ইসলামী শরিয়তে কাঁকড়া খাওয়া কী জায়েজ?

 

এই মাসয়ালা নিয়ে আলেমদের মধ্যে দ্বিমত আছে।

প্রথম মত: 

হানাফী মাযহাব মতে নদীনালার শুধু মাছই খাওয়া জায়েজ। অন্য কোন প্রাণী খাওয়া জায়েজ নয়। সেই হিসেবে কাঁকড়া যেহেতু মাছের মাঝে গণ্য নয়, তাই হানাফী মাযহাব অনুসারে তা খাওয়া বৈধ নয়। [ফাতওয়া কাসিমীয়া-২৪/১২২]

দ্বিতীয় মত:

কাকড়া খাওয়া যাবে। সামুদ্রিক প্রাণী যা পানিতে থাকে, তা কাঁকড়া হোক বা অন্য প্রাণী হোক তা হালাল (আল-মুকনে‘ ২৭/২৮২
মাসআলা নং ৪৬২৬) । আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং তার মৃত প্রাণী
হালাল’ (আবুদাঊদ, বুলূগুল মারাম, ‘পবিত্রতা’ অধ্যায়, হা/১) ।

তৃতীয় মত:

কাঁকড়া খাওয়া জায়েজ। যদি কারো খেতে রুচি হয়, তিনি খেতে পারবেন। যেহেতু নবী (সা.) হাদিসের মধ্যে বলেছেন, ‘সমুদ্রের অথবা নদীর যেই মৃত প্রাণী আছে, সেগুলো সবটাই হালাল।’ এর মধ্যে কাঁকড়াও অন্তর্ভুক্ত হবে এবং কাঁকড়া খাওয়াও হালাল হবে।

নবীর (সা.) হাদিস দ্বারা এটি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। তবে আলেমদের মধ্যে এই মাসয়ালা নিয়ে একটু বিতর্ক আছে।

এটি মূলত রুচির বিষয়। যদি কেউ খেতে চান, খেতে পারেন। আপনি যদি কাউকে জোর করে খাওয়াতে চান, তাহলে তার হয়তো সমস্যা তৈরি হতে পারে।

সর্বশেষ মত: :

অবশেষে আমরা বুজতে পারলাম হানাফী মাজহাব মতে কাঁকড়া খাওয়া মাকরূহ আর অন্যান্য মতে ইহা খাওয়া জায়েজ আছে। তবে আমার মতে যে বিষয় নিয়ে মত পার্থক্য আছে সে বিষয় এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। কি হবে যদি আমরা কাঁকড়া না খাই, এতে তো অন্ততঃ আমাদের মুসলিম ভাইদের মধ্যে বিভাজন এড়িয়ে চলা যাবে । আল্লাহপাক আমাদের কে সব ব্যাপারে দৈর্য্য ধারণ করার শক্তি দান করুন, আমিন।

বিস্তারিত জানতে ভিডিও দেখতে পারেন:

 

 

ইসলাম সম্পর্কিত প্রতি মূর্হর্তের খবর জানুন এখানে

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

আরো পড়তে পারেন:  এবার রুমিন ফারহানাকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য জয়ের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *