ইলিশের নামে চন্দনা বিক্রির ধুম, ঠকছেন ক্রেতারা

 

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের বাজারে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ইলিশের নামে চন্দনা। পদ্মার ইলিশ নাম দিয়ে প্রতি জোড়া বিক্রি হচ্ছে আট’শ টাকা দামে।

অভিযোগ উঠেছে, মাছ ব্যবসায়ীরা পহেলা বৈশাখকে পুঁজি গত তিন/চার দিন ধরে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইলিশের নামে বিক্রি করছে চন্দনা। কেবল বাজারে নয়। কিছু কিছু মাছ ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার আশায় বাসায় বাসায় নিয়ে বিক্রি করছেন একই কায়দায়।

বাজারের একটি সূত্র জানায়, বৈশাখের সুযোগ নিয়ে কিশোরগঞ্জের বাজারগুলোতে শতকরা ৯০ ভাগ বিক্রি হচ্ছে চন্দনা। আসল বা পদ্মা-মেঘনার ও চাঁদপুরের ইলিশ রাখা হয় বড় জোর ১০ ভাগ। প্রতি নববর্ষে এসব বাজারগুলোতে চন্দনা বিক্রির একটি সিন্ডিকেটও গড়ে উঠে। এই সিন্ডিকেট আশেপাশের জেলা শহর এবং রাজধানীতেও সক্রিয় বলে জানা গেছে।

শহরের বত্রিশ এলাকার গৃহবধূ চায়না আক্তার জানান, বাসার সামনে দিয়ে মাথাভর্তি মাছ সাজিয়ে এক মাছ ব্যবসায়ী হাঁক দিয়ে পদ্মার ইলিশ বলে ডাকছে। তাকে বিশ্বাস করে আমি চারটা ইলিশ কিনলাম দুই হাজার টাকা দিয়ে। কিন্তু একটি পাক করে দেখলাম ইলিশের কোন স্বাদ বা গন্ধই নেই।

শহরের বড় বাজারে ইলিশ কিনতে আসা মোনায়েম খান বলেন, অনেক দোকানে ইলিশ দেখলাম কিন্তু কোনটিই বিশ্বাস হচ্ছে না এইগুলো ইলিশ না চন্দনা। তারপরও বৈশাখের তাড়াতে একহালি মাছ কিনলাম বাড়িতে গিয়ে রান্না করে খেয়ে বোঝা যাবে তা ইলিশ না চন্দনা।

বড় বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আক্কাস মিয়া বলেন, আমরা পদ্মার ইলিশই বিক্রি করছি। তবে সবগুলো চেক করে আনা সম্ভব হয়ে উঠেনা। কারণ অনেকগুলো কেনার সময় চন্দনা তারা মিশিয়ে দেয়। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে তা বিক্রি হয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি আড়তের ব্যবস্থাপক বলেন, তিনি শুনেছেন মিয়ানমার থেকে চট্টগ্রাম হয়ে এসব চন্দনা বাংলাদেশে ঢুকছে। যার ফলে ইলিশ আর চন্দনা চেনা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।

বড় বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ওসমান গণি বলেন, বর্তমানে ইলিশের মৌসুম। স্বাভাবিক ইলিশই বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু অন্য মাছ কেন আসে ও বিক্রি হয়, সেটা প্রশাসনকে খতিয়ে দেখা দরকার। কারণ এতে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন ঠকছেন।

সূত্র: দেশ রূপান্তর

দেশের আরো প্রতি মূর্হর্তের খবর জানুন এখানে

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *