গে শক্তিশালী প্রদাহ দ্বারা গুরুতর রোগ তৈরি করে। এখন পর্যন্ত মানবদেহে সংক্রমণ করা করোনাভাইরাসের সাতটি প্রজাতির চারটি প্রতি বছর সাধারণ জ্বর, সর্দি, কাশি সৃষ্টি করে।

পঞ্চম প্রজাতির করোনাভাইরাসটি ২০০৪ সালে চীনে মহামারী ঘটায়, যার নাম ছিল সার্স করোনাভাইরাস। সেটির সম্ভাব্য বাহক ছিল বাদুড়। করোনাভাইরাসের ষষ্ঠ প্রজাতির দ্বারা মহামারী হয়েছিল ২০১২ সালে সৌদি আরবে, যার নাম ছিল মার্স (MERS) করোনাভাইরাস। সেটির সম্ভাব্য বাহক ছিল উট।

আর এবারের করোনাভাইরাসটির নাম সার্স করোনাভাইরাস-২, যেটি দ্বারা সৃষ্ট রোগের নাম কোভিড-১৯। এটির সম্ভাব্য বাহক সামুদ্রিক কোনো প্রাণী। এ ভাইরাসটি অন্যান্য করোনাভাইরাস থেকে আলাদা। এটি এর বংশগত উপাদানকে পরিবর্তিত করে যথেষ্ট শক্তিশালী ভাইরাসে পরিণত হয়েছে। এটি তাদেরকে খুব বাজেভাবে আক্রান্ত করে, যারা বয়স্ক, যাদের আগে থেকে ফুসফুস, বৃক্ক, যকৃত ইত্যাদি অঙ্গের রোগ আছে, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম।

বর্তমান করোনাভাইরাস যাদেরকে বাজেভাবে আক্রান্ত করেছে, তাদের প্রায় ৮০ শতাংশের বয়স ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে এবং আজ পর্যন্ত সারা বিশ্বে যে ৪ লাখ ৪৬ হাজারের ওপর মানুষ মারা গেছে, তাদের প্রায় ৮০ শতাংশের বয়স ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে।

আর ৫০ বছর বয়সের নিচে যেসব মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, তাদের প্রায় শতভাগ সুস্থ হয়ে উঠেছে। আর গড়ে ৫০-৭০ বছর বয়স্ক রোগীদেরও প্রায় ৯৫ শতাংশ সুস্থ হয়ে উঠেছে। মোটের ওপর সব বয়সী রোগীদের গড় করলে ৩ শতাংশ রোগী করোনাভাইরাস দ্বারা মৃত্যুবরণ করেছে।

এজন্যই এবারের করোনাভাইরাস এতটা ভয়ংকর। কারণ ৩ শতাংশও কম নয়। করোনাভাইরাস হাঁচি-কাশি দ্বারা বায়ুবাহিত হয়ে ও ত্বকের সংস্পর্শ দ্বারা শ্বাসনালিতে প্রবেশ করে। জ্বর (প্রায় ৬৬ শতাংশ রোগীর থাকে), সর্দি-কাশি, গলাব্যথা (প্রায় ৮০ শতাংশ রোগীর থাকে, শ্বাসকষ্ট (প্রায় ৫০ শতাংশ রোগীর মৃদু শ্বাসকষ্ট, ৮০ শতাংশ গুরুতর রোগীর তীব্র শ্বাসকষ্ট), অস্বাভাবিক নিউমোনিয়ার লক্ষণ থাকে। এছাড়াও অল্পসংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা, প্রচণ্ড মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথা, জন্ডিস ইত্যাদি উপসর্গ থাকতে পারে।

আরো পড়তে পারেন:  ২৬ ফেব্রুয়ারি: টিভিতে আজকের খেলা সূচি

করোনাভাইরাসে সম্ভাব্য আক্রান্ত রোগীকে সুস্থ মানুষের সংস্পর্শে যেতে দেয়া উচিত নয়; যাকে বলে হোম আইসোলেশন বা হোম কোয়ারেন্টিন (রোগের লক্ষণ প্রকাশ হওয়া থেকে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত), রোগীকে মাস্ক ব্যবহারসহ বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ও হাত দিয়ে মুখমণ্ডল স্পর্শ করা এড়িয়ে চলতে বলা হয়।

যেহেতু বর্তমানে সারা বিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারী ঘটাচ্ছে, সেহেতু স্বাভাবিকভাবেই এ ভাইরাসকেই প্রথমে বিবেচনা করতে হবে। তাছাড়া আক্রান্ত দেশ থেকে অনেক প্রবাসী আমাদের দেশে ফিরেছেন। ইনফ্লুয়েঞ্জা হলে তো দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

কিন্তু যদি ইনফ্লুয়েঞ্জা না হয়ে করোনাভাইরাস হয় তাহলে সর্বনাশ। সেজন্যই এখন যত জ্বরের রোগী সর্দি-কাশি, গলাব্যথা ইত্যাদি নিয়ে আসবে, তাদেরকে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। ইনফ্লুয়েঞ্জা বা একই উপসর্গ সৃষ্টিকারী অন্যান্য ভাইরাস যেমন রাইনো ভাইরাস, প্যারামিক্সো ভাইরাস ইত্যাদি বিবেচনা করা যাবে না। এক্ষেত্রে আশঙ্কাকে অযথা বলা যাবে না। এই আশঙ্কা সচেতনতারই পরিচায়ক। প্রথমেই অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হয়ে আতঙ্কে হতবুদ্ধি হওয়া যাবে না; কিন্তু অবশ্যই সতর্ক হতে হবে।

কোনো ধরনের জ্বর, সর্দি-কাশি, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি উপসর্গযুক্ত রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ না হলে চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ অধিকাংশ করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর জন্য প্যারাসিটামল সেবন, বিশ্রাম গ্রহণ, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, প্রচুর তরল পান করাই যথেষ্ট। আসলে এ ধরনের রোগীদের ঘরের বাইরে বের হওয়ার দরকার নেই।

ঘরে থেকেই হোম আইসোলেশন বা কোয়ারেন্টিনে থাকা উচিত। কারণ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর ঘরের বাইরে বের হওয়ার অর্থই হচ্ছে, তার সংস্পর্শে আসা আশপাশের সুস্থ মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দেয়ার সম্ভাবনা বহুগুণে বৃদ্ধি করা।

যারা সুস্থ, তাদের কিছু করণীয় আছে; সংক্ষেপে সেগুলো হল, জনসমাগম এড়িয়ে চলা; যেমন- গণপরিবহন, বক্তৃতাস্থান, সভা, সেমিনার, স্টেডিয়াম ইত্যাদি। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়ে যেতে না দেয়া; বিবাহ, বৌভাত ইত্যাদি অনুষ্ঠান যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা ইত্যাদি।

যার-তার কাছ থেকে নয়; করোনাভাইরাস মহামারী থেকে সুরক্ষা পেতে করণীয় সম্পর্কে জানুন এ বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে। আইনবিদের কাছ থেকে যেমন আইনের ধারা সবচেয়ে সঠিক ও সুন্দরভাবে জানা যায়, প্রকৌশলীর কাছ থেকে যেমন ইমারত নির্মাণের সঠিক নিয়ম জানা যায়, তেমনি চিকিৎসকের কাছ থেকেই রোগ এবং রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধ সম্পর্কে জেনে নিতে হয়; অন্য কারও কাছ থেকে নয়। নইলে তাতে বিভ্রান্তিই শুধু বাড়ে, লাভের পরিবর্তে ক্ষতিই হয়। সেজন্য করোনাভাইরাসের চিকিৎসাবিষয়ক সম্পর্কিত যে কোনো তথ্য চিকিৎসকের কাছ থেকেই জানুন, অন্য কারও কাছ থেকে নয়।

আরো পড়তে পারেন:  ড্রোন-খেলনা বিমান-ঘুড়ি ওড়াতেও লাগবে অনুমোদন

গ্রীষ্মকালে আমাদের দেশের তাপমাত্রা কত হয় ৩৫, ৩৬, ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস করোনাভাইরাসকে যখন পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে বংশবৃদ্ধি করানো হয়, তখন তাকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা হয়। অর্থাৎ গ্রীষ্মকালের তাপমাত্রা বরং করোনাভাইরাসের বংশবৃদ্ধির জন্য সহায়ক।

আর এটি তো সাধারণ বুদ্ধির কথা, যে ভাইরাস আমাদের দেহের ভেতরে বংশবিস্তার করে রোগ সৃষ্টি করতে পারে, সে অবশ্যই ৩৮-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে বাঁচতে পারে। কারণ, আমাদের দেহের ভেতরের তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি; জ্বর হলে সেটি ৩৯, ৪০, ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তো হয়ই। আর জ্বরের সময় দেহের ভেতরে করোনাভাইরাস নিশ্চয়ই মরে যায় না।

প্রথমে জানতে হবে, হার্ড ইমিউনিটি কী কোনো জীবাণু সুস্থ-সবল মানুষের দেহে প্রবেশ করলে তার রক্তে রোগ প্রতিরক্ষা বাহিনী সে জীবাণুকে ধ্বংস করে কিছু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (অ্যান্টিবডি প্রোটিন ও মেমোরি সেল) তৈরি করে রাখে। ভবিষ্যতে সেই একই জীবাণু দেহে আবার প্রবেশ করা মাত্র মেমোরি সেল দ্রুতগতিতে অ্যান্টিবডি তৈরি করে সে জীবাণুর বিরুদ্ধে এবং অ্যান্টিবডি তাকে ধ্বংস করে ফেলে। তখন আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে সেই জীবাণুর একটা সদস্যও বেঁচে থাকতে পারে না।

ফলে তার কাছ থেকে সেই জীবাণু অপরের দেহেও ছড়াতে পারে না। এভাবে কোনো নির্দিষ্ট জীবাণু যদি কোনো দেশের জনগণের কমপক্ষে ৭০ শতাংশ সুস্থ-সবল মানুষের দেহে প্রবেশ করে তাহলে তাদের দেহে সেই জীবাণুর বিরুদ্ধে যে ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরক্ষা শক্তি সৃষ্টি হয়, তাতে করে বাকি ৩০ শতাংশ মানুষের দেহে সে জীবাণু সংক্রমণ করার মতো জীবাণুই থাকে না। এটিকেই হার্ড ইমিউনিটি বলে।

সারা বিশ্বে শিশুদের যে কতগুলো নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে টিকা দেয়া হয়, সেটির উদ্দেশ্যও হার্ড ইমিউনিটি সৃষ্টি করা। আমাদের দেশে এখন প্রায় প্রত্যেক মানুষের শরীরে পোলিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি, মেমোরি সেল তৈরি হয়ে আছে। কারণ, আমাদের প্রায় সবাইকেই ছোটবেলায় পোলিওর টিকা খাওয়ানো হয়েছে।

এখন কেউ চাইলেও পোলিও ভাইরাসকে জীবাণু অস্ত্র হিসেবে ছেড়ে দিয়ে আমাদেরকে পোলিও আক্রান্ত করতে পারবে না আমাদের মধ্যে সৃষ্ট হার্ড ইমিউনিটির কারণে, যদি না পোলিও ভাইরাসটিকে জেনেটিক মিউটেশনের দ্বারা নতুন পোলিও ভাইরাস হিসেবে তৈরি করা হয়। কারণ, সে ক্ষেত্রে এই পোলিও ভাইরাসটি হবে নতুন পোলিও ভাইরাস, যার বিরুদ্ধে আমাদের অতীতের পুরনো পোলিও টিকার দ্বারা সৃষ্ট হার্ড ইমিউনিটি কোনো কাজে আসবে না।

এবারের করোনা সম্পর্কে পুরোপুরি গবেষণা এখনও শেষ হয়নি। এটা কতটুকু হার্ড ইমিউনিটি দেবে, সেটিও অনিশ্চিত। আর শিশু, তরুণরা এ থেকে প্রায় শতভাগ সুরক্ষিত হলেও তারা রোগাক্রান্ত সময়ে যে হাঁচি-কাশি, সংস্পর্শ দ্বারা বয়স্কদের মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়াবে না, এরই বা নিশ্চয়তা কী তখন নিঃসন্দেহে বয়স্করা বিপদে পড়বেন।

রোগীর যেমন চিকিৎসা গ্রহণের অধিকার আছে, তেমনি অপরেরও অধিকার আছে রোগীর কাছ থেকে সংক্রমিত না হওয়ার। বর্তমানে করোনার চিকিৎসায় নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই, তবে কিছু ওষুধে কিছুটা উপকার পাওয়া গেছে।

আরো পড়তে পারেন:  করোনায় প্রাণ হারালেন স্পেনের রাজকুমারী

ওষুধগুলো হল- অ্যাজিথ্রোমাইসিন, ক্লোরোকুইন, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন, রেমডেসিভির, ফ্যাভিপিরাভির, লোপিনাভির, রিটোনাভির, খগড হেপারিন, ডক্সিসাইক্লিন, নিটাজক্সনাইড, ইভারমেকটিন, মিথাইলপ্রেডনিসোলন, ফেমোটিডিন ইত্যাদি, যা প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীকে প্রয়োগ করতে হবে। অধিকাংশ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর জন্য প্যারাসিটামল, অ্যান্টিহিস্টামিন, ভিটামিন সি, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার, হালকা গরম চা অথবা পানি পান, গরম পানির ভাপ নেয়া, প্রচুর তরল পান করাই যথেষ্ট।

প্রতিরোধেই মুক্তি, ঘরে থাকুন, মাস্ক ব্যবহার করুন, ঘন ঘন হাত ধৌত করুন। সবাই সুস্থ থাকুন, নীরোগ থাকুন; পরম করুণাময় আল্লাহ সবার মঙ্গল করুন।

অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আহাদ : অধ্যক্ষ, খুলনা মেডিকেল কলেজ

সূত্র: যুগান্তর

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *